বেদি-প্রসন্ন-পোলকের সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলীও

উৎপল শুভ্র

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

বেদি-প্রসন্ন-পোলকের সঙ্গে সৌরভ গাঙ্গুলীও

বিষাণ সিং বেদি,গ্রায়েম পোলক ও সৌরভ গাঙ্গুলী

সেরা সময়ের বেদি-প্রসন্নর বোলিং দেখার সৌভাগ্য হয়নি, গ্রায়েম পোলকের ব্যাটিংও। পড়ন্ত বেলায় তা দেখার সুযোগ হয়েছিল ১৯৯৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইংল্যান্ডের বাইরে সবচেয়ে পুরোনো ক্লাব, ক্যালকাটা ক্রিকেট অ্যান্ড ফুটবল ক্লাবের দ্বিশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনী ম্যাচে এই কিংবদন্তিদের সঙ্গে খেলেছিলেন তরুণ সৌরভ গাঙ্গুলীও। ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কারও পেয়েছিলেন তখনো টেস্ট অভিষেক থেকে সাড়ে তিন বছর দূরে থাকা বাঁহাতি তরুণ।

প্রথম প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩।

ক্যালকাটা ক্রিকেট অ্যান্ড ফুটবল ক্লাব, সংক্ষেপে সিসিএফসি, জন্ম তারিখ ১৭৯৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। গত রোববার দু'শ বছর বয়স হলো এই ক্লাবটির। ইংল্যান্ডের বাইরে এতো বয়সী ক্লাব আর নেই। সাড়ম্বরে ক্লাবটির দ্বিশতবার্ষিকী উদযাপিত হলো সেদিন। সিসিএফসি মাঠের হাওয়ায় উড়ছিল নস্টালজিয়ার সুবাস। অতীত দিনের তারকারা আলোকিত করে তুলেছিলেন মাঠ। উপলক্ষ বোর্ড সভাপতি একাদশ ও সিসিএফসি-র মধ্যে একটি প্রদর্শনী ক্রিকেট ম্যাচ।

মূলত সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া বোর্ড সভাপতি একাদশের অধিনায়কত্ব করেন সর্বকালের সেরা বাঁহাতি স্পিনারদের অন্যতম বিষাণ সিং বেদী। দলে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রায়েম গোলক, পাকিস্তানের জহির আব্বাস এবং ভারতের এরাপল্লী প্রসন্ন, কারসান ঘাউড়ি, দিলীপ ভেংসরকার ও রজার বিনি। খেলার কথা ছিল পাকিস্তানী লেগ স্পিনার আবদুল কাদিরেরও। কিন্তু সময় মতো ভিসা না পাওয়ায় আর আসা হয়নি তাঁর। এরা সবাই প্রাক্তনদের দলে। বর্তমানে দলের বাইরে, কিন্তু ফিরে আসার আশা শেষ হয়ে যায়নি, এমন খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলী ও মনিন্দর সিং। সিসিএফসি'র অধিনায়কত্ব করেন নবেন্দ্র মাথুর, মূল আকর্ষণ ছিলেন অরুণ লাল ও অশোক মালহোত্রা।এই সেই সিসিএফসি। ১৭৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালকাটা ক্রিকেট অ্যান্ড ফুটবল ক্লাব

মনে রাখার মতো অনেক কিছুই ঘটেছে এই ম্যাচে। সেরা সময়ে বেদি আর প্রসন্নর বোলিং দেখার সৌভাগ্য হয়নি। খেলা ছেড়েছেন তাঁরা অনেক দিন। তারপরও এদিন দেখা গেল সেই পুরোনো ম্যাজিক। এ বয়সেও ফ্লাইটের ভ্যারিয়েশন, ক্রিজের ব্যবহার-- এসব দেখে দিন কয়েক আগে দেখা ভেংকটপতি রাজু আর রাজেশ চৌহানকেও বড় বেশি নিষ্প্রভ মনে হচ্ছিল। বেদিই পেলেন ম্যাচের সেরা বোলারের পুরস্কার, উইকেট তিনটি। প্রসন্ন একটি উইকেট পেলেও সবচেয়ে হিসেবি ছিলেন তিনিই, তাঁর বিখ্যাত সেই 'লুপ' এখনো অটুট।বিষাণ সিং বেদি: সেরা সময়ে তাহলে কেমন ছিলেন তিনি!

পুরোনোদের মহিমান্বিত করার কাজটি ব্যাটসম্যানরাও ভালোই করেছেন। বাঁহাতি গ্রায়েম পোলকের ব্যাটিং দেখে বর্ণবাদকে আবার কষে গালি দিতে ইচ্ছে করছিল। খেলা ছেড়েছেন সেই কবে, অথচ এখনো যেন ইচ্ছে করলেই টেস্ট খেলতে পারেন। এমনই সাবলীল তাঁর ফুটওয়ার্ক, এমনই রাজসিক তাঁর ব্যাট চালনা। কয়েকটি অফ ড্রাইভ করলেন তো ছবির মতো। বর্ণবাদ শুধু তাঁকেই নয়, ক্রিকেটকেও কম বঞ্চিত করেনি। গ্রায়েম পোলক করেছেন ৪৬ রান। জহির আব্বাসের ব্যাট থেকে এসেছে ৩১ রানের সংক্ষিপ্ত একটি ইনিংস। দেখা গেল তাঁর বিখ্যাত কাভার ড্রাইভ, দু'জনেরই বেশ জুনিয়র দিলীপ ভেংসরকারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও কিছুদিন খেলতে পারতেন বলেই মনে হলো। তাঁর চল্লিশোর্ধ রানের ইনিংসটি তো বলেছে তাই।পোলকের কাভার ড্রাইভ দেখে মন ভরে গিয়েছিল। ছবি: গেটি ইমেজেস

এ ধরনের ম্যাচে ফলাফলটা মুখ্য থাকে না। তবুও জানিয়ে দেয়া যাক, আয়োজকরাই জিতেছে। অধিনায়ক নরেন্দ্র মাথুরের সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে জিতে যায় সিসিএফসি। সৌরভ গাঙ্গুলীর কথা অবশ্য আগেই বলা উচিত ছিল। বোর্ড সভাপতি একাদশের পক্ষে ইনিংস ওপেন করতে নেমেছিলেন মনিন্দর সিংকে নিয়ে। চমকে উঠবেন না, একদা 'নভিস' মনিন্দর ব্যাটিটা ভালোই করেন এখন। সৌরভ গাঙ্গুলী ১০৩ রান করে অবসর নেন। পাঁচটি বিশাল ছক্কা ছিল তাঁর এই ইনিংসে। এর একটি তো এসে পড়ে প্যাভিলিয়নের ছাদে। সৌরভ যখন স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে ফিরে আসেন, নতুন ব্যাটসম্যান গ্রায়েম পোলক হাততালি দিয়ে অভিনন্দিত করেন তাঁকে। ম্যাচের সেরা ব্যাটসম্যানের পুরস্কারটিও পেয়েছেন সৌরভই।

তবে মাচ শেষে যখন মাঠ ছেড়ে আসছি, সব কিছু ছাপিয়ে চোখে ভাসছিল গ্রায়েম পোলকের ব্যাটিং আর বেদি ও প্রসন্নর বোলিং-জাদু। কল্পনার সীমানা ছুঁতে চাচ্ছিল একটি বিন্দুই: আহ! সেরা সময়ে কী-ই না খেলতেন তাঁরা!

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন