ইব্রার জন্মদিনে ইব্রা-সুবচন

উৎপলশুভ্রডটকম

৩ অক্টোবর ২০২১

ইব্রার জন্মদিনে ইব্রা-সুবচন

জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ

মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই মুখ চলে তাঁর। কথাবার্তায় অহঙ্কার, আত্মগর্ব ফুটে বেরোলেও এমন সুন্দর করে তা বলেন যে, শুনতে খারাপ লাগে না। বরং নির্বাচিত উক্তির সংকলন করতে গেলে সংকটে পড়ে যেতে হয়, কোনটা রেখে কোনটা বাদ দেবেন। জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের জন্মদিনে বিভিন্ন সময় তাঁর স্মরণীয় এমন কিছু উক্তি।

১. “আমি যে কতটা নিখুঁত, তা দেখে হেসেই বাঁচি না।”

২. “সুইডিশ স্টাইল? নাকি যুগোস্লাভিয়ান স্টাইল? অবশ্যই তা নয়। এটা একদমই জ্লাতান স্টাইল।”

৩. “জ্লাতান অডিশন দেয় না।”
-টিনএজার ইব্রাহিমোভিচকে আর্সেনাল ম্যানেজার আর্সেন ওয়েঙ্গারের ট্রায়ালে ডাকা প্রসঙ্গে।

৪. “ফুটবল নিয়ে (জন) ক্যারু যা করে, তা আমি স্রেফ একটা কমলালেবু নিয়েই করতে জানি।”
-ক্যারু বলেছিলেন ইব্রাহিমোভিচের ওসব কারিকুরির কোনো মানে নেই, তারই জবাবে।

৫. “প্রথমে আমি বাঁয়ে গেলাম, সে-ও সেদিকে গেল। এরপর আমি ডানে গেলে সে-ও সেদিকে গেল। তারপর আমি ফের বাঁয়ে যেতেই ও একটা হট ডগ কিনতে চলে গেল।”
-লিভারপুলের ডিফেন্ডার স্তেফানে হেনচজকে তিনি কিভাবে অপদস্থ করেছিলেন, সে প্রসঙ্গে।

৬. আমাকে কিনলেন মানে একটা ফেরারি কিনলেন। ফেরারি চালাতে গেলে প্রিমিয়াম পেট্রোল লাগবে ট্যাংকে। (পেপ) গার্দিওলা ট্যাংকে ডিজেল ভরে এদিক ওদিক চক্কর দিলেন। তার আসলে একটা ফিয়াট কেনা উচিত ছিল।
-বার্সেলোনায় একমাত্র মৌসুমে কোচ গার্দিওলার সঙ্গে তাঁর তিক্ত সম্পর্ক প্রসঙ্গে।

৭. “‘উপহার’ বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন? সে তো জ্লাতানকেই পেয়েছে।”
-সাবেক গার্লফ্রেন্ডকে বাগদানের উপহার দেওয়া প্রসঙ্গে।

৮. “আমরা একটা অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজছি। খুঁজে না পেলে আমি হয়তো গোটা একটা হোটেলই কিনে ফেলব।”
-প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দিন।

৯. “এটা সত্যি যে এখানকার খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। তবে আমি কে, এটা নিশ্চয়ই তারা জানে।"
-২০১২ সালে তাঁর লিগ ওয়ানে যাওয়া প্রসঙ্গে।

১০. “ড্রেসিংরুমে আমরা তার প্লে-লিস্ট দেখছিলাম। সেখানে জাস্টিন বিবার, জোনাস ব্রাদার্স ও সেলিনা গোমেজদের দেখতে পাই। এমনকি ডেভিড বেকহামেরও যে সব রুচি ভালো নয়, তা জানলে ভালোই লাগে।”

১১. “এভাবেই আমাকে অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া যাবে বলে ভাবা হয়েছিল। আমি তাদের গোটা দেশকেই অবসরে পাঠিয়ে দিলাম।”
-দুই গোল করে ডেনমার্ককে বিদায় করে সুইডেনকে ইউরো ২০১৬-তে খেলার যোগ্যতা অর্জন করিয়ে দেওয়ার পর।

১২. “আমার মনে হয় না তারা আইফেল টাওয়ার সরিয়ে সেখানে আমার মূর্তি বসাবে, ক্লাবের লোকজন বদলে ফেলতে পারবে বলেও বিশ্বাস করি না। তা করতে পারলে আমি এখানে থেকে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।”
-পিএসজিতে তাঁর ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে।

১৪. ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইয়িং প্লে-অফের আগে এক রিপোর্টারের সঙ্গে তাঁর বিখ্যাত কথোপকথন:

জ্লাতান: “কে কোয়ালিফাই করবে, তা একমাত্র ঈশ্বর জানেন।”
রিপোর্টার: “তাঁকে জিজ্ঞেস করা একটু কঠিন বটে।”
জ্লাতান: “আপনি তাঁর সঙ্গেই কথা বলছেন।”     

১৪. আর পর্তুগালের কাছে হেরে সুইডেন কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়ার পর?
“আমাকে ছাড়া যে বিশ্বকাপ, তাতে দেখার কিছু নেই। সুতরাং বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষা করার কোনো মানেই হয় না।”

১৫. “অবশ্যই না। আমি একটা বিমানের অর্ডার করেছি। এটার গতি আরও বেশি।”
-পোরশে কিনছেন বলে গুজব ছড়ানোর পর।

১৬. ‘‘মনে হচ্ছিল যেন আমার চারপাশে ১১টা শিশু।”
-২০১৫ চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে লাল কার্ড পাওয়ার পর চেলসি খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে।

১৭. “কে জিতল, তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমি তো ছুটিতে যাচ্ছি।”
-২০১২ ইউরো থেকে সুইডেন বাদ পড়ার পর।

১৮. “ইনজুরিতে পড়া জ্লাতান যেকোনো দলের জন্য ভয়াবহ।”

১৯. “আমিও আতশবাজি পছন্দ করি। কিন্তু ওগুলো বাগানে ফোটাই। নিজের ঘরে আমি কখনো আগুন দিই না।”
-মারিও বালোতেল্লির নিজের ঘরে আতশবাজি ধরানো প্রসঙ্গে।

২০. “আমি ১১টা পজিশনেই খেলতে জানি। কারণ, একজন ভালো খেলোয়াড় সব জায়গায় খেলতে পারে।”

২১. “আমি ইচ্ছে করে কাউকে ইনজুরিতে ফেলি না, তা আপনার জানা আছে। এরপরও যদি অভিযোগ করেন, তাহলে আপনার দুই পা-ই আমি ভেঙে দেব এবং তখন তা ইচ্ছে করেই করব।”
-ইচ্ছে করে তাঁকে আহত করেছেন, রাফায়েল ফন ডার ভার্ট এই অভিযোগ করার পর।

২২. “(ওগুচি) ওনেউ নিজেকে হেভিওয়েট বক্সারে পরিণত করেছে। ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি তার উচ্চতা, ওজনও ১৫ স্টোনের বেশি। কিন্তু সে-ও আমাকে সামলাতে পারেনি।”
-সাবেক সতীর্থ ওনেউর সঙ্গে সংঘর্ষে নিজের পাজরের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর।

২৩. “যদি (ওয়েইন রুনি) এখনো আগামী গ্রীষ্মে বা জানুয়ারিতে দল বদলাতে চায়, তাহলে আমি তাকে প্যারিসে আসতে বলব...এখানে যোগ দিলে জ্লাতান যে তাঁর চেয়ে ভালো গোল করতে পারে, এতে ও অভ্যস্ত হয়ে যেত।”

২৪. “এটা ডেভিড ত্রেজেগের দোষ। সে আমাকে একটা পর একটা ভদকা খাইয়ে যাচ্ছিল। আমি বাথটাবেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। এখন ভদকার ওপর আমার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
-২০০৫ সালে জুভেন্টাসের হয়ে আরেকটি শিরোপা জেতার পর।

২৫. “এরপরই (পেপ) গার্দিওলা তার দার্শনিক কথাবার্তা শুরু করে দিল। আমি তা শুনছিলাম না বললেই চলে। কেন শুনব? এসব তো ছিল রক্ত, ঘাম আর চোখের জল জাতীয় কথাবার্তারই একটু অগ্রসর রূপ।”

২৬. “(হোসে) মরিনহো হলেন গার্দিওলার উল্টো। মরিনহো যদি ঘর আলোকিত করা মানুষ হন, তাহলে গার্দিওলা হলেন পর্দা টেনে দেওয়া লোক। আমার অনুমান, তার সঙ্গে নিজেকে মাপতে মাপতে গার্দিওলা ক্লান্ত হয়ে গেছেন।”

২৭. “আমার মনে হয় না ভিডিও গেমে আসল জ্লাতানের মতো দর্শনীয় গোল আপনি করতে পারবেন। যদিও এখনকার দিনে এই গেমগুলো অনেক বেশি রিয়েলিস্টিক।”

২৮. “এখনও তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। তবে দেখা হলে অবশ্যই তার সঙ্গে ডেট করব।”
-বিশ্বের সেরা সুন্দরীর নাম বলতে বলায়।

২৯. “লোকে আমার সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে। বছরের পর বছর আমি এমন (গালি) বহু কিছু শুনেছি। ‘(গালি)...ভবঘুরে’। আমার মায়ের সম্পর্কে...এমন অনেক কিছু। আমি আমার শরীর দিয়ে এসবের জবাব দেই, কথা দিয়ে নয়।”

৩০. “রাজার মতো এসেছিলাম, কিংবদন্তির মতো চলে গেলাম।”
-পিএসজি ছাড়ার সময়।

৩১. “আমি ম্যানচেস্টারের রাজা হব না। আমি হব ম্যানচেস্টারের ঈশ্বর।”
-এরিক ক্যান্টোনা যে বলেছিলেন, তিনি হবেন ম্যানচেস্টারের রাজকুমার, সেই প্রসঙ্গে।

৩২. “কোচিং করে আপনি এই ব্রিলিয়ান্স শেখাতে পারবেন না।”
-২০১২ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা তাঁর গোল প্রসঙ্গে।

৩৩. “আমার মনে হয় আমি ওয়াইনের মতো। যত পুরোনো, ততই ভালো।”  

৩৪. “ডাকনামের কী দরকার? আমাকে দেখে ভয় পাওয়ার জন্য কেবল খেলা দেখলেই চলবে।”
-রাদামেল ফ্যালকাওয়ের ‘দ্য টাইগার’ ডাক নাম প্রসঙ্গে।

৩৫. “ইংল্যান্ডে খেললেও আমি সবকিছু ধসিয়ে দিতাম, যেমনটা করেছি সব জায়গায়।”

সূত্র: ইএসপিএন
 

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন