টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১

অ্যারন ফিঞ্চ মনে হয় বলতে হয় বলেই বলছেন

উৎপলশুভ্রডটকম

৬ অক্টোবর ২০২১

অ্যারন ফিঞ্চ মনে হয় বলতে হয় বলেই বলছেন

ছবিটাকে প্রতীকী হিসেবেও ধরতে পারেন, ফিঞ্চের তো এখন রাজ্যের চিন্তা। ছবি: গেটি ইমেজেস

ছয়-ছয়টা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপ জিততে পারেনি একবারও। সপ্তমবারে কি অপেক্ষা ঘুচবে তাদের? অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ যতই আশার গান শোনান না কেন, সাম্প্রতিক ফর্ম কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্য-খরা ঘুচিয়ে দেওয়ার পক্ষে কথা বলছে না।

এমন রহস্যের জট ছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ঘিরেও। ততদিনে সর্বজয়ী দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার স্বীকৃতি সর্বজনীন, টানা তিনবার বিশ্বকাপ জেতা হয়ে গেছে, সর্বশেষ দুবার তো প্রতিপক্ষকে রীতিমতো পিষে ফেলে। অথচ এই দলটাই খুলতে পারছিল না চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গেরো। যা খুলেছিল ২০০৯ সালে এসে, দক্ষিণ আফ্রিকায় নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে।

ওই রহস্যের জট খুললেও নতুন রহস্য খুঁজে পেতে সময় লাগেনি খুব বেশি দিন। ছয়-ছয়টা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পেরিয়ে গেলেও একবারও সংক্ষিপ্ত সংস্করণের বিশ্বকাপটা ঘরে নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

সপ্তমবারে এসে কি অপেক্ষা ঘুচবে অস্ট্রেলিয়ার? অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ যখন বলছেন, 'বিশ্বকাপ জয়ের মতো দল আমাদের আছে', শুনে অজি-সমর্থকরা আশায় বুক বাঁধতেই পারেন। তবে সাম্প্রতিক ফর্ম কিংবা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে তাকিয়ে আশার বেলুনটা চুপসেই যাবে। অ্যারন ফিঞ্চ নিজেই তাই দাবিটা করছেন, বেশ কিছু 'যদি', 'কিন্তু' জুড়ে। যা শুনে মনে হতেই পারে, কথাটা তিনি যতটা বিশ্বাস থেকে বলছেন, তার চেয়ে বেশি অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে। বলতে হয় বলেই যেন বলা। স্টার্কের বোলিং ফর্ম ভালো নয় মোটেই। ছবি: গেটি ইমেজেস

অস্ট্রেলিয়ার মতো দল বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে তা জেতার কথা বলবে, এটাই তো স্বাভাবিক। তাহলে অ্যারন ফিঞ্চের আশাবাদকে 'বলার জন্য বলা' মনে হচ্ছে কেন? কারণ তো আছেই। জয়-পরাজয়ের সাম্প্রতিক যে পরিসংখ্যানকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ড্রয়িংবোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার টিম ম্যানেজমেন্ট এড়িয়েই চলবে সম্ভবত। সর্বশেষ ১০ ম্যাচে জয় তো মাত্র দুটিতে! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বোলিং আক্রমণে, সেই মিচেল স্টার্ক দুই সিরিজেই ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ৪ ম্যাচ খেলে ৮.৮১ ইকোনমিতে উইকেট নিয়েছিলেন মাত্র ১টা। আর যে বাংলাদেশ সিরিজে রান তুলতে রীতিমতো হাঁসফাঁস করেছেন ব্যাটসম্যানরা, সেখানে তিনি ওভারপ্রতি রান দিয়েছিলেন ৮.৭১! মিচেল স্টার্ক তবুও নিজের খামতির জায়গাটা বুঝতে পেরেছেন। তবে যে ১৫ জন খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, তাদের মধ্যে অনেকে তো জানারই সুযোগ পাননি, কোথায় কোথায় তাদের কাজ করতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপগামী দলের আট জনকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর বাংলাদেশ সফরের ঝক্কি থেকে। এর মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কিংবা প্যাট কামিন্সদের মতো নামও। তাঁদের বিশ্রাম দেওয়ার কারণটাও অবশ্য অনুমান করা যায় সহজে, এক নাগাড়ে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে থেকে ক্রিকেটাররা যেন মানসিক অবসাদে না পড়ে যান। আর যে আমিরাতে বিশ্বকাপ বসছে, সেই আমিরাতেই হচ্ছে আইপিএলের দ্বিতীয় পর্ব; সেখানে খেলে প্রস্তুতি ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তো তখন খোলাই ছিল তাদের সামনে।

কিন্তু বিশ্বকাপ শুরুর দিন পনেরো আগে দেখা যাচ্ছে, সেই সুযোগের অপেক্ষায় থাকাটা ভুলই হয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল দুটি ম্যাচ জিতিয়েছেন, চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে জশ হ্যাজলউডও মহেন্দ্র সিং ধোনির বড় ভরসা; কিন্তু বাকিদের অবস্থা তথৈবচ। প্যাট কামিন্স আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে খেলতেই আসেননি, মানেটা দাঁড়াচ্ছে, এপ্রিলের পর থেকে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলেই তিনি নেমে যাবেন বিশ্বকাপের মঞ্চে। আর আইপিএলে পাওয়া সুযোগটা লুফে নিতে পারেননি ওয়ার্নার-স্মিথের কেউই। আইপিএলের প্রথম পর্বেই রানখরার কারণে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের একাদশ থেকে জায়গা হারিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। মাঝের বিরতি তাঁকে ফর্মে ফিরিয়েছে ভেবেই হয়তো আমিরাত পর্বের প্রথম দু'ম্যাচ ফের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু ফিরেও যে-ই কে সে-ই! ৬ বল খেলে ২ রান করে জায়গা হারিয়েছেন জেসন রয়ের কাছে।ওয়ার্নারের জায়গা এখন সাইডলাইন। ছবি: বিসিসিআই

দুই ম্যাচ খেলে বাদ পড়েছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের স্টিভ স্মিথও। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কর্তাদের কপালে ভাঁজের সংখ্যা আরও বাড়ছে, কারণ ওই দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলতে গিয়েই হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েছেন অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস; বিশ্বকাপে তাই কতটুকু ফিট স্টয়নিসকে অস্ট্রেলিয়া পাচ্ছে, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে।

হাঁটুর চোটের কারণেই লম্বা একটা সময় মাঠের বাইরে ফিঞ্চও। দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরাই যেহেতু ম্যাচ-ঘাটতি সঙ্গী করে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় ফিঞ্চকে তাই স্বীকার করতেই হলো, অস্ট্রেলিয়ার জন্য পরিস্থিতিটা বেশ কঠিনই এবার, 'ইনডোরে বা নেটে  অনুশীলন করার সঙ্গে গেম ইনটেনসিটির তো কোনো তুলনা চলে না।'

তবুও ফিঞ্চ প্রত্যয়ী। অস্ট্রেলিয়ার না হয় একটু বেশিই হয়েছে, কিন্তু করোনা মহামারী তো সব দলেরই প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ফিঞ্চ তাই আশাই করছেন, 'বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, আমরা যদি নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারি, তাহলে আমাদের হারানো কঠিন হবে। ঠিক সময়ে আমাদের কেবল নিজেদের সেরা অবস্থায় থাকতে হবে।'

প্রশ্নটা তো ওখানেই, এই মুহূর্তে সেরা অবস্থায় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটাররা আছেন কি?

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন