ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা নিয়ে কেন এই তিক্ততা?

দুলাল মাহমুদ

৭ জুলাই ২০২১

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করা নিয়ে কেন এই তিক্ততা?

কোপা আমেরিকার ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, এমন সম্ভাবনা জাগতেই দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে গোটা দেশ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও পাবনার মতো কোনো কোনো জায়গায় দু্ই দলের সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনা যারপরনাই ব্যথিত করেছে সাংবাদিক দুলাল মাহমুদকে। বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মাতামাতির ইতিহাস তুলে এনে লেখক তাই অনুরোধই করলেন, প্রিয় দলকে সমর্থন করায় আবেগ থাকতেই পারে, থাকতে পারেে প্রতিদ্বিন্দ্বিতাও, কিন্তু তা যেন সীমা ছাড়িয়ে না যায়।

১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে চোখ ধাঁধানো খেলা উপহার দিয়ে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হলে ফুটবল দুনিয়ায় খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে 'ফুটবলের রাজা' হিসেবে আখ্যায়িত পেলের পাশাপাশি জেয়ারজিনহো, রিভেলিনো, টোস্টাও, গারসন, ক্লদওয়ালদো, কার্লোস আলবার্তো তোরেস প্রমুখের নাম। এই ফুটবল শিল্পীরা সবুজ ঘাসের বুকে লাতিন ঘরানার ছন্দময়, শৈল্পিক ও দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের পসরা সাজিয়ে জয় করে নেন দর্শকের হৃদয়। এর আগে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ব্রাজিল সহজাতভাবেই ফুটবল অনুরাগীদের নজর কাড়ে। এই দুই দলে ছিলেন পেলে, গারিঞ্চা, ভাভার মতো ঐন্দ্রজালিকরা। বল নিয়ে তাঁরা যা খুশি করতে পারতেন। তখন থেকেই এই ফুটবলাররা সম্মোহনী ক্রীড়াশৈলী দিয়ে ছড়িয়ে দেন মুগ্ধতার আবেশ। বিশ্ব ফুটবলে সেরা তারকাদের সারিতে সহজেই স্থান করে নেন তাঁরা।

তবে জোগো বনিতো অর্থাৎ সুন্দর ফুটবলের সত্যিকার জয়গান গেয়েছে ১৯৭০ সালের দলটি। অভিজ্ঞ পেলে ছাড়াও দলটিতে সমাবেশ ঘটেছিল শক্তিমান, দ্রুতগামী, দক্ষ সব ফুটবল প্রতিভার। প্রায় প্রত্যেকের মধ্যে সুপ্ত থাকা জাদুকরী ক্ষমতা দিয়ে প্রদর্শন করেন মায়াবী ও আনন্দদায়ী ফুটবল। এই দলের গতিশীল, কল্পনাপ্রবণ ও উদ্দীপনাময় ফুটবলে নতুন এক স্বাদ পাওয়া যায়। ব্রাজিলীয় এই সৃষ্টিশীল ফুটবলশৈলীর সঙ্গে যুক্ত হয় সাম্বা নৃত্য। এই দুয়ের সমন্বয়ে ফুটবল হয়ে ওঠে অনেক বেশি গ্ল্যামারাস। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এই দলটির সুনাম, সুখ্যাতি ও গৌরব। আন্দোলনে, সংগ্রামে উত্তাল তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান তথা আজকের বাংলাদেশও তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে। যদিও তখন তো আর ঘরে ঘরে টেলিভিশন ছিল না। প্রধানত পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে প্রচারিত হয় ব্রাজিলীয় ফুটবলের সৌন্দর্য ও সৌরভ। মূলত সেই সময় থেকে এই দেশে ব্রাজিলীয় ফুটবলের অনুরাগী গড়ে উঠতে থাকে।

১৯৭০ বিশ্বকাপের সেই জাদুকরী ব্রাজিল দল। ছবি: উইকিপিডিয়া

আশির দশকের শুরু থেকে টেলিভিশনে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার শুরু হলে ব্রাজিলীয় ফুটবলের প্রতি মুগ্ধতা ক্রমশ বাড়তে থাকে। ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপে ব্রাজিল রাঙিয়ে দেয় সবার মন। বিশ্বকাপ না জেতার পরও যে দলটি অমর হয়ে আছে ফুটবল ইতিহাসে। সেই দলে 'দার্শনিক' খ্যাত সক্রেটিসের নেতৃত্বে ছিলেন জুনিয়র, জিকো, ফ্যালকাও, সার্জিনহো, সেরেজো, এডারের মতো সুন্দর ফুটবলের পূজারিরা। কিন্তু সেই দলটিই ইতালির পাওলো রসির ম্যাজিকের কাছে হার মেনে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেয়!

মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেললেও তাঁরা জয় করে নেন ফুটবল অনুরাগীদের হৃদয়। তাঁদের ছিল অপার কল্পনাশক্তি, স্টাইল, মাধুর্য ও সহজাত ফুটবল দক্ষতা। যে কারণে পরাজিত এই দলটির প্রতি ফুটবল রসিকদের চিরকালীন একটা ভালো লাগা ও মমত্ববোধ গড়ে ওঠে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার, সেই দশকে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাফল্য ছিল না। কিন্তু তারপরও 'দ্য বিউটিফুল ফুটবল'-এর কল্যাণে দলটি পেয়েছে মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা। দর্শক সমর্থনের বিচারে অন্তত বাংলাদেশে এই দলের কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না।

বিশ্বকাপ না জেতা সবচেয়ে সুন্দর দল, ১৯৮২ বিশ্বকাপের ব্রাজিল। ছবি: অলস্পোর্ট

তবে টেলিভিশনে সরাসরি খেলা দেখতে পাওয়ায় দর্শকদের রুচির পরিবর্তন ঘটতে থাকে। নানান ঘরানার ফুটবলে মজে গিয়ে একটু একটু করে অন্য দলের প্রতিও দুর্বলতা গড়ে উঠতে থাকে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল যুগান্তকারী এক পরিবর্তন নিয়ে আসে। প্রচলিত ধারার ক্ষেত্রে বড় ধরনের একটা ধাক্কা দেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা নামে আর্জেন্টিনার এক 'ফুটবল ঈশ্বর'। ফুটবল দলগত খেলা হলেও একজন ফুটবলার যে কতটা ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হয়ে আসেন তিনি। সেই দলে ছিলেন সার্জিও বাতিস্তা, হোর্হে ভালদানো, হোর্হে বুরুচাগা, অস্কার রুগেরি, নেরি পম্পিদোর মতো ফুটবলাররা। আর্জেন্টিনা দলের সবাইকে তো বটেই, সেই বিশ্বকাপে দুনিয়ার তাবৎ ফুটবলারদের ম্লান করে দিয়ে তিনি খেলেছিলেন অত্যাশ্চর্য, অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক এক ফুটবল।

বিশেষ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য দুটি গোল দিয়ে আঘাত করেন ইংলিশ আভিজাত্যে। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রথম যে গোলটি করেন, তা নিয়ে বিতর্ক আজও থেমে নেই। রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে ধূর্ততার সঙ্গে বাঁ হাতের যে তেলেসমাতি দেখিয়েছেন, তিনি নিজেই ওই গোলের নামকরণ করেছিলেন 'হ্যান্ড অব গড'। এই গোলের রেশ ফুরিয়ে যেতে না যেতেই দ্বিতীয় যে গোলটি করেন, তা একজন ফুটবলারের সর্বোচ্চ সক্ষমতার উদাহরণ হয়ে আছে। একক নৈপুণ্যে মধ্যমাঠ ও রক্ষণভাগের পাঁচ জনকে কাটিয়ে গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে ঘোল খাইয়ে যেভাবে গোল করেন, ফিফার ভোটে সেটি 'গোল অব দ্য সেঞ্চুরি' হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বিপরীতমুখী এই দুই গোল দিয়ে ম্যারাডোনা সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন। আর তাতে বাড়তি তাৎপর্য যোগ করে চার বছর আগে সংঘটিত আটলান্টিক মহাসাগরের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে এই দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধ।

সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও ম্যারাডোনা দারুণ দুটি গোল করে দলকে নিয়ে যান ফাইনালে। ফাইনালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে গোল করতে না পারলেও জয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেন। বিশ্বকাপে পাঁচ গোল দেওয়া ছাড়াও দলের অন্য অনেক গোলের উৎস ছিলেন তিনি। অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ হাতে নেওয়ার পর তিনি হয়ে ওঠেন ফুটবলের অবিসংবাদিত এক মহানায়ক। এরপর ম্যারাডোনা এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল দুনিয়ায় আলাদা অবস্থান করে নেয়। ১৯৭৮ সালে ড্যানিয়েল প্যাসারোলার নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা প্রথম চ্যাম্পিয়ন হলেও ফুটবল দুনিয়ায় স্থান করে নিতে পারেনি। কিন্তু ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা শুধু তা-ই করেনি, কোটি মানুষের হৃদয়েও ঢুকে যায়।

ম্যারাডোনা এবং আরও দশজনের আর্জেন্টিনা জিতেছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপ। ছবি: উইকিপিডিয়া

এরপর থেকে দ্রুতগতিতে বেড়ে যায় আর্জেন্টিনার সমর্থন। আর এ ক্ষেত্রে সবাইকে টেক্কা দেয় বাংলাদেশ। ব্রাজিলের বিপরীতে গড়ে ওঠে আর্জেন্টিনার সমর্থক গোষ্ঠী। ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপের পর এই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে রেষারেষিও শুরু হয়। সেবার ম্যারাডোনার অসাধারণ পাস থেকে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার গোলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে ব্রাজিলকে ছিটকে দেয় আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচের পর থেকে নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করার জন্য শুরু হয় দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে ঘোরতর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, তবে তা শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে নয়। তখন অবশ্য তেমন সুযোগও ছিল না। আড্ডায়, আলোচনায় তর্ক-বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। খুব বেশি হলে খানিকটা মন কষাকষি হয়েছে। বরং দেখনদারির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে অনেক বেশি। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার পতাকায় পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো দেশ। পতাকার সংখ্যা, আকার, দেওয়াল লিখনসহ নানাভাবে সমর্থক হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে চাউর ও সুসংহত করার চেষ্টা চলে। সেই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। এছাড়াও পেলে আর ম্যারাডোনার শ্রেষ্ঠত্বকে কেন্দ্র করে বিরোধিতার ঝাঁজ ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য লাতিন আমেরিকার প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে ফুটবল খেলা নিয়ে অনেক আগে থেকেই বিদ্যমান রয়েছে তিক্ত সম্পর্ক। আর সময় সময় সেই তিক্ততাকে উসকে দিয়েছেন পেলে এবং ম্যারাডোনা স্বয়ং। তার রেশ ধরে বাংলাদেশেও দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তাপ-উত্তেজনা বেড়েছে।

১৯৯০ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উন্মাদনা তুঙ্গে পৌঁছায়। খেলার শেষ মুহূর্তে আন্দ্রেস ব্রেমার পেনাল্টি গোলে জার্মানির কাছে হেরে যায় ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। এই পরাজয় মেনে নিতে পারেননি বাংলাদেশের আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। রাগে-ক্ষোভে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে ফেলা হয় টিভি সেট। উরুগুইয়ান বংশোদ্ভূত মেক্সিকান রেফারি অ্যাডগার্ডো কোডেসালের' কালো হাত' ভেঙে দেওয়া ও ফাঁসির দাবিতে মিছিল পর্যন্ত হয়। এই দাবির স্বপক্ষে একাত্মতা ঘোষণা করেন সরকারের মন্ত্রীদের কেউ কেউ এবং তাঁরা ম্যারাডোনাকে বাংলাদেশে আনার কথাও জানান। বিশ্ব মিডিয়াতেও বিষয়টি স্থান করে নেয়। অথচ এই খেলার ফল নিয়ে আর্জেন্টিনাতেও এমন তোলপাড় হয়নি।

১৯৯০ ফাইনালের পর চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বদলে আর্জেন্টিনার সমর্থক বৃদ্ধি পায় হু হু করে। ছবি: গেটি ইমেজেস

এখন তো ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের লড়াইয়ের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। দুই তারকা লিওনেল মেসি আর নেইমারকে নিয়ে ট্রলের শেষ নেই। একে অপরকে ঘায়েল করার জন্য যুক্তির চেয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কুযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কখনো কখনো উদ্ভট সব তথ্য দিয়ে তীব্র ব্যঙ্গোক্তি করা হয়, যার সঙ্গে বাস্তবতার হয়তো কোনো সম্পর্কই নেই। প্রতিপক্ষকে কিভাবে বিব্রত, জ্বালাতন ও মানসিকভাবে যন্ত্রণা দেওয়া যায়, সেটাই হয়ে ওঠেছে প্রধান লক্ষ্য। এ থেকে বিবাদ, বিদ্বেষ এমনকি শত্রুতামূলক মনোভাব গড়ে উঠছে। একটা সময় ঢাকার ফুটবলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং আবাহনী লিমিটেডের সমর্থকদের মধ্যে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিরোধিতা ছিল, সেটাই যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিরে এসেছে ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনাকে কেন্দ্র করে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পৃথিবীটা চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। বিশ্বায়ন হয়েছে যোগাযোগ ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে। কিন্তু এর কুফলও কম নয়। এই মাধ্যমে বিদ্বেষের বিষ উগরে দিচ্ছেন অনেকেই। যেকোনো বিষয়ে কেউ বিরোধিতা বা অসমর্থন জানালে তাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। তারপর আক্রমণ করা হচ্ছে উগ্রভাবে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ সরাসরি ঘোষণা দেন, 'তুমি হয় আমাদের পক্ষে, নয়তো বিপক্ষে।' এই মনোভাবটা যেন অনেকের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে। যে কারণে সমাজে একটা অস্থিরতা তৈরি হয়। তার রেশ ধরে অনেক সময় বড় ধরনের অঘটনের ঘটনাও ঘটছে।

সমর্থন আলাদা হতেই পারে, তবে সৌহার্দ্যটা যেন বজায় থাকে। ছবি: গেটি ইমেজেস

তবে এটাও তো ঠিক, দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাই যখন ফুটবল খেলার আনন্দ-উচ্ছ্বাস, তখন প্রতিপক্ষকে হুল ফোটানোর এমন মোক্ষম সুযোগ পেয়ে কি আর চুপ করে থাকতে পারেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কাররা? মজা পাওয়ার জন্য সেটা তাঁরা করতেই পারেন। তার জন্য তো পরিমিতিবোধ থাকতে হবে। অকারণে বা অপ্রাসঙ্গিকভাবে অন্যকে মানসিকভাবে আঘাত করা কিংবা হেয় করা শোভনীয় হতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো কিছু করা হলে তা তো আর দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা চোখের পলকেই সর্বত্রই ছড়িয়ে যায়। সেক্ষেত্রে কোনো কিছু করার আগে সবার আগে প্রয়োজন বোধ-বুদ্ধি-বিবেচনা প্রয়োগ করা। কথায় আছে না, 'ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না'।

ফুটবল খেলা যে নিছক একটা বিনোদন, সেই বোধ সমর্থকদের থাকতে হবে। তা থাকে না বলেই ভিন্ন গোলার্ধের দুই দেশের পক্ষ নিয়ে হিংসাত্মক মনোভাব পোষণ করা হচ্ছে, যার সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা সাংস্কৃতিক কোনো সম্পর্কই নেই। নিছক বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করা, নেতিবাচক এই মনোভাব পরিত্যাগ করতে পারলে দেশ ও দশের জন্যই মঙ্গলজনক হতে পারে। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা খেলার মাঠে সৃষ্টিশীল, নান্দনিক ও আনন্দদায়ক ফুটবলের ক্যানভাস সাজিয়ে যেভাবে জয় করে নেন ভক্ত-অনুরাগীদের হৃদয়, তেমনিভাবে দুই দলের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ কিংবা অন্য মাধ্যমে সৃজনশীলতার চর্চা করে প্রতিপক্ষকে অপ্রতিভ বা অভিভূত করে দিয়ে ভারি করতে পারেন নিজের সমর্থনের পাল্লা। সেটাই হতে পারে সমর্থকদের আনন্দ বা বেদনার মাপকাঠি।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×