`মেসিকে সামলানো এখন কঠিন কিছু নয়`

উৎপলশুভ্রডটকম

৮ অক্টোবর ২০২১

`মেসিকে সামলানো এখন কঠিন কিছু নয়`

এই ছবিটিই বলে দিচ্ছে সে সময়ের মেসির কথা

লা লিগায় ১২ বার বার্সেলোনার মেসির মুখোমুখি হয়েছিলেন। মেসির জাদু দেখেছেন, ১২ ম্যাচের একটিতেও জিততে না পারার অভিজ্ঞতাও ভুলে যাওয়ার নয়। মেসির মতো আদিল রামিও এখন লিগ ওয়ানে। পিএসজির মেসিকে দেখে যাঁর মনে হচ্ছে, এই মেসি আর সেই মেসি নেই। সব ভেঙেচুরে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তিনি হারিয়ে ফেলেছেন। ডিফেন্ডারদের এখন তাঁকে অত ভয় না পেলেও চলবে। আসলেই কি তাই?

আদিল রামিকে আপনার না চেনার কথা নয়। মনে রাখার অনেক কারণই থাকতে পারে, তবে তার মধ্যে হয়তো এটাও আছে। ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্স দলের মানা একটা 'কুসংস্কার'। আঁতোয়া গ্রিজমান যা শুরু করেছিলেন। প্রতিটি ম্যাচের আগে রামির গোঁফটা পাকিয়ে নিতেন। গ্রিজমানের দেখাদেখি অন্যরাও তা করতে শুরু করেন। যেমনটা ১৯৯৮ বিশ্বকাপের সময় ফ্যাবিয়েন বার্থেজের টেকো মাথায় লরেন্ত ব্ল’র চুমু খাওয়ার মতো। ঘটনাক্রমে টেকো মাথায় চুমু খাওয়া আর গোফ পাঁকিয়ে দেওয়ার এই দুবারই শেষে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরাসিরা। কুসংস্কারের কথা তাই বেশি আলোচিত হয়েছে।

কিন্তু কোনো কুসংস্কারের জন্য নয়, আজ আদিল রামি আলোচনায় লিওনেল মেসিকে নিয়ে অন্যরকম একটা মন্তব্য করায়। ১৩ বছর বয়স থেকে যে বার্সেলোনায়, চোখের জলে সেই ক্লাবকে বিদায় দিয়ে মাস দুয়েক হলো ফ্রান্সের রাজধানীর ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে যোগ দিয়েছেন মেসি। সেই সূত্রে গোটা বিশ্বের চোখ কেড়ে নিয়েছে পিএসজি। এই পিএসজির সঙ্গেও কোনো যোগ নেই রামির। বিশ্বের এখানে সেখানে ঘুরে ৩৫ বছরের রামি যদিও এখন ফ্রান্সের লিগ ওয়ানেই খেলেন। ক্লাবের নাম ট্রয়েস। এখনো মেসির সঙ্গে মাঠে দেখা হয়নি। কিন্তু পুরোনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেসির নিকট অতীতের খেলা দেখে তাঁর যা মনে হচ্ছে, সেটিই সরাসরি বলে দিয়েছেন তিনি। এই সেন্টার ব্যাকের ধারণা, দেখা হলে তার আগের মতো বেগ পেতে হবে না। কারণ, এখন মেসির ভূমিকা অনেক বেশি ‘পাসারের’। সবকিছু ভেঙেচুরে বল পায়ে ভিনগ্রহের জাদু দেখানোর মতো অবস্থায় মেসি নেই। তাই রামির ধারণা, ডিফেন্ডাররাও মেসিকে সামলাতে একটু সময় পাবে।

প্লে স্টেশন ফুটবলার, জাদুকর, ভিনগ্রহের ফুটবলার...এমন নানা বিশেষণ যোগ হয়েছে মেসির নামের পাশে। তিনিই  সর্বকালের সেরা ফুটবলার কি না, তা নিয়েও আড্ডার টেবিলে চায়ের কাপে ঝড় ওঠে। মাত্র কিছুদিন আগেই আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জিতিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মিলেছে আন্তর্জাতিক শিরোপা। অথচ এই মানুষটা ২০০৫ থেকে ২০২১ পর্যন্ত বার্সেলোনায় কত শিরোপা জিতেছেন, তা হিসেব করে বের করতেও সময় লাগে। লা লিগা থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ, বিশ্ব ক্লাব কাপ, সর্বজয়ী মেসির কাতালানদের সব জয়েই ছিল বড় ভূমিকা। বার্সার হয়ে ৭৭৮ ম্যাচে রেকর্ড ৬৭২ গোল করে এসেছেন। ক্যাম্প ন্যুতে থাকতেই সবার চেয়ে বেশি ছয়বার চুমু খেয়েছেন ব্যালন ডি’অরে। সেই ক্লাবের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণেই ফ্রি ট্রান্সফারে আগস্টে পা রেখেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্লাব পিএসজিতে। যেটা এখন তারার মেলা।

পিএসজিতে পা রেখে এখন পরযন্ত ৫টি ম্যাচ খেলা হয়েছে মেসির। গোল মাত্র একটি। এ থেকেই মেসিকে নতুন করে মূল্যায়নের সময় হয়তো এখনো আসেনি, কিন্তু রামি তা করে ফেলেছেন। জানিয়ে দিচ্ছেন তাঁর উপলব্ধি, এখন আর মেসি মাঠের ফাইনাল থার্ডে ভয়াবহ হুমকি হয়ে ওঠার মতো কেউ নন!

অতীতের সঙ্গে তুলনা করেই কথাটা বলেছেন রামি। স্প্যানিশ লিগে ভ্যালেন্সিয়া ও সেভিয়ার হয়ে ১২ বার মেসির মুখোমুখি হয়েছিলেন। মেসিকে সামলানোর দায়িত্বও পড়েছে অনেকবার। কিন্তু সফল হননি। ওই ১২ ম্যাচের একটিতেও মেসি বা বার্সা হারেনি। তবে রামির মনে হচ্ছে, সামনে লিগ ওয়ানে মুখোমুখি হলে তাঁর কাজটা আগের মতো খুব কঠিন হবে না।

পিএসজির পক্ষে মেসির প্রথম গোল

লিগ ওয়ানের অফিসিয়াল সাইট রামি বলেছেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমি কখনো জিততে পারিনি। কিন্তু ড্র তো করেছি , (হেসে) তার কাছ থেকে চার/পাঁচটা জার্সিও পেয়েছি।’ এটাকেই প্রাপ্তি মেনে রামি বলছেন, ‘সে প্রচণ্ড ক্ষুরধার ছিল। তখন সবসময় আমার ঠিক পেছনেই থাকত। কখনো অফসাইড হতো। তারপর আবার মাঝমাঠে গিয়ে সেখান থেকে শুরু করতো।’

কিন্তু হালের মেসির দিকে তাকিয়ে স্প্যানিশ জীবনের সঙ্গে ফরাসি জীবনের পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন রামি, ‘এখন তাঁর ভূমিকাটা অনেক বেশি বল পাসারের। তাতে করে আমাদের ডিফেন্ডারদের কাজ সহজ হয়েছে। আমরা অপেক্ষা করার সময় পাচ্ছি হাতে।’ এর সঙ্গে তাঁর ফুটনোট, ‘আমার মনে হয় না, একাই সবকিছু ভেঙেচুরে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা তাঁর আর আছে।’ 

চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির বিপক্ষে জয়ের পর ড্রেসিংরুমে পিএসজির ত্রিমূর্তি। ছবি: টুইটার

হয়তো রামি ওটাই বড় করে দেখছেন। কিন্তু ফরাসি লিগে সম্ভবত তা হবে না। মেসিকে ঘিরেই দলের খেলা হবে। এদিকে মেসি আসার পরই কিলিয়ান এমবাপ্পে রিয়াল মাদ্রিদে ‘চলে গেল গেল’ রব উঠেছিল। শেষ অব্দি আপাতত থেকেই গেলেন। কিন্তু পিএসজিতে জাতীয় দলের সতীর্থ এমবাপ্পের থাকাটা যে ভালো হয়েছে সেটাও বলে গেলেন রামি। বিশেষ করে মেসি আসায় এমবাপ্পের আরও উন্নতি করার সম্ভাবনা দেখছেন, ‘আমি কিলিয়ান এমবাপ্পের বিরাট ফ্যান। ও পিএসজিতে থেকে গেল বলে আমি খুশি হয়েছে। মেসির কাছ থেকে অনেক বেশি লাভবান হবে। সত্যি বলতে দলে নিজের ভূমিকা এমবাপ্পে বুঝতে পারলে অন্য দলগুলো খুব বিপদে পড়বে।’ 

এমবাপ্পের কথা বলতে গিয়ে মেসিকে আরেক উচ্চতায় তুলে দিয়ে গেলেন রামি। কিন্তু তাঁর কথা অনুযায়ী মেসিকে সামলানো ডিফেন্ডারদের জন্য এখন আদৌ সহজ কি না, রামি নিজেও হয়তো তা দেখার অপেক্ষায় আছেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন