উৎপল শুভ্র নির্বাচিত পাঠকের লেখা

ছক্কাবিহীন ম্যাচে আরেকটি ৭৬ এবং আরও কত কিছু

রিফাত বিন জামাল

৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছক্কাবিহীন ম্যাচে আরেকটি ৭৬ এবং আরও কত কিছু

মাত্র ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ব্যর্থ বাংলাদেশ। দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টিতে এত কম রান তাড়া করায় ব্যর্থতা এই প্রথম। ছক্কাবিহীন টি-টোয়েন্টি ম্যাচেরও খোঁজ পড়ল এই ম্যাচের পর। সংখ্যায় সংখ্যায় আরও কত কিছুই না বলার আছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তৃতীয় ম্যাচ নিয়ে।

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ টানা তিনটি ম্যাচ জিততে পেরেছিল তিনটি দলের বিপক্ষে। আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার ওই তালিকায় যোগ হতে পারত নিউজিল্যান্ডও। কিন্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং-ধস তা হতে দেয়নি। নিউজিল্যান্ড তাই সিরিজে বেঁচে থাকল ৫২ রানে তৃতীয় ম্যাচে জয়লাভ করে। যে ম্যাচে ঘটেছে অনেক কিছুই, সেসবের প্রেক্ষিতে ম্যাচটাকে ঐতিহাসিকও বলা চলে! কেন ঐতিহাসিক? উত্তরটা দেওয়া যাক সংখ্যায় সংখ্যায়...

দেশের মাটিতে এটা টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এর আগে দেশে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল ৮৫/৯। ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। অলআউট হওয়া ইনিংসে দেশের মাঠে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন ছিল ৯৬। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০১৫ সালে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন চারটি স্কোরই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে (৭০, ৭৬, ৭৬ ও ৭৮)। 

 নিউজিল্যান্ডের বোলিংয়ে পুরো ২০ ওভার খেলে একটিও ছয় মারতে পারেনি প্রতিপক্ষ দল, আজকের ম্যাচের বাইরে এমন ঘটনা ঘটেছে মাত্র একবারই। ২০১৯ সালে পাল্লেকেলেতে কিউইদের করা ১২০ বল খেলে অতিরিক্ত ১৩ রান বাদে শ্রীলঙ্কার ১১২ রানের মধ্যে ছক্কায় আসেনি কোনো রান। অবিশ্বাস্যভাবে সে পুঁজিতেই লঙ্কানরা জিতে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে ৮৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে।

১১৮ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেসব ম্যাচে প্রতিপক্ষ দল একটিও ছয় মারতে পারেনি, তাদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১৮ বল খেলেছে বাংলাদেশ। ছক্কা ছিল না নিউজিল্যান্ডের ইনিংসেও। এর আগে মাত্র একবারই নিউজিল্যান্ড সব ওভার খেলে একটিও ছক্কা হাঁকাতে পারেনি। ২০০৯ সালে লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কিউইদের ব্যাট থেকে আসা ১১৭ রানে কোনো ছক্কা ছিল না।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, কমপক্ষে ১২০ বল খেলে কিংবা খেলিয়ে কিউইরা ছক্কাবিহীন যেসব ইনিংস শেষ করেছে এবং অন্যদেরও একটিও ছক্কা মারতে দেয়নি, সেগুলোর মধ্যে জিতেছে কেবল আজকের ম্যাচেই।

৩ পুরো ম্যাচে কমপক্ষে ২০০ বল খেলা হয়েছে, অথচ ম্যাচে দেখা মেলেনি কোন ছয়ের...টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এমন টি-টোয়েন্টি ম্যাচ তিনটিই দেখেছে ক্রিকেট। তৃতীয়টি হলো আজ মিরপুরে, যেটিতে ২৩৮ বলেও দেখা মেলেনি কোনো ছয়ের। বলের হিসেবে এটাই সবচেয়ে দীর্ঘতম। প্রথমটি ২০১০ সালে কার্ডিফে ইংল্যান্ড-পাকিস্তান, যে ম্যাচে ২২৩ বলের কোনোটিতেই ব্যাটসম্যান উড়িয়ে বল সীমানার বাইরে পাঠাতে পারেননি। দ্বিতীয়বার এই ঘটনা ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজেই, যেখানে ২০৭ বলে ছয়ের সংখ্যা শূন্য। বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ১৯১ বলে কোনো ছক্কা হয়নি।

২ টি-টোয়েন্টিতে ২০ বলের বেশি খেলে যারা অপরাজিত থেকেছেন, তাঁদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্ট্রাইক রেট মুশফিকুর রহিমের। মুশফিকের চাইতে কম স্ট্রাইক রেট ছিল শুধু যুবরাজ সিং। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩২ বল খেলে ৪৩.৭৫ স্ট্রাইক রেটে যুবরাজ করেছিলেন ১৪ রান। আজ মুশফিক করেছেন ৫৪.০৫ স্ট্রাইক রেটে ৩৭ বলে ২০ রান।

৬ বাংলাদেশ ঘরের মাঠে এর আগে যে ছয়বার ১৩০ এর কম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছে, জিতেছে সব কটিতেই। এত কম রান তাড়া করতে নেমেও পরাজয় আজই প্রথম।

মোস্তাফিজুর রহমান এই ম্যাচে তৃতীয় ওভারে বোলিংয়ে এসে উইকেট তো নিয়েছেনই, সঙ্গে রানও দেননি কোনো। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তাঁর পঞ্চম মেডেন ওভার। সর্বোচ্চ ৭টি মেডেন ওভার আছে ভারতের জসপ্রীত বুমরাহর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়টি শ্রীলঙ্কার নুয়ান কুলাসেকারার। মুস্তাফিজ বাদে আরও সাত জনের আছে পাঁচটি করে মেডেন ওভার।

৪ ওভারে ১৬ রানে ৪ উইকেট এজাজ প্যাটেলের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং। নিউজিল্যান্ডের বোলাররা টি-টোয়েন্টিতে কমপক্ষে চার উইকেট নিয়েছেন ১৮ বার। তাঁদের মধ্যে চতুর্থ সর্বনিম্ন ইকোনমি রেট এজাজ প্যাটেলের।

 আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ওয়ান হান্ড্রেড ম্যাচ ক্লাবের অষ্টম সদস্য মাহমুদউল্লাহ। তাঁর আগে এই মাইলফলক ছুঁয়েছেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ হাফিজ, নিউজিল্যান্ডের রস টেলর ও মার্টিন গাপটিল, ভারতের রোহিত শর্মা, ইংল্যান্ডের এউইন মরগান, আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রায়েন। সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম যথাক্রমে ৮৯ ও ৮৭ ম্যাচ নিয়ে আছেন এই মাইলফলকের কাছেই।

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন