থর্প-ফেলপসের অলিম্পিক আজ শুরু

২০০৪ অলিম্পিক

উৎপল শুভ্র

২১ জুলাই ২০২১

থর্প-ফেলপসের অলিম্পিক আজ শুরু

ছবি: এপি

৪০টা ডিসিপ্লিনে ৩০১টা ইভেন্ট, অলিম্পিক তো সব খেলার মিলনমেলাই। কিন্তু অলিম্পিকের মূল আকর্ষণ তো দুটি খেলাই, সাঁতার আর অ্যাথলেটিকস। তিন দিন আগে এথেন্স অলিম্পিক শুরু হয়ে গেলেও \`আসল অলিম্পিক\`-এর শুরু হচ্ছিল সাঁতার দিয়েই।

প্রথম প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০০৪। প্রথম আলো

আর্চারি শুরু হয়ে গেছে তিন দিন আগেই, দু'দিন আগে শুরু হয়েছে ফুটবল। ফুটবলে পর্তুগালকে হারিয়ে দিয়ে এথেন্স অলিম্পিকের প্রথম আপসেটটিও ঘটিয়ে ফেলেছে ইরাক। তবে এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা আছে বলে মনে হচ্ছেনা। অলিম্পিকে আর্চারি আর ফুটবল নিয়ে কোনোকালেই খুব মাতামাতি ছিল না, এবারও নেই। আজ থেকে শুরু হচ্ছে আসল অলিম্পিক এবং সেই ‘আসল অলিম্পিক’-এর প্রথম দিনে এথেন্সের সুইমিংপুলের দিকেই তাকিয়ে থাকবে সবাই।

যে অ্যাথলেটিকস ঐতিহ্যগতভাবেই অলিম্পিকের প্রাণভোমরা, সেটিকেও এবার ম্লান করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে সাঁতার। যে দুজনের কল্যাণে এই ‘বিপ্লব’, সেই দুজনই পুলে নামছেন আজ। শুরু হচ্ছে ইয়ান থর্প আর মাইকেল ফেলপসের অলিম্পিক।

সিডনি অলিম্পিকে ৩টি সোনা জিতেছেন থর্প। গত পাঁচ বছরে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ২২টি। তারপরও সাঁতারের প্রিভিউ লিখতে গিয়ে অনেকেই থর্পের আগে লিখে ফেলছেন মাইকেল ফেলপসের নাম। অলিম্পিকে সোনা জয়ের অনুভূতিই এখনো তাঁর কাছে অজানা, মার্ক স্পিৎজের রেকর্ড নিয়ে কথা বলার সময় ফেলপস নিজেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন তা, ‘আগে তো প্রথম সোনাটা জিতি। তারপর ৭-৮টির কথা ভাবা যাবে।’ শুধু মার্ক স্পিৎজের রেকর্ড ছোঁয়াই নয়, তাঁকে টপকে যাওয়ার যে চ্যালেঞ্জ নিয়ে অলিম্পিক শুরু করছেন ফেলপস, সেটিই থর্পের আগে বসিয়ে দিচ্ছে তাঁর নাম। টপকে যাওয়ার দরকার নেই, স্পিৎজকে ছুঁতে পারলেই ফেলপসকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তাঁর এক মার্কিন স্পনসর। 

অলিম্পিকে সোনা জয়ের অনুভূতিটা কেমন, তা জানতে অবশ্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে না ফেলপসকে। আজ সাঁতারে প্রথম যে সোনাটির মীমাংসা হচ্ছে, সেটি তাঁরই ইভেন্ট। সিডনিতে নতুন অলিম্পিক রেকর্ড (৪:১১.৭৬) গড়ে এই ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলের সোনা জিতেছিলেন টম ডোলান। ডোলান এবার নেই, বলতে গেলে ফেলপসের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীও নেই। গত মাসে মার্কিন ট্রায়ালে বিশ্ব রেকর্ড (৪:০৮.৪১) গড়েছেন এই ইভেন্টে। আজ আরেকটি বিশ্ব রেকর্ড দেখার জন্য প্রস্তুত থাকাই ভালো।

ইয়ান থর্পের শুরুটাও তাঁর পছন্দমতোই হচ্ছে। প্রিয় ইভেন্ট ৪০০ মিটার ফ্রি স্টাইল দিয়েই শুরু হচ্ছে তাঁর অলিম্পিক। থর্পের অস্ট্রেলিয়ান টিমমেট গ্র্যান্ট হ্যাকেট আপসেট ঘটানোর স্বপ্ন দেখছেন, সংবাদ সম্মেলনে থর্প নিজেও শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন হ্যাকেটের নাম। করাটাই স্বাভাবিক, এই ইভেন্টে ইতিহাসের ষষ্ঠ দ্রুততম টাইমিংটা যে হ্যাকেটের। তারপরও হ্যাকেটের প্রশংসাকে সবাই থর্পের বিনয় বলেই ধরে নিচ্ছেন। ষষ্ঠ দ্রুততম টাইমিংটা হ্যাকেটের হতে পারে, কিন্তু এর আগের ৫টিই যে থর্পের! সিডনিতে সোনা জিতেছিলেন, এই ইভেন্টে বিশ্ব রেকর্ডও তাঁর। গত সাত বছর এই ইভেন্টে অপরাজিত থাকার পর ৪০০ মিটার ফ্রি স্টাইলের নাম বদলে থর্পের নামে রাখা যায় কি না, এমন একটা আলোচনা এখন করাই যেতে পারে।

২০০৪ অলিম্পিকের পোডিয়ামে থর্প আর ফেলপস। ছবি: রয়টার্স

অথচ এই ইভেন্টেই দর্শক হয়ে যাচ্ছিলেন ইয়ান থর্প! অস্ট্রেলিয়ান ট্রায়ালে স্টার্টিং ব্লক থেকে পড়ে গিয়ে ডিসকোয়ালিফায়েড হওয়ার পরও যে আজ পুলে নামতে পারছেন, সেজন্য সতীর্থ ক্রেইগ ইভান্সের কাছে তাঁর কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ইভান্স সরে দাঁড়ানোতেই সুযোগ পেয়েছেন থর্প এবং তাঁর ওপর ‘চাপ’টাও একটু বেড়েছে এতে। সোনা না জিততে পারলে ইভান্সকে মুখ দেখাবেন কী করে? 

থর্প স্বীকার করছেন, ট্রায়ালের ওই ঘটনার পর থেকে স্টার্টিং ব্লকে দাঁড়ালেই একটু নার্ভাস লাগে তাঁর। আজও লাগবে, প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য আশার আলো বলতেও ওটুকুই।

প্রথম সোনাটি ফেলপস জিতলে দ্বিতীয়টি জেতার কথা থর্পের। এরপর মেয়েদের দুটো ইভেন্ট। ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলেতে ফেলপস-থর্পের মতোই ফেবারিট সিডনির চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব রেকর্ডের মালিক ইয়ানা ক্লচকোভা। তবে আজকের শেষ ইভেন্টটিতে কাউকে ফেবারিট বলা যাচ্ছে না। মেয়েদের ৪ গুনিতক ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল রিলেতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি আর অস্ট্রেলিয়া সবাই ফেবারিট, আবার কেউই ফেবারিট নয়। গত বছর বার্সেলোনায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম ৩টি স্থান ছিল এই তিন দেশের, এক আর তিনের মধ্যে পার্থক্য ছিল দশমিক ৭ সেকেন্ডের। সিডনিতে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে এই ইভেন্টের সোনা জিতেছিল যুক্তরাষ্ট্র, ২০০২ সালে সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে জার্মানি। ফুটবল-ক্রিকেটে ‘ব্ল্যাক হর্স’ কথাটা খুব শোনা যায়। সাঁতারেও তা প্রয়োগ করলে এই ইভেন্টের ‘কালো ঘোড়া’ বলতে হবে নেদারল্যান্ডসকে। ইঙ্গে ডি ব্রুইন যে আছেন ওই দলে!

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
Add
Ispahani Mirzapore Tea
×