চাপ নিয়ে সাকিবকে প্রশ্ন করলে তো ওই উত্তরই মিলবে

উৎপলশুভ্রডটকম

১২ অক্টোবর ২০২১

চাপ নিয়ে সাকিবকে প্রশ্ন করলে তো ওই উত্তরই মিলবে

সাকিব আল হাসান: জয়ের হাসি

আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে যেখানে বাইরে বসে থাকাটাই নিয়ম হয়ে গিয়েছিল, সেখানে বাঁচামরার ম্যাচে সাকিবের ছোট্ট ইনিংসটাই হয়ে গেল নির্ধারক। ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এমন চাপ এতবার সামলেছেন যে, সাকিবের কাছে তা কোনো ব্যাপারই হওয়ার কথা নয়। বললেনও সেটাই।

যে সাকিব খেলারই সুযোগ পাচ্ছিলেন না, সেই সাকিবকে নিয়েই এখন ধন্যি ধন্যি আইপিএল পাড়ায়। তা কাজটাও তেমনই করেছেন সাকিব আল হাসান। চাপের মুখে দুর্দান্ত এক স্কুপে কলকাতা নাইট রাইডার্সের আইপিএল থেকে বাদ পড়া ঠেকিয়েছেন। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছেন বিরাট কোহলির রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে। কেকেআর সুযোগ পেয়েছে কোয়ালিফায়ারে খেলার। আইপিএলের দ্বিতীয় পর্বে যেখানে বাইরে বসে থাকাটাই নিয়ম হয়ে গিয়েছিল, সেখানে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ের চাপ কিভাবে সামলালেন? সাকিবের কথা শুনে মনে হবে এতো নস্যি!

‘চাপ তো সবসময়ই থাকবে। কিন্তু পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এসবের সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নেওয়া শিখতে হয়।’ 'চাপ' শব্দটাকে অবশ্য সাকিব বরাবরই এমন হালকা করে দেখান। সাকিবকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর সংবাদ মাধ্যমে শোরগোল শুরু হওয়ার পর কেকেআরের অফিসিয়াল সাইটও জেগে উঠেছে। সাকিবকে ইন্টারভিউ করে জেনে নিয়েছে সাকিবের চাপ সামলানোর কৌশল। সেখানে সাকিব বলেছেন, ‘আমি তো দীর্ঘদিন ধরে আমার জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করছি। সে কারণেই এই ধরনের চাপ সামলানোর অভ্যাস আমার হয়ে গেছে।’

এই শটটার অনেক মূল্য

সোমবার এলিমিনেটর ম্যাচে বেঙ্গালুরু আগে ব্যাটিং করে ১৩৯ রানের টার্গেট দিয়েছিল কেকেআরের সামনে। সাকিবের ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান দেওয়াটায় ভূমিকা রেখেছে মাঝারি এই স্কোরে বেঙ্গালুরুকে আটকে রাখায়।বোলিংয়ে যা করার করেছেন, এরপর তাঁকে প্রয়োজন পড়ে ব্যাটিংয়ের শেষ সময়ও। নেমেছিলেন আট নম্বরে। ম্যাচের নির্ধারক শেষ ওভারে স্ট্রাইকেও তিনি। দরকার ছিল মাত্রই ৭ রান, কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে এটাও জয়ের নিশ্চয়তা নয়। প্রথম বলেই শর্ট ফাইন লেগের ওপর দিয়ে বাউন্ডারি মেরে দিয়ে হিসাবটা সহজ করে দেন। এমন ঝুঁকিপূর্ণ শট নিশ্চিত না হয়ে এমন সময়ে খেলা যায় না। মানসিক দিক দিয়ে সাকিব কতটা শান্ত ছিলেন, কঠিন চাপের মধ্যেও সেটা অনুদিত হয়েছে তাঁর শটে। জয়সূচক রানটাও এসেছে সাকিবেরই ব্যাট থেকে। গতকাল রাতের এই ম্যাচের এসব ঘটনাপ্রবাহ অবশ্য এতক্ষণে পুরোনো হয়ে গেছে সবার কাছে। নতুন বলতে সাকিবের প্রতিক্রিয়া। 

বাঁচামরার ম্যাচে প্রতিপক্ষের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েও খুব নির্লিপ্ত সাকিব। তিনি এটাও জানেন, বুধবারের কোয়ালিফায়ার ম্যাচ কিংবা তার দুদিন পরের ফাইনালে আন্দ্রে রাসেল ফিরলে তাঁকে বাদ পড়তে হতে পারে। সেসব মাথায় রেখেও পরিষ্কার চোখে দেখছেন, ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে দিল্লি ক্যাপটালসের বিপক্ষে নিজেদের রোডম্যাপ। 

জয়ের পর অধিনায়ক এউইন মরগানের অভিনন্দন পেলেন সাকিব, পশ্চাৎপটে হতাশ বেঙ্গালুরু অধিনায়ক বিরাট কোহলি

‘যে প্রক্রিয়ায় আমরা এতদূর এসেছি, সেটিই আমরা অনুসরণ করব। আবুধাবি বা ইউএইতে আসার পর থেকে আমরা তো নকআউট পরিস্থিতিতেই আছি। সব চ্যালেঞ্জ আমরা একটা একটা করে পার করে এসেছি।’ তা পরিবর্তনটা কোথায় হলো? সাকিব পরিবর্তন দেখছেন নিজেদের ওপর বিশ্বাসে, ‘সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হলো, আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাওয়াটা। এতে করে কেউ আমাদের হালকাভাবে নিতে পারছে না।’

অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখানো অলরাউন্ডারের কাজ। সাকিব যেমন কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচ জিতিয়েছেন,  তেমনি খেলায় বড় প্রভাব রেখেছেন সুনীল নারিন। বল হাতে ২১ রানে ৪ উইকেট শিকারের পর ব্যাট হাতে ১৫ বলে তাঁর ২৬ রান। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতেই। কেকেআর দলে জায়গা নিয়ে মূলত নারাইনের সঙ্গেই লড়াই সাকিবের। কিন্তু নারিনের প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিয়েছেন সাকিব, ‘গতকাল সুনীল অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। তো বোলিং-ব্যাটিং দুটিতেই। দিনটাই ছিল তার।'

নারিনের তুলনায় রান-উইকেটে অনেক পিছিয়ে, তবে ছোট্ট ইনিংসটার গুরুত্ব মনে রাখলে দিনটা একটু হলেও সাকিবেরও ছিল, কী বলেন?

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন