অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল

‘তাহলে তো আমি ওয়ানডে-টেস্ট দল থেকেও বাদ!’

উৎপল শুভ্র

২৫ ডিসেম্বর ২০২১

‘তাহলে তো আমি ওয়ানডে-টেস্ট দল থেকেও বাদ!’

পায়ের ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছিলেন, পরে যোগ হয়েছে আঙুলের ইনজুরি। সেটিও দুই দফায়। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ মাস বাংলাদেশ দলের বাইরে তামিম ইকবাল। মাঝখানে আবার অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নিজেই। তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব মূলত সেই প্রসঙ্গ এবং তাঁর টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ নিয়ে।

উৎপল শুভ্র: প্রথম প্রশ্নটা আপনার সাম্প্রতিক অবস্থাটা নিয়েই করি। পাঁচ মাসেরও বেশি আপনি বাংলাদেশ দলের বাইরে। এর আগে কি এতদিন বাইরে থেকেছেন কখনো?

তামিম ইকবাল: না, আমি এক মাসের বেশি কোনোদিন, কোনো সময় বাইরে ছিলাম না গত ১৪ বছরে। 

উৎপল শুভ্র: এক্সপেরিয়েন্সটা তো ভালো হওয়ার কোনো কারণ নেই। এর সঙ্গে আবার ইনজুরিও ছিল। একটু যদি বলতেন এই সময়টা নিয়ে...

তামিম ইকবাল: একেবারে ডিফারেন্ট এক্সপেরিয়েন্স। বলা ভালো, ভেরি ফ্রাসটেটিং এক্সপেরিয়েন্স। কারণ, প্রথমে একটা ইনজুরি ছিল। ওটার একটা টাইমলাইন ছিল। আমি জানতাম যে, এতদিনের মধ্যে ঠিক হয়ে যাব। ওটা আমি আল্লাহ-আল্লাহ করে রিকভার করে খেলা শুরু করলাম। খেলা শুরু করার এক সপ্তাহ-দশ দিনের মধ্যে আবার ইনজুরি। এটা আরও ফ্রাসটেটিং ছিল..এই পাঁচ মাসে এমনও অনেক দিন গেছে, আমার মন-টন এত খারাপ ছিল যে, আমি কিছুই করিনি। প্রথম ইনজুরিতে পড়ার সময় আমি জানতাম কবে ফিরব। ওই সময়ে আমি ফিজিক্যাল ফিটনেস, অন্য সব কিছু মেইনটেইন করে যাচ্ছিলাম যে, আর বেশিদিন নাই, আমি আবার খেলা শুরু করতে পারব। আবার ইনজুরিতে পড়ার পরের এক মাস...কী বলব...আমি ইনজুরিতে ছিলাম, আবার ইনজুরিতে পড়লাম...ওই এক মাস ওয়াজ ভেরি ফ্রাসটেটিং ফর মি। তারপর নিজেকে তুলে নিয়ে আবার ফিটনেস-টিটনেসের কাজ করা...এখন তো ব্যাটিং শুরু করছি। এই পাঁচ মাস খুব কঠিন ছিল।

হ্যাঁ, অনেকে শুনে একটু অবাক হতে পারে যে ফ্যামিলি টাইম, এই টাইম, ওই টাইম এসব পেয়েছি...হ্যাঁ, সবই ভালো ছিল। বাচ্চাদের সময় দিতে পেরেছি, সবই ঠিক। বাট এন্ড অব দ্য ডে আমি সবসময় একটা কথা বলি, ‘আমার প্রথম ভালোবাসা ক্রিকেট। তারপর সবকিছু’। আপনি যখন আপনার পছন্দের জিনিসটা করতে পারবেন না, তখন আপনি কিন্তু এমনি ফ্রাসট্রেটেড হয়ে যাবেন। এই পাঁচ মাসটা আমার কাছে যদি এক শব্দে বলতে বলেন তাহলে ‘ফ্রাসট্রেটিং’। 

এখন আবার নেটে ব্যাটিং শুরু করেছেন তামিম ইকবাল। ছবি: বিসিবি

উৎপল শুভ্র: এই সময়টা কি কিছু শিখিয়েছে? খেলাটাকে, জীবনকে অন্যভাবে দেখা...অনেক মানুষের অনেক কথা-বার্তা আশেপাশে...সব মিলিয়ে এটা তো আপনার জন্য একেবারেই নতুন একটা অভিজ্ঞতা। জীবন সম্পর্কে, ক্রিকেট সম্পর্কে নতুন কোনো রিয়ালাইজেশন?

তামিম ইকবাল: রিয়ালাইজেশন এটাই যে, আমি ক্রিকেটার। আমি যতদিন ক্রিকেট খেলব, আমার মর্যাদাও সবচেয়ে বেশি থাকবে। আমি ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দিলে জানি না কতটুকু থাকবে কি থাকবে না। ক্রিকেট খেলাটাই সবচেয়ে বেশি ইম্পর্ট্যান্ট। এটাই আমার শিক্ষা এই পাঁচ মাসে। 

উৎপল শুভ্র: এটা কি বলা যায়, এক অর্থে অবসর-পরবর্তী জীবনের একটা মিনি কোর্স হয়ে গেল আপনার? মানে, তখন জীবনটা কেমন হতে পারে, তার একটা ধারণা...

তামিম ইকবাল: না, পোস্ট রিটায়ারমেন্টে কী হবে দেখা যাক...। ওটা আলাদা।

উৎপল শুভ্র: তা তো আলাদাই। এবার তো আপনি যেমন জানতেন, সবাই-ও জানত, আপনি ফিরে আসছেন। 

তামিম ইকবাল: দুইটা ডিফারেন্ট ইস্যু। একটা হলো, রিটায়ারমেন্ট যখন হয়ে যাবে, তখন খেলা নিয়ে আমাকে ভাবতে হবে না। আবার অন্য সবকিছু, যেমন আমার নেক্সট লাইফটা কেমন থাকবে...আমি বিজনেস করব, বা ক্রিকেটের সাথে ইনভলব থাকব, বা কমেন্ট্রি করব...হোয়াটএভার হোয়াটএভার হোয়াটএভার...। এটা একেবারেই আলাদা ব্যাপার। তবে ক্যারিয়ারের সময় যখন আপনি খেলবেন না, তখনকার অভিজ্ঞতাটা ইজ নট ভেরি নাইস। খেলতে থাকাটাই সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট। যখন আপনি খেলতে থাকবেন, ভালো খেলতে থাকবেন, চারপাশের সবকিছুই তখন সুন্দর লাগে। 

উৎপল শুভ্র: আচ্ছা, আপনি যে হঠাৎ নেপাল চলে গেলেন খেলতে, ওই অভিজ্ঞতাটা একটু শুনি। কারণ আপনার মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নেপালে খেলতে যাওয়াটা তো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার না... 

তামিম ইকবাল: প্রথমেই বলে নিই, আমরা যখন দেশের বাইরে খেলতে যাই, ফাইনান্সিয়ালি বেনিফিটেড হতে চাই বলেই যাই। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন অফার আসে, যেটাতে আমার কাছে মনে হয় আমি ফাইনান্সিয়ালি অতটা বেনিফিটেড হবো না বা ক্রিকেটটাও অত ভালো হবে না, সেখানে যাওয়া হয় না। তবে নেপালের ব্যাপারটা ছিল অন্যরকম। আমি প্রথম ইনজুরিতে পড়ার পর তো আমি টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে খেলার কথা চিন্তা করছি, ঠিক আছে? যখন ইনজুরির টাইমলাইনটা শেষ হলো, মেডিকেল ডিপার্টমেন্ট বলল, আমি এখন ক্রিকেট খেলতে পারি, ওই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো ক্রিকেট ছিল না। তখনই নেপালের প্রস্তাবটা এলো, ফাইনান্সিয়ালি যে খুব আহামরি ডিল ছিল, তা না। এরকম হয়তো বা ভবিষ্যতে এলে আমি আর যাবও না। কিন্তু ওই মুহূর্তে আমার জন্য খেলায় ফিরে আসাটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট ছিল। কারণ কিছুদিন পরই ওয়ার্ল্ড কাপ। তখন আমি এই ডিসকাশনটা মেডিক্যাল ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে করলাম। ওরা বলল, ‘পারফেক্ট। এটা তোমার জন্য বেস্ট হবে, তুমি ওয়ার্ল্ড কাপে যাওয়ার আগে ৫টা ম্যাচ খেলতে পারবে। বুঝতে পারবে, তোমার পায়ের কী অবস্থা।’

ওই চিন্তায় আমি ঠিক করি যে, আমি নেপালে যাব। যখন ওখানকার টিম আমাকে অ্যাপ্রোচ করল, তখন আমি ওদের বললাম, ‘হ্যাঁ আমি যাব’। কন্ট্রাক্টও সাইন করলাম। তারপর ওয়ার্ল্ড কাপের যে ইনসিডেন্টটা হলো...আমি পুল আউট করলাম ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে। তারপর সত্যি কথা, ওই টুর্নামেন্টে খেলার কোনো মানে ছিল না। কিন্তু যেহেতু আমি প্রমিজ করেছিলাম তাদেরকে, ওরা খুব আশা করে ছিল যে, আমি যাব, এ কারণেই কমিটমেন্টটা ভাঙতে চাই নাই। এই কারণে যাওয়া, আর কোনো কিছু না।

উৎপল শুভ্র: বুঝতে পেরেছি। তো আপনার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে নেপালে নিশ্চয়ই খুব কৌতূহল ছিল সবার। ওরা জানতে চায়নি, ঘটনা কী?

তামিম ইকবাল: সবাই খুবই সারপ্রাইজড ছিল। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন ছিল, কেন খেলছি না। প্রত্যেক মানুষকে বসে বোঝানো তো ইমপসিবল ছিল যে, আমি কেন খেলছি না। যে কারণে এ নিয়ে আমি বেশি কথা বলতে চাইনি কারও সাথে। বাট দ্যাট কোয়েশ্চেন ওয়াজ ভেরি কমন ইন নেপাল। অন্যান্য দেশ থেকে যেসব খেলোয়াড় এসেছিল, ওরা সবাই-ও একই প্রশ্ন করেছে। তো আমি আসলে এই কোয়েশ্চেনকে বেশি এন্টারটেইন করিনি। 

উৎপল শুভ্র: এই প্রশ্ন তো আমাদের মনে এখনও আছে। আপনি ভিডিওতে এসে যেটা বলেছিলেন, সেটা তো আর আসল কারণ হতে পারে না। পেশাদার খেলোয়াড় তো ইনজুরির কারণে বাইরে ছিলেন বলে কাউকে দলে জায়গা ছেড়ে দেয় না। এটা শুনতে খুব মহান শোনায়, কিন্তু তা কে বিশ্বাস করবে? আপনার সরে দাঁড়ানোর আসল কারণটা কী ছিল?

তামিম ইকবাল: আমি আপনাকে সত্যি বলছি, যে যে কথাগুলো বলেছি, সেগুলোও মিথ্যা না। মানুষের কাছে নিজেকে ভালো দেখানোর জন্য বা ভালো বলার জন্যই বলেছি, তা না। কথাগুলোয় অনেকটা সত্যতা ছিল এবং ইট ওয়াজ ফ্রম মাই হার্ট। তবে এটাও বলব, সাথে আরেক অনেক কিছু ছিল। আমার মনে হয় না, পাবলিকলি ওটা বলা উচিত। এমনকি এখন যে আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি, আমার মনে হয় না, এই জিনিসটা আলোচনা করার দরকার আছে। আপনার সঙ্গে আমার অনেক বছর ধরে সম্পর্ক। একটা জিনিস আপনি খুব ভালো করে জানেন, টিম রিলেটেড অর ক্রিকেট রিলেটেড কিছু জিনিস আছে, যা আমি কারও সঙ্গেই শেয়ার করি না। আমি আমার খুব কাছের মানুষের সঙ্গেও ওসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করি না। আর আপনার সঙ্গে সম্পর্ক আজকে থেকে না, আমার ক্যারিয়ারের শুরু থেকে। কেউ বুঝুক না বুঝুক, আপনি জিনিসটা বুঝবেন যে ‘না। আসলে ওকে এই প্রশ্ন করে লাভ নেই। কারণ ও কোনোদিন এই জিনিসটা বলবে না।’ কোনোদিন যদি আমি মনে করি, এটা বলা দরকার, তখন বলব। তবে এটাও সত্যি দাদা, যে কথাগুলো আমি বলেছিলাম, এভরিথিং আই মেন্ট ইট...এটা না যে, আমি বলার জন্য বলেছি। 

উৎপল শুভ্র: বুঝেছি। এ নিয়ে আরেকটা প্রশ্ন করেই প্রসঙ্গটা শেষ। আপনি হয়তো জেনেছেন, পড়েছেন বা শুনেছেন যে, ওই ঘটনার পর আমি আমার ওয়েবসাইটে একটা লেখা লিখেছিলাম। যাতে কোচ আপনাকে দলে চাচ্ছিলেন না, এর আগেই প্রচার হয়ে যাওয়া এই কথাটা তো ছিলই, সঙ্গে ছিল যে, ওপেনার হিসেবে আপনি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। রিয়াদ আপনাকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি করেননি, তবে সঙ্গে অন্য তিন ওপেনারকেও চেয়েছিলেন। তারপরও সিলেকশন কমিটি আপনাকে দলে রেখেছিল। কোচ-অধিনায়কের মনোভাব জানার পর আপনার মনে হয়েছে, আপনি টিমে একটু আনওয়ান্টেড হয়ে গেছেন। যে কারণে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর বড় সিদ্ধান্ত...কথাটা কি ঠিক বলেছি? 

তামিম ইকবাল: আমি আপনাকে একটা কথা বলি দাদা, আমি যখন ভিডিওটা করার ডিসিশনটা নিই, তার আগেই সকালে কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ১৫ জন বা ১৬ জন যারা বিশ্বকাপে যাবে, সেই দলটা সাবমিট হয়েছে। আমি খুব ভালো করেই জানতাম, আমি ওই টিমে আছি। নিশ্চয়ই কোনো একটা কারণ ছিল বলেই আমি এই ডিসিশনটা নিয়েছি। যে কথাগুলো আমি (ভিডিওতে) বলেছি, সেগুলো এক কারণ। আরও কিছু কারণ ছিল, যেগুলো আমি কোনো সময় ডিসক্লোজ করব না। কোনো সময় যদি এমন সময় আসে বা সুযোগ পাই, সেদিন বলব।

টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে

উৎপল শুভ্র: বুঝতে পেরেছি। এবার এর সাথে সম্পর্কিত একটা প্রশ্ন করি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি ভালো করত, ওপেনাররা ভালো করতেন, তা হলে হয়তো সবাই আপনাকে এত মিস করত না। কিন্তু তাঁরা যখন ভালো করেনি, তখন কি আপনার মনে হয়েছে, ব্যক্তিগত রাগ-বিরাগ থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আপনার বিশ্বকাপে যাওয়া উচিত ছিল?

তামিম ইকবাল: দেখেন, আমি ক্রিকেটার। এই ফিলিংটা আমার কাছে যদি না-ও আসত, তা-ও আমার খারাপ লাগত। একটা কথা বলি, আমি যখন ইনজুরি থেকে রিকভার করছি, তখন আমি নিজেই সিলেক্টরদের ফোন করে বলেছিলাম যে, ‘দেখেন, আই অ্যাম অ্যাভেইলেবল ফর সিলেকশন। আপনারা পিক করবেন কি করবেন না, সেটা আপনাদের ব্যাপার।‘ আমার যদি প্রথম থেকেই ইচ্ছা না থাকত, তাহলে তো এই কথা বলতাম না। তাই না? আর যে জিনিসটা আপনি বললেন, আমার এক্সপেরিয়েন্স আছে, যারা ওপেন করেছে তাদের চেয়েও বেশি, ট্রু। বাট ওই মুহূর্তে ওরা আমার চেয়ে মোর প্রিপেয়ার্ড ছিল। এই কথাটাই কিন্তু আমি আমার ভিডিওতে বলেছি।

আমার ভিডিওটা যদি আপনি আরো একটু ভালো করে একবার শোনেন...এখানে একটা মিস কমিউনিকেশন হয়েছে অনেক মিডিয়াতে। আমার কথা কিন্তু কখনো এটা ছিল না যে, ইয়াংদের জন্য আমি আমার জায়গা ছেড়ে দিচ্ছি। আমার কথাটা এমন ছিল, ইয়াং যারা আছে, যারা খেলছে, তারা আমার থেকে মোর প্রিপেয়ার্ড। এ কারণেই ইট উইল বি আনফেয়ার টু দেম। এটাই বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে এসেছে যে, আমি প্রিপেয়ার্ড ছিলাম না, আমি এই না, আমি সেই না। আমি এতটুকুই আপনাকে বলি, এই জিনিসটা কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এক থাকা উচিত। আমি দুই সিরিজ-তিন সিরিজ না খেললে আমার ক্ষেত্রে যদি এই প্রশ্নটা ওঠে, তাহলে এটা সবার ক্ষেত্রেই তা এক থাকা উচিত। খালি আমার ক্ষেত্রে এমন হলে সেটা কিন্তু আমার প্রতি আনফেয়ার। 

উৎপল শুভ্র: অবশ্যই। নিয়ম তো সবার জন্যই এক হওয়া উচিত। 

তামিম ইকবাল: যদি তিন সিরিজ না খেললে আমি আনপ্রিপেয়ার্ড হই, অন্য কেউ তিন সিরিজ না খেললে সে-ও আনপ্রিপেয়ার্ড। আমি নিজেই স্বীকার করেছি, আমি আনপ্রিপেয়ার্ড ছিলাম। কিন্তু নিয়মটা তো সবার জন্য এক হওয়া উচিত। আপনি দুইজনকে একভাবে দেখবেন আর একজনকে অন্য চোখে দেখবেন, দ্যাট ইজ আনফেয়ার

পায়ের সমস্যার কারণে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ না খেলে যেদিন দেশে ফিরেছিলেন...এরপর আর মাঠে নামা হয়নি তামিমের

উৎপল শুভ্র: আপনার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার নিয়ে প্রশ্নটা কিন্তু পুরোনো। আপনি প্রায় দুই বছর টি-টোয়েন্টি খেলেন না। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ২০২০ সালের ৯ মার্চ। বোর্ড প্রেসিডেন্ট পাবলিকলিই বলেছেন, আপনি টি-টোয়েন্টি থেকে রিটায়ার করতে চেয়েছিলেন। টি-টোয়েন্টি নিয়ে আপনার চিন্তাটা আসলে কী?

তামিম ইকবাল: লাস্ট যে টি-টোয়েন্টি আমি খেলেছি, দুইটা টি-টোয়েন্টি খেলেছিলাম পাকিস্তানে। শেষ যে জিম্বাবুয়ের সাথে দুইটা টি-টোয়েন্টি ছিল, প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলার পর কোচ এসে আমাকে বললেন যে, তুমি সেকেন্ডটা আর খেলবা না। কারণ আমি জানি, তুমি ওয়ার্ল্ড কাপে যাচ্ছ, আমি অন্য কাউকে চেষ্টা করে দেখতে চাই। ওটাই আমার লাস্ট টি-টোয়েন্টি ছিল। তারপরে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হলো নিউজিল্যান্ডে। আমি যাওয়ার আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম, ব্যক্তিগত কারণে ওয়ানডেগুলো খেলে ফিরে আসব। বেসিক্যালি আমি একটা টি-টোয়েন্টি সিরিজ স্কিপ করেছি। যেটা ছিল নিউজিল্যান্ড। তারপর যে তিনটা টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল... জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড...ওই সময়ে কিন্তু আমার ইনজুরি ছিল।এমন তো না যে, আমি নিজে থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলাম। নিউজিল্যান্ড ছাড়া আমি তো অন্য কোনো টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে সরে আসি নাই। 

উৎপল শুভ্র: তো টি-টোয়েন্টি নিয়ে আপনার পরিকল্পনাটা কী?

তামিম ইকবাল: আমি টি-টোয়েন্টিতে কী করব, না-করব, তাড়াতাড়িই আপনারা একটা ডিসিশন জানতে পারবেন। এক-দুই মাসের মধ্যেই, পরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আসার আগেই। আমি যদি খেলি, তাহলে আমি হান্ড্রেড পারসেন্ট কমিটেড থাকব। আর আমি যদি না খেলি, তাহলে সবাইকে খোলাখুলি জানিয়ে দেব আমি আর খেলছি না। 

উৎপল শুভ্র: এটা কি এমন যে, আপনি সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন, কিন্তু এখন বলতে চাচ্ছেন না? নাকি হাতে যেহেতু সময় আছে, এখনই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না...

তামিম ইকবাল: আমার একটা জিনিস। আমি কোনো সময় লাস্ট মিনিটে ডিসিশন দেই না। আমি যদি কোনো ডিসিশন নেই; সিলেক্টেরস বলেন, ক্রিকেট বোর্ড বলেন, অনেক আগেই তাদের জানাই। আমি নিউজিল্যান্ডে টি-টোয়েন্টি খেলব না, তা নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার আগেই জানিয়েছি। আমি সব সময়ই মনে রাখি, হঠাৎ করে সিদ্ধান্তটা নিলে টিমের ক্ষতি হয়। এ কারণে কখন ডিসিশন নিতে হবে, এ ব্যাপারে আমি খুব সচেতন। ভবিষ্যতেও আমি একই কাজ করব। আমি এমন কোনো ডিসিশন নেব না যে, আমার ডিসিশনের কারণে টিমের এক পার্সেন্টও ক্ষতি হোক।  

উৎপল শুভ্র: মানে আপনি খেলবেন কি খেলবেন না, এটা আগেই জানিয়ে নেওয়ার নীতি মেনে চলেন, টিম যাতে ডিস্টার্বড্ না হয়, এই তো?

তামিম ইকবাল: হ্যাঁ, সব সময়। আমি যে কথাটা বারবার বলতে চাইছি, তা হলো, আমি যদি দুই মাস, তিন মাস বা দুইটা সিরিজও না খেলি, আর আমাকে যদি ধরেন বলা হয়, ‘না, ও তো এই সিরিজ খেলে নাই’; কিন্তু একই প্রশ্ন যদি অন্য দুজনের ক্ষেত্রে তোলা না হয়, তখন আমার মনে তো প্রশ্ন আসে। ব্যাপারটা কী? এটা বলছি না যে, আমাকে ক্রিকেট বোর্ডের কেউ বা সিলেক্টররা এসে বলেছেন, ‘তুই তো দুই সিরিজ খেলোস্ নাই। তোকে নেওয়া যাবে না।’ দে নেভার টোল্ড মি এনিথিং লাইক দ্যাট। আমি ইন জেনারেল কথা বলছি। যখন এটা চলছিল, তখন মিডিয়ায় কিন্তু খুব চলছিল যে, আমি (এতগুলো) সিরিজ খেলি নাই।   

উৎপল শুভ্র: এমন হলে তো তিন সিরিজ বাইরে থাকলে কেউ আর খেলতেই পারবে না কোনোদিন! মাশরাফির ক্যারিয়ার তো তাহলে কবেই শেষ হয়ে যেত! বুঝতে পেরেছি আপনার পয়েন্টটা। 

তামিম ইকবাল: সেটাই। আমি তো এখন ওয়ানডে থেকে ৫০০ হাত দুরে, তাহলে আমি কি বাদ? টেস্ট ম্যাচ থেকেও তো পাঁচ মাস বাইরে। তাহলে তো টেস্ট দল থেকেও আমি বাদ (হাসি)।

(অসমাপ্ত)

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×