ভারতের বিশ্বকাপ ‘শেষ’ হতেই শুরু মাতম

উৎপলশুভ্রডটকম

৮ নভেম্বর ২০২১

ভারতের বিশ্বকাপ ‘শেষ’ হতেই শুরু মাতম

ছবি: গেটি ইমেজেস

কপিল দেব বলছেন, আইপিএল নয় আসল খেলা হচ্ছে দেশের জন্য খেলা। সুনীল গাভাস্কারের মত, এভাবে চলে না। অ্যাপ্রোচ বদলাতে হবে। আর ভারতীয় সংবাদপত্রে তো আসন্ন সিরিজের জন্য ভারতের নতুন এক দলও গড়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপের সেমিতে পৌঁছাতে না পারা নিশ্চিত হতেই ভারতে মাতমের প্রতিচ্ছবি যে লেখায়।

নিউজিল্যান্ডের কাছে আফগানিস্তান হারতেই বিশ্বকাপ শেষ ভারতের। আর সেই শেষটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর ভারতের এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ব্যর্থতা নিয়ে শুরু হয়েছে কাটাছেঁড়া। সাবেক ক্রিকেটার থেকে সংবাদমাধ্যম সবখানেই বিরাট কোহলির দলের নিদারুণ সমালোচনা চলছে।

ভারতের সর্বাধিক প্রচারিত সংবাদপত্র টাইমস অব ইন্ডিয়া শিরোনাম করেছে, ‘বিশ্বকাপ থেকে নকআউট, ভারতের কি নতুন করে শুরুর সময়?’ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন দিন পর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ভারতের হোম সিরিজ শুরু হচ্ছে। সেখানে নতুন একটি দল করে সেটিকে মাঠে নামানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দলও করে দিয়েছে তারা। রোহিত শর্মাকে অধিনায়ক করে যে দলে রাখা হয়েছে ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, ইশান কিশান (উইকেটকিপার), সূর্যকুমার যাদব, শ্রেয়াস আইয়ার, ভেঙ্কটেশ আইয়ার, অক্ষর প্যাটেল, হার্শাল প্যাটেল, দিপক চাহার, আভেশ খান ও যুজবেন্দ্র চাহালকে।

মুম্বাইয়ের সংবাদপত্র মিড ডে শিরোনাম করেছে, ‘টিম ইন্ডিয়াকে আবার ডুবাল নিউজিল্যান্ড, এই নিয়ে তিনবার এবং তা ভালো না!’ রিপোর্টে তারা লিখেছে, ‘এটা প্রথমবার না। গত তিন বছরে কেন উইলিয়ামসনের নিউজিল্যান্ড আইসিসি ইভেন্টে ভারতেকে তিনবার হতাশায় ডুবাল। এই তিনের প্রথমটা ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। দ্বিতীয়টা এই বছরের জুনের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে।’ আর তৃতীয়টা হয়ে গেল এই বিশ্বকাপে। 

এনডিটিভি একটা রিপোর্ট করেছে, যাতে উঠে এসেছে ভারতের ব্যর্থতা নিয়ে সাবেক খেলোয়াড়দের নানা মন্তব্য। এই প্রতিবেদনেরে শিরোনাম, ‘ভারত দলের ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার ব্যর্থতা নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের উক্তি’। এই রিপোর্টে হরভজন সিংয়ের টু্ইট তুলে ধরা হয়েছে, ‘আমি জানি, ভারত সামনে যাচ্ছে না। চিন্তা নেই। আমরা আরো ভালোভাবে ফিরে আসব।’ 

ভারতের প্রভাবশালী বাংলা সংবাদপত্র আনন্দবাজার শিরোনাম করেছে, ‘সেমিতে ওঠার সুযোগ শেষ, নিউজিল্যান্ড জিততেই অনুশীলন বাতিল কোহলিদের।’ আরেকটি শিরোনাম এমন, ‘বিশ্বকাপের ব্যর্থতার দায় আইপিএল-এর, বুমরার সুরেই সুর মেলালেন ভারতের বোলিং কোচ।’ এই রিপোর্টে ভরত অরুণের সংবাদ সম্মেলনে বলা কথাটা তুলে দেওয়া হয়েছে এভাবে, ‘ছ’মাস ধরে খেলে চলেছে দলটা। কেউ বাড়ি যায়নি। আইপিএল-এর প্রথম পর্বের পর একটু বিশ্রাম পেয়েছিল ওরা। জৈব দুর্গে আটকে রয়েছে ছ’মাস ধরে। আইপিএল এবং টি২০ বিশ্বকাপের মাঝে একটু বিশ্রাম পেলে ছেলেদের জন্য ভালোই হতো।’

কলকাতা থেকে প্রকাশিত আরেক বাংলা সংবাদপত্র 'সংবাদ প্রতিদিন'-এর একটি লেখার শিরোনাম , ‘পরিকল্পনার অভাবই ডোবাল ভারতকে! বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতেই সমালোচনায় বিদ্ধ কোহলিরা।’ আরেকটি শিরোনাম, ‘ফের নিউজিল্যান্ড কাঁটাতেই বিদ্ধ ভারত, আফগানদের হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় কোহলিদের।’

কপিল দেব পরিবর্তনের কথা বলছেন

হিন্দুস্তান টাইমস দুটি বিশেষ রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। দুই কিংবদন্তির কথা নিয়ে। কপিল দেবের কথা নিয়ে করা রিপোর্টের শিরোনাম, ‘যদি খেলোয়াড়রা দেশের ওপরে আইপিএল খেলার দিকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে আমরা আর কী করতে পারি।’ অন্য রিপোর্টটি সুনীল গাভাস্কারের বক্তব্য দিয়ে। যেটার শিরোনাম, ‘ভালো দলের বিপক্ষে খেললে ভারত স্কোর করতে পারে না’।

কী আছে এই দুই রিপোর্টে? প্রথমে আসা যাক কপিলের প্রতিবেদনে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ব্যর্থতার পেছনে বেশ কিছু কারণ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে তাগাদা দিয়েছেন, দেরি না করে এখন থেকেই আগামী বছর অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করে দিতে। কপিল বলেছেন, ‘এটা এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর সময়। সরাসরি পরিকল্পনা শুরু করে দেওয়া উচিত। বিশ্বকাপ শেষে হয়ে গেছে বলে ভারতের ক্রিকেটও শেষ হয়ে গেছে, ব্যাপারটা এমন না। আমি মনে করি আইপিএল ও বিশ্বকাপের মধ্যে একটা বিরতি থাকা দরকার। এটা ঠিক যে, আমাদের খেলোয়াড়েরা ওখান থেকে যথেষ্ট প্রচারের আলো পাচ্ছে, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারছে না।’ 

আইপিএল-আইপিএল করে একটা ক্ষতিও যে হয়ে যাচ্ছে ভারতের, এমন কথাও বলেছেন কপিল, ‘যদি খেলোয়াড়রা দেশের ওপরে আইপিএল খেলার দিকে প্রাধান্য দেয়, তাহলে আমরা আর কী করতে পারি! খেলোয়াড়দের দেশের জন্য খেলার গর্ব থাকা উচিত। তাদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে আমার জানা নেই বলে এ নিয়ে আমি কথা বলতে পারছি না। তবে আমি বুঝি প্রথমে আসতে হবে দেশের দল, এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজি। আমি বলছি না যে ওখানে (ফ্র্যাঞ্চাইজি) ক্রিকেট খেলা যাবে না, কিন্তু বিসিসিআইয়ের এখন দায়িত্ব আরও ভালো পরিকল্পনা করা। ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা বিরাট শিক্ষা পেয়েছি।’

গাভাস্কার দেখছেন ভারতের দুটি ভুল

স্পোর্ট টক নামে অনুষ্ঠানে বলা গাভাস্কারের কথা নিয়ে করা প্রতিবেদনে ভারতের ব্যর্থতার অন্তত দুটি কারণ উঠে এসেছে। ‘দলে খুব বেশি পরিবর্তন আনা মোটেও ঠিক কথা নয় কারণ ভারত এমন দল না যে তারা সব ম্যাচ হারে'...এটা বলার পর গাভাস্কার যোগ করেছেন, ‘দুই ম্যাচে ব্যাটাররা ঠিকঠাক মতো কাজ করতে পারেনি, মানে যেটা তাদের ওপর প্রত্যাশা ছিল আর কি। এই কারণেই ভারতের এখন এই অবস্থা। অ্যাপ্রোচ বদলাতে হবে।’ গাভাস্কার বলেছেন প্রথম ৬ ওভারে যখন মাত্র দুজন ফিল্ডার ৩০ গজের বাইরে থাকে তখন যে সুবিধাটা নিতে হয় তা ভারত নিতে পারছে না। সেই কারণে কোনো ভালো দল ও ভালো বোলারদের সামনে পড়লে ‘ভারত স্কোর করতে পারছে না’। এই অবস্থার পরিবর্তন চান গাভাস্কার।

দ্বিতীয় আরেকটি কারণ নিয়েও কথা বলেছেন তিনি, ‘দ্বিতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ফিল্ডিংয়ে অসাধারণ এমন খেলোয়াড় তাদের দরকার ছিল। নিউজিল্যান্ড যেভাবে ফিল্ডিং করেছে, ক্যাচ নিয়েছে, রান বাঁচিয়েছে...তাতে কাজ হয়েছে। যদি (বোলিং) অ্যাটাকও গড়পড়তা হয়, পিচ হয় তক্তা, তারপরও ভালো ফিল্ডিং ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। ভারত দলের দিকে তাকালে দেখবেন তিন/চারজন দুর্ধর্ষ ফিল্ডারের বাইরে আর কারও ওপর রান বাঁচানো বা বাউন্ডারিতে ডাইভ দেওয়ার ব্যাপারে ভরসা করা যায় না।’ 

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×