উৎপল শুভ্র নির্বাচিত পাঠকের লেখা

গল্পটা কি এভাবেই শেষ, ধোনি?

শাওন শেখ শুভ

৯ অক্টোবর ২০২১

গল্পটা কি এভাবেই শেষ, ধোনি?

ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত! ছবি:ইএসপিএন

চিরকাল তাঁকে জয়ীর বেশেই চিনে এসেছে বিশ্ব, রাঁচি থেকে উঠে এসে বিশ্বজয়ের গল্প লিখে অনুপ্রেরণা হয়েছেন অজস্রের। কিন্তু ক্যারিয়ারের সায়াহ্নবেলায় দেখা মিলছে এ কোন ধোনির? যে ধোনির কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, পারছেন না; যে ধোনি ব্যাট হাতে নিজের ছায়া। এভাবেই কি লেখা হবে ধোনি-অধ্যায়ের শেষটা?

মহেন্দ্র সিং ধোনি-- নামটা শুনলেই কী মনে পড়ে আপনার? দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী লম্বাচুলো অধিনায়ক! নাকি ২০১১ সালের ফাইনালে ম্যাচ উইনিং 'হেলিকপ্টার' শট? মনে পড়তে পারে আরও অনেক কিছুই। কারণ, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মনে রাখার মতো অনেক কিছুই করেছেন।
প্রথম শিরোপা জেতানোর আনন্দ।ছবি:গেটি ইমেজেস
তবে সবই এখন অতীত। আর হয়তো আমাদের এখন ধোনির অতীত আঁকড়েই থাকতে হবে। কারণ, বর্তমানটা যে বড্ড ধূসর।

ক্রিকেটে পরিসংখ্যান পুরোপুরি সঠিক চিত্র না দিতে পারলেও একে অবজ্ঞা করা যায় না। দিল্লির বিপক্ষে তাঁর ২৭ বলে ১৮ রানের ইনিংসটার কথাই ভাবুন। আনরিখ নোর্খিয়ের বাউন্সারে পুল, অশ্বিনের ক্যারম বলে কাট... সবই তো চেষ্টা করলেন৷ কেবল সফল হয়ে উঠতে পারলেন না। ২৭ বল খেলার পরও একটা বাউন্ডারিও এলো না তাঁর ব্যাটে। এই ইনিংসটাই যেন ব্যাটসম্যান ধোনির গত দুই মৌসুমের পারফরম্যান্সের প্রতিচ্ছবি।

২০১৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন নিজের সেরা ফর্মেই। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের আইপিএল মৌসুমে গড় ছিল যথাক্রমে ৭৫ ও ৮৩, স্ট্রাইকরেট ছিল ১৫০ ও ১৩৪।তবে গত দুই মৌসুমেই দেখছেন মুদ্রার অন্য পিঠ। আইপিএলের গত মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ২০০ রান, মাত্র ২৫ গড়ে। স্ট্রাইকরেটও 'ধোনিসুলভ' নয়,কেবল ১১৬। তবে মাঠে তাঁর দুর্দশার পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠেছে এই মৌসুমে। ১৪ ম্যাচে ১৩ গড় আর ৯৫ স্ট্রাইকরেটে রান করেছেন মাত্র ৯৬।

বিগ হিটিংয়ের জন্য বিখ্যাত ধোনি গত দুই মৌসুমে ছয় হাঁকিয়েছেন মাত্র ৯টি, যেখানে ২০১৯ মৌসুমেই ছয়ের সংখ্যা ছিল ২৩। পুরো আইপিএল ক্যারিয়ারে স্ট্রাইকরেট যেখানে ১৩৫, সেখানে গত দুই মৌসুমে স্ট্রাইকরেট নেমে এসেছে ১০৮-এ।

স্পিনে দুর্বলতা স্পষ্ট। গুগলি বুঝতে পারছেন না একদমই, সেটা বরুণ চক্রবর্তীরই বলুন কিংবা রবি বিষ্ণোয়েরই। গত দুই সিজনে স্পিনারের বিপক্ষে গড় ১৭, স্ট্রাইকরেট ৮৫। শুধু কী স্পিনে! কোয়ালিটি পেস খেলতেও সমস্যা হচ্ছে তাঁর। গত দুই মৌসুমে পেসারদের বিপক্ষে ব্যাটিং গড় মাত্র ২১। সব তো ব্যাটিংয়ে ভাটার টানেরই প্রমাণ।

আর এসব বিপত্তির কারণ হতে পারে, ২০১৯ বিশ্বকাপের পরে ক্রিকেট থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকা। হয়তো বা অনুশীলন করেছেন, কিন্তু তা দিয়ে কি আর ম্যাচ ফিটনেস বা ম্যাচ প্রাকটিসের অভাব মেটে! স্বাভাবিকভাবেই ঘাটতি দেখা যাচ্ছে রিফ্লেক্সে। পুরো ব্যাটিং রিদমটাই যেন নষ্ট হয়ে গেছে।ক্যারিয়ারের এই সায়াহ্নে এসে এমনটাই অবশ্য হয়।
ছবি:ইএসপিএন
ধোনিও কি বুঝতে পারছেন, তাঁর সময় ফুরিয়েছে? এবারই যে খেলোয়াড় হিসেবে শেষবার দেখা যেতে পারে তাঁকে, এমন একটা আভাস তো তিনি নিজেই দিলেন সেদিন, 'আগামী মৌসুমেও চেন্নাইয়ের সাথেই আছি। তবে সেটা খেলোয়াড় হিসেবে কি না, সেটা আমি এখনো নিজেই জানি না।' 

চেন্নাই আর ধোনির যে সম্পর্ক, তাতে হয়তো ধোনি চাইলেই আরও খেলতে পারেন। কিন্তু তিনি কি তা করবেন? তিনি তো সেই মহেন্দ্র সিং ধোনি, যিনি ১৬ বছরের ক্যারিয়ার সমাপ্তি টেনেছিলেন তিন মিনিটের এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে!

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন