রশিদ খানের চোখে টি-টোয়েন্টির সেরা পাঁচ

উৎপলশুভ্রডটকম

১২ অক্টোবর ২০২১

রশিদ খানের চোখে টি-টোয়েন্টির সেরা পাঁচ

রশিদ খান

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা বোলার হিসেবে অনেকেই বলেন তাঁর নাম। ব্যাটিংটাও তো একেবারে খারাপ করেন না। দুটি মিলিয়ে রশিদ খানকে টি-টোয়েন্টির সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও কেউ দিতেই পারেন। সেই রশিদ খান যখন তাঁর চোখে সেরা পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড় বেছে নেন, তা কৌতূহলোদ্দীপক হতে বাধ্য। আইসিসির ওয়েবসাইট সেই কৌতূহলই মিটিয়েছে।

বিরাট কোহলি

১. বিরাট কোহলি

টি-টোয়েন্টিতে ৪১.২০ গড় ও ১৩৩.৫৭ স্ট্রাইক রেটে ভারত-অধিনায়কের রান ১০,১৩৬। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫২.৬৫ গড়ে আর ১৩৯.০৪ স্ট্রাইক রেটে ৩১৫৯। সব সংস্করণের ক্রিকেটে খেলাটির চেহারা বদলে দেওয়া একজন। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোহলির সবচেয়ে বেশি রান তাঁর। কমপক্ষে ২০ ইনিংসের হিসেব ধরলে তার চেয়ে বেশি গড়ও কারও নেই। সব ধরনের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হিসাবে আনলে সেখানে গড়ের দিক দিয়ে তালিকার ১১ নম্বরে কোহলি।

এই সবকিছু মিলিয়েই রশিদ খানের সেরা পাঁচের এক নম্বরে বিরাট কোহলির নাম। কারণ হিসেবে যিনি বলছেন, ‘ও উইকেটের ওপর নির্ভরশীল নয়। উইকেট কেমন, তাতে তার কিছু আসে যায় না। সে এমন একজন যে যেকোনো উইকেটেই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যাবে এবং পারফর্ম করবে।’ কোহলি তাঁর চতুর্থ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন গত দুই আসরের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট মাথায় নিয়ে।

কেন উইলিয়ামসন

২. কেন উইলিয়ামসন

সব ধরনের টি-২০ মিলিয়ে কেন উইলিয়ামসন ১২৪.৮৬ স্ট্রাইক রেট এবং ৩১.৪৭ গড়ে করেছেন ৫৪২৯ রান। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রান ১৮০৫। ৩১.৬৬ গড় আর ১২৫.০৮ স্ট্রাইক রেট। উইলিয়ামসন আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে রশিদ খানের দীর্ঘ দিনের সতীর্থ।

দলের মধ্যে ‘শান্ত’ একটা ভাব এনে দেওয়ার ক্ষমতার জন্য উইলিয়ামসনকে বেছে নিয়েছেন রশিদ খান। কোহলির মতো এই নিউজিল্যান্ডারও প্রমাণ করেছেন, বিগ হিটিংই টি-২০ ক্রিকেটের শেষ কথা নয়। দারুণ টাইমিং ও ফিল্ডিংয়ের ফাঁকফোকর বের করে রান তুলতে ওস্তাদ উইলিয়ামসন। অধিনায়ক হিসেবে ৪৯ ম্যাচে তাঁর পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস ১১টি। নেতৃত্বের বিষয় আনলে বলতে হয়, প্রখর ধীশক্তি তাঁর। ২০১৬ সালে সেটা আরও বেশি প্রমাণ করেছিলেন ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। সেবার অন্যরা যখন স্লো উইকেটে খাবি খাচ্ছিল, নিউজিল্যান্ড সেখানে ছিল দুর্দান্ত ধারাবাহিক।

এবি ডি ভিলিয়ার্স

৩. এবি ডি ভিলিয়ার্স

সব রকমের টি-২০ মিলিয়ে তাঁর রান ৯৪২৪। গড় ৩৭.২৪। স্ট্রাইক রেট ১৫০.১৩। আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৬.১২ গড়, ১৩৫.১৬ স্ট্রাইক রেটে এবি ডি ভিলিয়ার্সের রান ১৬৭২। ডি ভিলিয়ার্স প্রতিপক্ষ বোলারদের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। যাঁর বিপক্ষে বল করার আদর্শ সময় বলে কিছু নেই।

‘এক ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যান’ দিয়ে শুরু করে এবি ডি ভিলিয়ার্স সম্পর্কে রশিদ খান বলেছেন, ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে, যে কোনো উইকেটে, যে কোনো বোলারের বিপক্ষে দ্রুত রান করার ক্ষমতা আছে তাঁর। খেলতে পারেন সব শট। যে কোনো অধিনায়কই এমন ব্যাটসম্যানকে সব সময় দলে চাইবেন।’

‘থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি ব্যাটসম্যান’ নামেই পরিচিত ডি ভিলিয়ার্স। বৈশ্বিক ক্রিকেটে মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে অপ্রতিদ্বন্দী। ১৫০.১৩ স্ট্রাইক রেট নিয়ে শীর্ষ ২৫ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা এই দক্ষিণ আফ্রিকান। ফিল্ডার হিসেবেও তিনি দুর্ধর্ষ। এখন পর্যন্ত ৪২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন ডি ভিলিয়ার্স। এর চেয়ে বেশি জিতেছেন শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল।

কাইরন পোলার্ড

৪. কাইরন পোলার্ড

৩১.৫৬ গড়ে ১১,২৩৬ রান। স্ট্রাইক রেট ১৫২.৬২। সব ধরনের ক্রিকেট মিলে উইকেট ৩০০। সেখানে ২৪.৭৫ গড় আর ৮.২১ ইকোনমি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২৪.৬০ গড় এবং ১৩৭.৯৩ স্ট্রাইক রেটে ১৩৭৮ রান। উইকেট ৩৮টি। গড় ২৭.৩৪, ইকোনমি ৮.৪২।

রশিদ খান তাঁর সেরা পাঁচে রেখেছেন দুজন অলরাউন্ডারকে। দুজনই ডেথ ওভারে ব্যাট করার জন্য দুর্দান্ত বলে প্রমাণিত। সেই দুইয়ের প্রথমজন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক কাইরন পোলার্ড। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের কিংবদন্তিদের তালিকায় উঠে গেছে তাঁর নাম। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৫৬৮টি ম্যাচ খেলেছেন। তাঁর চেয়ে বেশি রান করেছেন শুধু ক্রিস গেইল (১৪,২৭৬)।

পোলার্ডের ক্ষেত্র রান সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ এই রান কেমন দ্রুত উঠেছে। ১৫২.৬২ স্ট্রাইক রেটই যা বুঝিয়ে দিচ্ছে। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪০ রান সংগ্রাহকের মধ্যে যে স্ট্রাইক রেট সবার সেরা। এই সংস্করণে তাঁর নেওয়া ৩০০ উইকেটও বিশেষভাবে উল্লেখ করার মতো। ২০১২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছেন। চোটের কারণে ২০১৬ বিশ্বকাপ মিস না করলে আরেকটি বিশ্বকাপও যোগ হতো তাঁর অর্জনে। আসন্ন বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়ে ফের শিরোপা জিতে আনার সুযোগ তাঁর সামনে।   

হার্দিক পান্ডিয়া

৫. হার্দিক পান্ডিয়া

২৭.২৮ গড়। স্ট্রাইক রেট ১৪১.৪৯। সব ধরনের ক্রিকেট মিলে ২৭২৮ রান। বোলিংয়ে ১১০ উইকেট ২৭.৪৫ গড় এবং ৮.১৪ ইকোনমিতে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪৮৪ রান। যেখানে গড় ১৯.৩৬। স্ট্রাইক রেট ১৪৫.৩৪। সেখানে ২৬.৪৫ গড় ও ৮.১৭ স্ট্রাইক রেটে শিকার ৪২ উইকেট।

‘শেষ ৪/৫ ওভারে আমার যখন ৮০-৯০ রান লাগবে তখন গুরুত্বপূর্ণ কাজ ওই দুজনের (ব্যাটসম্যানের)।’ রশিদ খান পোলার্ড ও পান্ডিয়াকে বেছে নেওয়ার কারণ জানিয়ে বলেছেন, ‘ওরা এমন ধরনের ব্যাটসম্যান, যারা এই কাজটা সহজে করে দিতে জানে।’

২০১৬ সালে শুরু করে এখন পর্যন্ত ভারতীয় দলে ঝোড়ো ব্যাটিং আর আগ্রাসী বোলিংয়ের কারণে হার্দিক পান্ডিয়ার কদর। মাত্র ২৮ বছর বয়স। এর মধ্যে ১৭০টি টি-টোয়েন্টি খেলে ফেলেছেন। তার চেয়ে বড় কথা, এটা প্রমাণ করে ফেলেছেন যে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর ব্যাট ব্যবধান গড়ে দিতে জানে। যখন হাত খুলে মারেন, তখন বেশির ভাগ সময়ই ব্যাটে বলে ঠিকঠাক লাগে। তাঁর ৩৪০ বাউন্ডারির ৪৮ শতাংশই যে ছক্কা থেকে এসেছে, এটাই এর প্রমাণ। বল হাতেও চাপের মুখে লড়াই করতে দাঁড়িয়ে যান। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যখন তিন বলে দুই রান দরকার ছিল, তখন বল হাতে চিত্র পাল্টে দিয়ে ভারতকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন।
 

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন