'ক্রিকেটকে বেঁচে থাকতে হলে নতুন নতুন চিন্তা করতেই হবে'

'ক্রিকেটকে বেঁচে থাকতে হলে নতুন নতুন চিন্তা করতেই হবে'

লিডসের হেডিংলি মাঠে যখন পৌঁছালাম, দক্ষিণ আফ্রিকা দলের প্র্যাকটিস প্রায় শেষ। পরদিন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুপার সিক্সে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ ম্যাচ, যেটিতে হারলেও সেমিফাইনাল আটকাচ্ছে না। প্রায় পুরো দল ড্রেসিংরুমে ঢুকে যাওয়ার পরও বব উলমার যে বলা মাত্রই রাজি হয়ে মাঠে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ইন্টারভিউ দিলেন, সেটিকে আমার অনুরোধ করার ভঙ্গিরই অবদান ভেবেছিলাম। পরে বুঝেছি, আসল কারণ অন্য। এক. ক্রিকেটে উদীয়মান এক দেশের সাংবাদিককে হতাশ না করা। দুই এবং আসল কারণ—ক্রিকেট নিয়ে কথা বলার মতো আনন্দ আর কিছুতেই পেতেন না উলমার। তখন কল্পনাও করিনি, আট বছর পর আরেকটি বিশ্বকাপ থেকে বব উলমারের রহস্যজনক মৃত্যুসংবাদ লিখে পাঠাতে হবে।

'এটা ছিল একটা স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে'

তাঁকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। অভিষেক টেস্টে ১৪৫ রানের মহাকাব্যে ঢুকে গিয়েছেন ক্রিকেট ইতিহাসের অনন্য এক পাতায়, দেশের হয়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির যে কীর্তিটা অমলিন থাকবে চিরদিনই। ওই এক ইনিংসই তাঁকে পাইয়ে দিয়েছিল ২০০০ সালের প্রথম আলো বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদের স্বীকৃতি। সাক্ষাৎকারটাও সে উপলক্ষেই নেওয়া। তবে শুধু অভিষেক টেস্টের গণ্ডিতেই আটকে না থেকে প্রশ্নোত্তর পর্ব ছড়িয়ে পড়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পুরো জীবনেই। পাঠকের যাতে পড়তে সুবিধা হয়, সেজন্য বুলবুলের সেই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারকে ভাগ করা হয়েছে তিন পর্বে। যার প্রথম পর্বে থাকছে অভিষেক টেস্টের সেই ইনিংসের পাশাপাশি তাঁর উঠে আসার গল্পটাও।

'এটা ছিল একটা স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে'

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের মতো আমিও শেষ প্রান্তে’

শুনতে হয়তো একটু বেশি শোনাতে পারে, কিন্তু ওরেল-সোবার্স-রিচার্ডসদের মতো তিনিও আমার কাছে উইন্ডিজ ক্রিকেট। দু'একটা তথ্য দিলেই পরিষ্কার হবে কারণটা। প্রথম টেস্ট ম্যাচ দেখেছেন ১৯৪৮ সালে। সাংবাদিকের ভূমিকায় প্রথম টেস্ট ১৯৫৫ সালে। ২০০৯ সালে ডমিনিকায় যখন তাঁর এই ইন্টারভিউ করি, প্রায় পাঁচ দশক ধরে টনি কোজিয়ার হয়ে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অসংবাদিত কণ্ঠস্বর। তাঁর নিজের জীবন, উইন্ডিজ ক্রিকেটের সেকাল-একাল এমন অনেক কিছু নিয়েই কথা হয়েছিল। তবে তাঁর মৃত্যুর পর থেকে শেষ কথাটাই শুধু কানে বাজে। যা দিয়ে এই ইন্টারভিউয়ের শিরোনাম করেছি।

‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের মতো আমিও শেষ প্রান্তে’

ক্রিকেট হলো বড় দিলওয়ালেদের খেলা'

তারকা হতে একদমই সময় নেননি। ’৯৬-এর নভেম্বরে নাইরোবিতে মাত্র দ্বিতীয় একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচটিতেই ৩৭ বলে সেঞ্চুরির বিশ্ব রেকর্ড করে শহীদ আফ্রিদি রাতারাতিই পরিণত হয়েছিলেন বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন সেনসেশনে। ১৯৯৯ সালে ঢাকায় এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সময় যখন এই ইন্টারভিউ করি, ওয়ানডের লেবেল ঝেড়ে ফেলে তখন টেস্টেও তিনি নিয়মিত। ইন্টারভিউ করতে গিয়ে ছটফটে স্বভাবের বাইরে তরুণ আফ্রিদির আর যা নজর কেড়েছিল, তা হলো, স্পষ্টবাদিতা আর মনের কথা অকপট বলে ফেলার অভ্যাস। নইলে ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই কেউ স্বপ্নের কথা জিজ্ঞেস করায় কেউ বলে দেয়, পাকিস্তানের অধিনায়ক হতে চাই!

ক্রিকেট হলো বড় দিলওয়ালেদের খেলা'

'চার-ছক্কা মারাটা আমার সিস্টেমের মধ্যেই আছে'

ব্যাট হাতে সনাৎ জয়াসুরিয়া কেমন, সেটা ক্রিকেট-বিশ্ব ভালোই জানে। সবচেয়ে ভালো জানেন বোলাররা। তবে মাঠের বাইরের ‘মাতারা হারিকেন’কে যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা ব্যাটসম্যান জয়াসুরিয়ার চেয়েও হয়তো এগিয়ে রাখবেন মানুষ জয়াসুরিয়াকে! তারকাসুলভ কোনো অহমিকা নেই, এটা বললেও সব বলা হয় না। সাক্ষাৎকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জরুরি কাজে সময়টা একটু পেছাতে হওয়ায় আর কোন ক্রিকেট সুপারস্টার বারবার দুঃখ প্রকাশ করবেন? আর কোন সুপারস্টার সেই ‘অপরাধবোধে’ আক্রান্ত হয়ে সাক্ষাৎকার দিতে চলে আসবেন সাংবাদিকের হোটেল রুমেই! তাজ সমুদ্র হোটেলের ২২৪ নম্বর রুমে সনাৎ জয়াসুরিয়ার সাক্ষাৎকার নিলেন অভিভূত উৎপল শুভ্র।

'চার-ছক্কা মারাটা আমার সিস্টেমের মধ্যেই আছে'

'লারা-টেন্ডুলকার লাকি, এখন সেরকম ভালো বোলার কোথায়?'

মহা আলোড়ন তুলে ১৯৯৬ বিশ্বকাপের দলে ঢুকেছেন। জনগণের দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ—১৯৯২ সালে জেতা বিশ্বকাপটা দেশের মাটিতে অবশ্যই ধরে রাখতে হবে। জাভেদ মিয়াঁদাদ তাই খেলছেন টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে পাকিস্তান দলের প্র্যাকটিসে ইন্টারভিউয়ের অনুরোধ করতেই রাজি। প্র্যাকটিস শেষে ডেকে নিয়ে গেলেন ড্রেসিংরুমে। সেখানে বসেই দীর্ঘ ইন্টারভিউ। আরও অনেক ইন্টারভিউ প্রার্থীকে উপেক্ষা করে আমাকে এত যত্নআত্তি করার কারণটা বুঝলাম ইন্টারভিউ শেষে। বাংলাদেশে তাঁর বিশাল ভক্তকুলকে শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগটা ছাড়তে চাননি!

'লারা-টেন্ডুলকার লাকি, এখন সেরকম ভালো বোলার কোথায়?'

'লারা জিনিয়াস, কিন্তু দলের সবাইকে এক সুতোয় গাঁথতে পারেনি'

এই ইন্টারভিউ তিনি খেলা ছাড়ার প্রায় ১৩ বছর পর। তাঁর কথাবার্তা, হাঁটাচলা তখনো ভালোমতোই বুঝিয়ে দেয়, তিনি ভিভ রিচার্ডস। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পুরনো গৌরবের যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়ে রাজি হয়েছেন নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হতে। ২০০৪ সালে গ্রেনাডার কুইন্স পার্ক স্টেডিয়ামে নেওয়া এই ইন্টারভিউয়ে তাই খেলোয়াড় রিচার্ডস কমই এসেছেন, এটি আসলে চিফ সিলেক্টর ভিভ রিচার্ডসের সাক্ষাৎকার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অতীত-বর্তমান, ব্রায়ান লারার ভালো-মন্দ, তাঁর উত্তরসূরি এসব প্রসঙ্গে দারুণ সব কথা বলে এটাকেও মণিমাণিক্যখচিত করে তুলেছিলেন রিচার্ডস।

'লারা জিনিয়াস, কিন্তু দলের সবাইকে এক সুতোয় গাঁথতে পারেনি'

সাতানব্বই সালের সেই সৌরভের সঙ্গে মিলিয়ে নিন পরের সৌরভকে

বছর দেড়েক আগে ভারতীয় দলে তাঁর রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। নিজের মাঠ ইডেন গার্ডেনে প্রথম টেস্ট খেলেছেন দুদিন আগে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টের মাঝখানের বিরতিতে এই ইন্টারভিউ। নিয়েছিলাম বেহালায় সৌরভের প্রাসাদোপম বাড়িতে। রাত ১০টার দিকে শুরু হয়ে যা শেষ হয়েছিল প্রায় মধ্যরাতে! আনুষ্ঠানিক ইন্টারভিউয়ের আড়ষ্টতাকে ছাপিয়ে হয়ে উঠেছিল তুমুল আড্ডা। কখনাে সৌরভের দাদা স্নেহাশিস, কখনাে তার ভাতিজির আগমন আরও অনানুষ্ঠানিক করে তুলছিল আবহটা। এসব মিলিয়েই জীবনে এই একটাই ইন্টারভিউ, যা তুমি-তুমি করে লেখা।

সাতানব্বই সালের সেই সৌরভের সঙ্গে মিলিয়ে নিন পরের সৌরভকে

'একটি বা দুটি বিশ্ব রেকর্ডের ওপর ভর করে জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায় না'

জীবনে আর কোনাে ইন্টারভিউয়ের জন্য এমন যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি। আর কোনাে ইন্টারভিউ করার পর এমন আনন্দেও ভেসে যাইনি। ১৯৯৫-এর অক্টোবরে শারজায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যেটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ব্রায়ান লারা। বেশিদিন হয়নি, টেস্টের পর ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটেও সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন। লারার একটা ইন্টারভিউ তখন সব ক্রিকেট সাংবাদিকেরই তাই পরম চাওয়া। পরম চাওয়া বলেই তা পাওয়াটাও ছিল খুব কঠিন, যেটির জন্য ঘুরছি জেনে ভুক্তভােগী অনেক সাংবাদিকই এই পণ্ডশ্রম থেকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে। তাতে কান না দিয়ে লেগে ছিলাম বলেই হয়েছিল ইন্টারভিউটা। ইন্টারভিউ না পেলে চাকরি চলে যাবে—এই মিথ্যা কথাটারও সামান্য ভূমিকা ছিল তাতে!

'একটি বা দুটি বিশ্ব রেকর্ডের ওপর ভর করে জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায় না'

'আমি আজহারের কাছ থেকে ক্যাপ্টেনসি কেড়ে নিতে চাই না'

‘বিস্ময়বালক’ তত দিনে ২২ বছরের তরুণ। অমিত প্রতিশ্রুতিকে সত্যি প্রমাণিত করার পথেও এগােচ্ছেন দুরন্ত গতিতে। তবে তখনাে মুখে লেগে কৈশােরের সারল্য এবং কথাবার্তায় সেটিকেই সত্যি বলে ভুল করানাের মতাে বিনয়। ইন্টারভিউ পাওয়াটা কিন্তু তখনাে সহজ ছিল না। টেন্ডুলকারের খুব ঘনিষ্ঠ মুম্বাইয়ের এক মারাঠি সাংবাদিক তার বন্ধু বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পর তা সহজতর হলেও ঘুরতে হয়েছিল কয়েক দিন। শেষ পর্যন্ত ইন্টারভিউটা হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারের হােটেল রুমেই। যাতে উঠে এসেছিল ব্যাটসম্যান শচীনের খুঁটিনাটি, সঙ্গে চেনা গিয়েছিল মানুষ শচীনকেও।

'আমি আজহারের কাছ থেকে ক্যাপ্টেনসি কেড়ে নিতে চাই না'
City Group
Fortune Fortified Edible Rice Bran Oil
Kool Body Spray
Ruchi Sauce