২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

রেকর্ড গড়েও কি তৃপ্ত হতে পারলেন সাকিব!

উৎপলশুভ্রডটকম

১৭ অক্টোবর ২০২১

রেকর্ড গড়েও কি তৃপ্ত হতে পারলেন সাকিব!

লাসিথ মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক হওয়ার জন্য সাকিবের দুই উইকেট লাগত। সাকিব দুই উইকেটই পেলেন ম্যাচে। কিন্তু তাঁর রেকর্ড গড়ার দিনেই ম্যাচটা হেরে গেল বাংলাদেশ। অর্জনের আনন্দটাও ফিকে হয়ে যাচ্ছে এখানে।

রেকর্ডটা যে তাঁরই হবে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন ছিল না কোনো। তাই 'কবে হচ্ছে' প্রশ্নটাই দেখা দিয়েছিল বড় হয়ে। অবশেষে জানা গেল তারিখটা। ২০২১ সালের ১৭ অক্টোবর ঢুকে গেল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে। লাসিথ মালিঙ্গাকে টপকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডটা তো এদিনই নিজের করে নিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। অবশ্য সেই রেকর্ড গড়ার আনন্দটা মিলিয়ে গেছে ম্যাচ শেষে, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ রানে হেরেই যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিশন শুরু হলো বাংলাদেশের।

ক্ষণগণনা শুরু হয়েছিল সেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকেই। ৯৫ উইকেট নিয়ে সিরিজ শুরু করা সাকিব সেই সিরিজ শেষে থেমেছিলেন ১০২ উইকেটে। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেটের মাইলফলকে ছুঁয়েছিলেন ওই সিরিজেই। এমনিতে রেকর্ড বইয়ের কোথায় কী ঘটে গেল, সেটা নিয়ে খোঁজ-খবর না রাখলেও এই রেকর্ডটা যে জানা ছিল তাঁর, সাকিব নিজেই জানিয়েছিলেন সেটা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজের পরিসংখ্যানটা অস্ট্রেলিয়ার মতো হলেও হতো, লাসিথ মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্যে তো ৬ উইকেটই লাগত। কিন্তু সাকিব পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। লাসিথ মালিঙ্গার সঙ্গে দূরত্বটা নামিয়ে এনেছিলেন ১ উইকেটে।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে তাই ফের অপেক্ষার শুরু। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে সপ্তম ওভারে বোলিংয়ে এসেছিলেন প্রথমবারের মতো। নিজের প্রথম দুই ওভারে উইকেট পাননি কোনো, তবে দু'ওভার মিলিয়ে ৮ রানের বেশিও অবশ্য দেননি। নিজের তৃতীয় ওভারে রান দিলেন মাত্র ১, আর ওই ওভারেই ইতিহাস। প্রথমে রিচি বেরিংটনকে লং-অন বাউন্ডারিতে ক্যাচ বানালেন আফিফ হোসেনের, মাঝে এক বল বিরতি দিয়ে শূন্যতেই ফেরালেন মাইকেল লিস্ককে। খবর হলো সর্বত্র, 'আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন সাকিব আল হাসানের'।

মালিঙ্গাকে ছাড়িয়ে যেতে সাকিবকে অবশ্য ম্যাচ বেশি খেলতে হয়েছে পাঁচটি। সাকিব ওভারও বেশি করেছেন প্রায় ৩০টি। সাকিবের ১৮.৩ স্ট্রাইক রেটের বিপরীতে মালিঙ্গার প্রতি উইকেট পেতে লেগেছে ১৬.৮ বল। ম্যাচে ৪ উইকেট যদিও সাকিবের বেশি (মালিঙ্গা ৪ উইকেট পেয়েছেন একবার, সাকিব চারবার), তবে মালিঙ্গা ম্যাচে ৫ উইকেট পেয়েছেন দুবার, সাকিবের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা এক।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আরও বেশ কয়েক বছর খেলবেন বলেই আশা। মালিঙ্গার সঙ্গে ব্যবধানটাও নিশ্চিত করেই বাড়বে আরও। তবে রেকর্ডটা সাকিবেরই থাকবে কি না, সেটা নিয়ে শঙ্কা থাকছেই। সাকিব-মালিঙ্গার পরের নামটা টিম সাউদির। বাংলাদেশের বিপক্ষে কিউইদের গত হোম সিরিজেই শহীদ আফ্রিদির ৯৮ উইকেট ছাড়িয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ম্যাচ ২৬ অক্টোবর, একাদশে থাকলে সেদিনই উইকেটের তিন অঙ্কে পৌঁছে যাওয়ার কথা সাউদির। মাইলফলক ছুঁতে তো আর মাত্র এক উইকেটই লাগে।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে উইকেটের সেঞ্চুরি করা চতুর্থ বোলারের দেখাও মিলতে পারে এবারের বিশ্বকাপেই। সাকিব সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডটা কতদিন নিজের কাছে রাখতে পারবেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেও ওই চতুর্থজনের কারণেই।

এমনিতেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আধুনিকতম বিজ্ঞাপন তিনি। বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে খেলে বেড়াচ্ছেন সব ফ্র‍্যাঞ্চাইজি লিগে। আর এর পেছনে যে পারফরম্যান্স ছাড়া আর কোনো প্রভাবক নেই, সেটাও বোঝা যাচ্ছে পরিসংখ্যানে তাকিয়েই।  ৫১টা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেই তাঁর উইকেটসংখ্যা ৯৫। বল করেছেন ১৯৩ ওভার। বোলিং গড়টা তো রীতিমতো বিস্ময় জাগায়, মাত্র ১২.৬৩! অবশ্য বিস্ময় তো তাঁর ইকোনমি রেটও জাগায়, মাত্র ৬.২১! সংখ্যাটা কত ভালো, তা বোঝাতে সম্পূরক তথ্য হিসেবে জুড়ে দেওয়া যায়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কমপক্ষে ৫০ উইকেট নিয়েছেন, এমন বোলারদের মধ্যে তাঁর চেয়ে ওভারপ্রতি কম রান দিয়েছেন মাত্র দুজন। নামটা তো আপনার বুঝেই যাওয়ারই কথা এতক্ষণে, না গেলেও রশিদ খানের মুখটাই আপনি কল্পনা করে নিয়েছিলেন বোধ হয়।

নিজের ২৩ বছর পূর্ণ করলেন গত সেপ্টেম্বরেই, সাকিবকে ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা উঠছে সে কারণেই। তা সেটা যেদিন ছাড়িয়ে যাবেন, সেদিনই দেখা যাবে। আপাতত সাকিবের অর্জনটাই উদযাপন করা যাক। অবশ্য সাকিব উদযাপন করার মতো মানসিক অবস্থায় আছেন বলে মনে হয় না।

এই অর্জনে লাভ কী হলো, যেখানে ম্যাচটাই জেতা গেল না!

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×