আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোল

সাফেই পেলেকে ছুঁয়ে ফেলতে পারেন সুনিল ছেত্রি, এমনকি ছাড়িয়ে যেতেও

খাইরুল আমিন তুহিন

৬ অক্টোবর ২০২১

সাফেই পেলেকে ছুঁয়ে ফেলতে পারেন সুনিল ছেত্রি, এমনকি ছাড়িয়ে যেতেও

সুনীল ছেত্রি: পেলেকে ছোঁয়ার অপেক্ষায়

বিশ্ব ফুটবলে ভারত বড় কোনো নাম নয়, তবে দেশটির অধিনায়ক সুনীল ছেত্রি বারবারই আসেন আলোচনায়। এখন যেমন আসছেন গোলসংখ্যায় পেলেকে ছোঁয়ার, এমনকি ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে বলে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি গোলদাতার তালিকায় পেলেকে ছুঁতে মাত্র এক গোলই তো লাগে তাঁর।

পেলে হয়তো খবরটা জানবেনই না। কেউ বোধ হয় তাঁর মন্তব্যও জানতে চাইবেন না। বিশ্ব ফুটবলেরও নড়েচড়ে বসার কোনো কারণ নেই। তিনি তো আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিংবা লিওনেল মেসি নন। তবুও যদি শেষ পর্যন্ত ঘটনাটা ঘটেই যায়, সুনিল ছেত্রির অর্জনটা কোনোভাবেই মিথ্যে হয়ে যাবে না। বিশ্ব ফুটবলে পশ্চাৎপদ দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলে তা বাড়তি একটা মাত্রা যোগ করবে নিশ্চিত।

খেলার মানে-ক্যারিয়ারের অর্জনে তো প্রশ্নই আসে না, তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলসংখ্যায় এখন পেলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ভারতীয় অধিনায়ক ছেত্রি। কখনো বিশ্বকাপে খেলতে না পারা ছেত্রি তিনবারের বিশ্বকাপ জয়ী পেলেকে ছুঁয়ে ফেলতে তো পারেনই, ছাড়িয়েও যেতে পারেন মালদ্বীপে চলমান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। আর একটি গোল করলেই ছেত্রির জন্য শিরোনাম, ‘ফুটবলের রাজা পেলেকে ছুঁয়ে ফেললেন ছেত্রি’। আর দুটি করলেই, ‘পেলেকে ছাড়িয়ে গেলেন ছেত্রি’। খবরটা ভারত কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের জন্য বড় কিছু তো বটেই।

কাতার বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে বলিভিয়ার বিপক্ষে মাসখানেক আগে হ্যাট্রটিক করেছিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পেলেকে স্পর্শ করে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন সেদিনই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৯২ ম্যাচে ৭৭ গোলে থেমেছিলেন পেলে। ১৫৩ ম্যাচ খেলে মেসির গোল এখন ৭৯টি, দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলে সর্বোচ্চ।সবার ওপরে রোনালদো। ছবি: গেটি ইমেজেস

রোনালদোর রেকর্ডে অবশ্য কোনো বিশেষণ জুড়তে হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন ধরে রেখেছিলেন আল দাইয়ি। ইরানের কিংবদন্তির ১৪৯ ম্যাচে ১০৯ গোল। গেল ইউরোতে সেই রেকর্ড স্পর্শ করেন পর্তুগালের অধিনায়ক রোনালদো। তারপর গত মাসে দাইয়ির রেকর্ডটা ভেঙে ফেলেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে। ম্যাচের শুরু ও শেষে করেন দুটি গোল। প্রথমটিতেই দাইয়িকে ছাড়িয়ে বিশ্বরেকর্ডটা করে নেন নিজের।

রোজ রোজ আলোচনায় থাকার মতো কেউ নন ছেত্রি। না তাঁর দেশ আলোচনায় থাকে, না তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে তিনি সমীহ জাগানো নাম বটে, কিন্তু এশিয়ার মধ্যেও জপ করার মতো নাম নন। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে তাঁর দেশের অবস্থানও অনেক পেছনে। ১০৭।

তবে দেশের দাপট না থাকলেও ছেত্রি যে কীর্তি গড়তে চলেছেন, তা তো বিশালই। ২০২১ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাঁর দেশের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে গোল করে ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডে উঠে এসেছেন ১০ নম্বরে। এতে এশিয়ার গৌরবও বাড়ল বেশ। সর্বকালের সেরা গোলদাতার 'টপ টেন'-এ যে এশিয়ার প্রতিনিধি এখন ৫ জন, তা কি খেয়াল করেছেন?

মাত্রই রোনালদোর পেছনে পড়ে যাওয়া আল দাইয়িকে দিয়ে শুরু। অকালে পরপারে চলে যাওয়া মালয়েশিয়ার মোখতার দাহারি (১৪২ ম্যাচে ৮৯ গোল) তিনে। চারে হাঙ্গেরির ফেরেঙ্ক পুসকাস (৮৫ ম্যাচে ৮৪ গোল), জাম্বিয়ার গডফ্রে চিতালু (১১১ ম্যাচে ৭৯ গোল) ও মেসি যথাক্রমে তালিকার পাঁচ ও ছয়ে। সাতে আরেক এশিয়ান, ইরাকের হোসেন সাইদ (১৩৭ ম্যাচে ৭৮ গোল)। পেলের (৯২ ম্যাচে ৭৭ গোল) সমান গোল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আলী মাবখুত (৯৪ ম্যাচে ৭৭ গোল) আছেন নয় নম্বরে। ১২১ ম্যাচে ৭৬ গোল নিয়ে পেলেকে ছাড়ানোর অপেক্ষা এখন ছেত্রির।আলী মাবখুত: পেলের সমান গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার নয় নম্বরে আলী মাবখুত। ছবি: এএফপি

এই যে শীর্ষ দশের কথা বলা হলো, তার মধ্যে ইরান বাকি এশিয়ার দেশগুলোর চেয়ে একটু এগিয়ে। ১৯৭৮, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৪ ও ২০১৮...খেলেছে ৫টি বিশ্বকাপে। যদিও কখনো প্রথম রাউন্ডই পেরোতে পারেনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ মিলেছিল আলি দাইয়ির। ৩৭ বছর বয়সে মারা যাওয়া মোখতারের দেশ কখনো বিশ্বকাপেই খেলেনি। ইরাক ১৯৮৬ সালে প্রথম ও এখন পর্যন্ত শেষবারের মতো বিশ্বকাপ খেলেছে। রেকর্ড গড়া সাঈদ সেবার খেলেছিলেন বিশ্বমঞ্চে। তাঁর দল প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। একই অবস্থা আমিরাতের আলী মাবখুতেরও। ১৯৯০ সালে তাঁর দেশ প্রথম ও সর্বশেষবার বিশ্বকাপ খেলে। মাখবুতের জন্মই হয়েছে ওই বছরের শেষে। এখনো তিনি খেলছেন।

'এখনো খেলছেন' শব্দ জোড়ায় মিলে যাচ্ছেন মাবখুত ও ছেত্রি। নতুন রেকর্ড গড়ছেন পায়ে পায়ে। ৩৭ বছরের ছেত্রি বা ৩১ বছরের মাবখুত হয়তো বিশ্ব ফুটবলে রেখে যাবেন আরও পদচিহ্ন। তাতে সমসাময়িক দুনিয়ার খুব বেশি কিছু হয়তো যাবে আসবে না, কিন্তু রেকর্ডের পাতায় ঠিকই রয়ে যাবে তাঁদের নাম।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন