`একটি বা দুটি বিশ্ব রেকর্ডের ওপর ভর করে জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায় না`

উৎপল শুভ্র

১১ এপ্রিল ২০২১

`একটি বা দুটি বিশ্ব রেকর্ডের ওপর ভর করে জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায় না`

ছবি: অলস্পোর্ট

জীবনে আর কোনাে ইন্টারভিউয়ের জন্য এমন যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি। আর কোনাে ইন্টারভিউ করার পর এমন আনন্দেও ভেসে যাইনি। ১৯৯৫-এর অক্টোবরে শারজায় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যেটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ব্রায়ান লারা। বেশিদিন হয়নি, টেস্টের পর ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটেও সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন। লারার একটা ইন্টারভিউ তখন সব ক্রিকেট সাংবাদিকেরই তাই পরম চাওয়া। পরম চাওয়া বলেই তা পাওয়াটাও ছিল খুব কঠিন, যেটির জন্য ঘুরছি জেনে ভুক্তভােগী অনেক সাংবাদিকই এই পণ্ডশ্রম থেকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছে। তাতে কান না দিয়ে লেগে ছিলাম বলেই হয়েছিল ইন্টারভিউটা। ইন্টারভিউ না পেলে চাকরি চলে যাবে—এই মিথ্যা কথাটারও সামান্য ভূমিকা ছিল তাতে!

উৎপল শুভ্র: প্রথমে বলুন, সবার ওপরে থাকার অনুভূতিটা কেমন? আপনি বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান, সবচেয়ে বিখ্যাত ক্রিকেটার—এটা ভাবতে কেমন লাগে?

ব্রায়ান লারা: আমি জানি না, আমি বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান কি না, তবে গত দুবছর ক্রিকেট সত্যি আমার প্রতি সদয় ছিল। দারুণ একটা সময় কেটেছে আমার। কিছু মাইলফলক অর্জন করতে পারাটাও খুব আনন্দের ব্যাপার। আমার শুধু একটাই আশা, ক্যারিয়ারের বাকি সময়টায় যেন একই রকম ফর্ম ধরে রাখতে পারি।

শুভ্র: কিন্তু ওই রেকর্ডগুলাের অবশ্যম্ভাবী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে নিশ্চয়ই আপনার ওপর চাপটাও অনেক বেড়ে গেছে। আপনি যখনই ব্যাট করতে যান, শুধু সেঞ্চুরি নয়, আরও বড় স্কোর আশা করে সবাই।

লারা: হ্যাঁ, সেই চাপ তাে আছেই। তবে তা সব সময় ছিল। সবচেয়ে শুরুত্বপূর্ণ হলাে, আমি যখন ব্যাট করতে নামি, বাকি সবকিছু ভুলে নিজেই কোনাে লক্ষ্য নির্ধারণ করে নিই। আমি জানি, মানুষ বড় কিছু প্রত্যাশা করছে। সেই প্রত্যাশার চাপটার সঙ্গে তাে মানিয়ে নিতেই হবে। তবে সেসব ভুলে গিয়ে আমি নিজেই নতুন নতুন লক্ষ্য ঠিক করি এবং সেটি অর্জন করাটাই আমার সাধনা হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাটিং করার সময় আর কিছুই মনে থাকে না।

শুভ্র: এই বয়সেই তাে সব পাওয়া হয়ে গেছে আপনার। আর বিশেষ কোনাে স্বপ্ন আছে, যা পূরণ করতে চান?

লারা: আমার আসল স্বপ্ন সব সময়ই আমার দলকে ঘিরে, সেটা যখন যে দলের বিপক্ষেই খেলি না কেন! ব্যক্তিগত কোনাে লক্ষ্য কখনােই আমার কাছে মুখ্য নয়। আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষেই খেলি বা আমার দেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগাের পক্ষে, সব সময়ই দলের সাফল্যটা আমার কাছে সবচেয়ে বড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে যখন খেলি, একটাই স্বপ্ন থাকে আমার, দীর্ঘ একটা সময় আমরা যেখানে ছিলাম, সেই শীর্ষে টিকে থাকার জন্য লড়াই করা।

শুভ্র: জানি, এ প্রসঙ্গে কথা বলতে বলতে আপনি হয়তাে বিরক্ত হয়ে গেছেন। তারপরও প্রশ্নটা না করে উপায় নেই। মাঝখানে বেশ কিছুটা সময় কেটে যাওয়ার পর এখন যখন ৩৭৫ রানের ওই ইনিংসটার দিকে ফিরে তাকান, কেমন লাগে? ওই ইনিংসটা নিশ্চয়ই পাল্টে দিয়েছে আপনার জীবন!

লারা: হ্যাঁ, সত্যিই এটা আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে। তবে এরপর প্রায় দেড় বছর কেটে গেছে। জীবন তাে থেমে থাকে না এবং আপনিও একটি বা দুটি বিশ্ব রেকর্ডের ওপর ভর করেই জীবন কাটিয়ে দিতে পারবেন না। এরপর আমি আরও অনেক ইনিংস খেলেছি এবং একটা কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, সর্বশেষ ইনিংসটি দিয়েই বিচার হবে আপনার। ইউ আর অ্যাজ গুড অ্যাজ ইয়াের লাস্ট ইনিংস। এটা মনে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি বারবার শুধু অতীতে ফিরে গিয়ে বলতে পারেন না যে, আমি ৩৭৫ করেছি, আমি ৫০১ করেছি, তাই আমি একজন গ্রেট প্লেয়ার। পুরাে ক্যারিয়ারে আপনি কী করলেন, শেষ পর্যন্ত বিচারটা হবে তা দিয়েই। আপনি কত রান করেছেন, কতটা কনসিসট্যান্ট ছিলেন, ক্যারিয়ার শেষে এটাই দেখবে সবাই ।

শুভ্র: অনুমান করে নিচ্ছি, ওই ৩৭৫-ই আপনার সবচেয়ে স্মরণীয় ইনিংস। কিন্তু আপনার সেরা ইনিংসের স্বীকৃতিও কি এটিই পাবে?

লারা: কোনাে সন্দেহ নেই, আমি খুব উপভােগ করেছি ওই ইনিংসটা। ইনিংসটাও খুব ভালাে ছিল। তবে আমার প্রথম যে টেস্ট সেঞ্চুরিটা, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৭৭, আমি ওরকম ইনিংস বারবার খেলতে চাই। ৩৭৫ আর ২৭৭, এই দুটি ইনিংসকেই আমি সমান মূল্য দিতে চাই। 'ফাইভ ও ওয়ান' ইনিংসটাকেও আমি খুব ভালাে মনে করি। হতে পারে, তা টেস্ট ক্রিকেটে নয়, তবে রানগুলাে তাে বােলারদের বিপক্ষেই করতে হয়েছে। আসলে আমি আলাদা করে একটি ইনিংস বেছে নিতে পারব না। আমি আমার সব ভালাে ইনিংসকেই যেমন মনে রাখি, তেমনি মনে রাখি খারাপগুলােকেও।

৩৭৫-য়ের স্কোরবোর্ডের সঙ্গে। ছবি: গেটি ইমেজেস

শুভ্র: টেস্ট ও ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডের পর বাকি শুধু ওয়ানডের রেকর্ডটা। দুদিন আগে সেটিও তাে প্রায় হয়েই গিয়েছিল (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৯ রান করেছিলেন) । ওয়ানডের বিশ্ব রেকর্ড থেকে মাত্র ২০ রান দূরে আউট হয়ে যাওয়ায় নিশ্চয়ই খুব হতাশ হয়েছিলেন।

লারা: ওয়ানডে ক্রিকেটে সবকিছু এত তাড়াতাড়ি ঘটে যায়, তাৎক্ষণিকভাবে তেমন ভাবারও সুযােগ থাকে না। ওই ইনিংসট্যর কথা উঠলেই সবাই বলবে, আহা রে, মাত্র ২০ রানের জন্য বিশ্ব রেকর্ডটা হয়নি। তবে ওটা করার জন্য আমার হাতে সারা দিন পড়ে ছিল না, ছিল মাত্র চার-পাঁচ ওভার। আবারও আমি ওই কথাটাই বলব, আমার ব্যাটিংয়ে দলের কতটা লাভ হলো, সেটাই বড় কথা। আমি ব্যাট করতে নামি আমার দলের জন্য। আমি যত বেশি রান করব, দলের ততই লাভ–ব্যাটিং করতে নামার সময় শুধু এটাই মাথায় থাকে আমার। বিশ্ব রেকর্ড কিছু নয়। আমি ওদিন আরও রান পেলে অবশ্যই ভালাে হতাে। দুর্ভাগ্য যে, আউট হয়ে গেছি! নইলে ১৮৯, ১৯০ অথবা কে জানে, ওয়ানডে ইন্টারন্যাশনালে হয়তাে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিও করে ফেলতে পারতাম। তবে দিনশেষে সবচেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলাে আমরা ৪ রানে জিতেছি। আমি এতেই খুশি।

শুভ্র: তাহলে এটাই কি আপনার পরবর্তী লক্ষ্য, প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করা?

লারা: আমি কোনাে দিন ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করিনি, কোনাে দিন করবও না। তবে যদি সুযােগ আসে, এটা করতে পারলে খুশি হব আমি ।

শুভ্র: সামান্য কদিনের মধ্যে ওই দুটো বিশ্ব রেকর্ড রাতারাতি সেলিব্রেটিতে পরিণত করেছে আপনাকে। আপনি আর আগের ব্রায়ান লারা নন। যেখানেই যান ভক্তদের ভিড়, ইন্টারভিউপ্রার্থী সাংবাদিকদের লাইন। কেমন লাগে এতে?

লারা: ইট হ্যাপেনস। যখন আপনি এমন কিছু করবেন, এটা হবেই। খেলাটা দর্শকদের জন্য, মিডিয়ার কাভারেজের জন্য। আমি যতটা সম্ভব ফ্রেন্ডলি থাকতে চাই সবার সঙ্গে। যত বেশি সম্ভব, সন্তুষ্ট করতে চাই সবাইকে। কিন্তু সত্যিটা হলাে, বছর দুয়েক ধরে এটা আসলেই খুব কঠিন হয়ে উঠেছে। আমি অভিযােগ করছি না, এসব একজন খেলােয়াড়ের জীবনের অংশ। সব স্পাের্টস পারসনই তাে এটা চায়। যদি কোনাে স্পাের্টসম্যান বলে যে, সে নিভৃতে থাকতে পছন্দ করে, সে সেকেন্ড বেস্ট হতে চায়, তাহলে সে স্পাের্টসম্যানই নয়। সব স্পাের্টসম্যানই লাইম লাইটে থাকতে চায়। সে যা করে, তাঁর স্বীকৃতি চায়।

শুভ্র: কিন্তু এই বয়সেই এমন খ্যাতি, জীবনের সব কিছু আপনার হাতের মুঠোয়, এতটা নিশ্চয়ই কোনাে দিন কল্পনা করেননি।

লারা: আই ডােন্ট নো। তবে এটা বলতে পারি, আমি যেদিন ক্রিকেটকে আমার ক্যারিয়ার হিসেবে ভাবতে শুরু করেছি, সেদিন থেকেই আমি সেরাদের একজন হতে চেয়েছি, টপ ক্লাস একজন খেলােয়াড় হতে চেয়েছি, কখনােই সেকেন্ড বেস্ট হতে চাইনি। তারপর যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি, তখন ভালাে করার চেষ্টার সঙ্গে সঙ্গে তা এনজয়ও করতে চেয়েছি। এতটা ভেবেছিলাম কি না বলতে পারব না, তবে এটুকু বলতে পারি, আমি সব সময়ই সেরা হতে চেয়েছি।

শুভ্র: যখন খেলা শুরু করেছিলেন, কোনাে আইডল ছিল আপনার?

লারা: আমি যখন ছােট, সত্তরের দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার রয় ফ্রেডরিকসকে খুব পছন্দ করতাম। এরপর খেলাটা যখন ভালােমতাে বুঝতে শুরু করলাম, তখন একেকজনকে একেক কারণে ভালাে লাগত। গর্ডন গ্রিনিজকে তাঁর টেকনিকের জন্য, ডেসমন্ড হেইন্সকে টেম্পারামেন্ট ও ধৈর্যের জন্য, ভিভ রিচার্ডস যেভাবে কর্তৃত্ব করতেন সে জন্য। আমি এদের সবার কাছ থেকেই ভালাে জিনিসগুলাে শিখতে চেষ্টা করেছি।শৈশবে হিরো মানতেন রয় ফ্রেডেরিকসকেই। ছবি: অলস্পোর্ট হাল্টন

শুভ্র: আপনি যাঁদের খেলা দেখেছেন, তাদের মধ্যে সেরা ব্যাটসম্যানের স্বীকৃতি দেবেন কাকে?

লারা: আমি যাঁদের খেলা দেখেছি এবং পরে যাদের সঙ্গে খেলেছি, তাঁদের মধ্যে নিঃসন্দেহে সেরা ভিভ রিচার্ডস। যেমন খেলােয়াড়, তেমনি ছিল তাঁর ব্যক্তিত্ব। সব মিলিয়ে একজন টপ খেলােয়াড়ের যা থাকা উচিত, সব ছিল তাঁর। আমার মনে হয় না, আর কেউ তাঁর উচ্চতায় যেতে পেরেছে।

শুভ্র: বিশ্বের কোনাে বােলারই আপনাকে খুব সমস্যায় ফেলতে পারে বলে মনে হয় না। তারপরও এমন কাউকে বেছে নিতে পারেন, যাঁর বিপক্ষে খেলতে সবচেয়ে সমস্যা হয়েছে আপনার?

লারা: ওয়াসিম আকরাম খুব ভালাে বােলার। সব দলেই ভালাে বােলার আছে। ইংল্যান্ড পেয়েছে ডমিনিক কর্ককে। আসলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব বােলারকেই আপনার সমীহ করতে হবে। কেউ যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা টেস্ট ক্রিকেট খেলে, তখন তাঁকে ভালাে বলে মানতেই হবে। প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু শক্তির দিক আছে। ব্যাটিংয়ের সময় সবাইকেই রেসপেক্ট করতে হবে ।

শুভ্র: সেটি করাই নিয়ম। কিন্তু আপনি যখন ব্যাট করেন, সব বােলারকেই যে খুব সাধারণ মানের মনে হয়।

লারা: আমার মনে হয়, আমার সব ইনিংস আপনি দেখেননি। নইলে অনেক সময় তাে এমনও হয়, বােলাররাই আমাকে নামিয়ে আনে সাধারণ মানে। যেদিন সবকিছু আমার পক্ষে যায়, সেদিন হয়তাে খুব সহজ মনে হয় ব্যাটিংটা। কিন্তু মাঝে-মধ্যে এমন দিন আসে, যখন আমাকেও খুব সাধারণ মানের ব্যাটসম্যান মনে হয়।

শুভ্র: নিশ্চয়ই অসংখ্য কমপ্লিমেন্ট পেয়েছেন আপনি। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় কোনটি?

লারা: কমপ্লিমেন্ট! এসব নিয়ে আমি সত্যিই ভাবি না। আপনি যখন বিশেষ কিছু করবেন, মানুষ আপনাকে কমপ্লিমেন্ট দেবেই।

শুভ্র: কিন্তু তা যদি বিশেষ কারও কাছ থেকে আসে, তাহলে তাে সেটি মনে একটু আলাদা হয়ে থাকার কথা।

লারা: আমার জীবনের সেরা কমপ্লিমেন্ট সেগুলােই, যা এসেছে আমার পরিবারের কাছ থেকে। আমার বাবা, আমার মা, আমার বােন—আমরা সবাই খুব ভালাে বন্ধু। তাদের কাছ থেকে, আমার পরিবারের কারও কাছ থেকে যদি কোনাে কমপ্লিমেন্ট পাই, সেটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আমার সেরা কমপ্লিমেন্ট। কারণ আমি জানি, এতে কোনাে ভনিতা নেই, ওটি তাঁদের মনের কথা। আমার খারাপ সময়েও ওরা আমার পাশেই থাকে। ওরা কোনো কমপ্লিমেন্ট দিলে আমি বুঝি, আমাকে খুশি করার জন্য কিছু বলছে না।

শুভ্র: আপনার ক্যারিয়ার গড়ায় কি তাহলে আপনার পরিবারেরই সবচেয়ে বেশি অবদান?

লারা: আমার তাে মনে হয়, সবারই তা-ই। পরিবার থেকে সাপাের্ট না পেলে যে কারও পক্ষেই সফল হওয়াটা খুব কঠিন। আমার পরিবার সব সময়েই আমার পাশে থেকেছে, সমর্থন দিয়েছে। আজ আমি যা কিছু সাফল্য পেয়েছি, সবই তাঁদের জন্য।গলফে লারার তখনো খুব আগ্রহ ছিল, এখনো আছে। ছবি: গেটি ইমেজেস

শুভ্র: ক্রিকেট খেলার পর হাতে খুব বেশি সময় থাকে না আপনার। তার পরও প্রশ্নটা করি, অবসরে কী করেন?

লারা: সত্যিই হাতে খুব সময় থাকে না। যেটুকু থাকে, আমি ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করি। অনেকটা সময় গলফ কোর্সে কাটাই, গলফ খেলতে ভালােবাসি আমি। যখন ক্রিকেট খেলি, যতটা সম্ভব একনিষ্ঠ থাকি, তাই বাকি সময়টা রিল্যাক্স করতে চাই। বই পড়ি, লােকজনের সঙ্গে অন্য দশজনের মতােই একজন হিসেবে মিশতে ভালাে লাগে ।

শুভ্র: ফ্যানদের কাছ থেকে নিশ্চয়ই প্রচুর চিঠি পান। সাধারণত কী লেখে তারা?

লারা: বেশির ভাগ চিঠিই অটোগ্রাফের জন্য অনুরােধ । কেউবা ছবি চেয়ে পাঠায়। আমি যতটা পারি, উত্তর দিই।

শুভ্র: এবার একটু অন্য রকম একটা প্রশ্ন। ধরুন, আপনার সঙ্গে ডিনার করতে তিনজনকে আমন্ত্রণ জানাবেন আপনি। কারা হবে সেই তিনজন?

লারা: আর্নি এলস্ (গলফার), মাইকেল জর্ডান (বাস্কেটবল খেলােয়াড়) ও মাইকেল জ্যাকসন (পপ গায়ক)।

শুভ্র: আপনার স্বপ্নের দিনটি কেমন? কী করতে চান সেদিন?

লারা: সকালে ঘুম থেকে উঠব, ব্রেকফাস্ট করব। এরপর লর্ডসে গিয়ে একটা হান্ড্রেড ... না, না, একটা ডাবল সেঞ্চুরি করব। গলফ খেলতে যাব এরপর,পার্টনার থাকবে আর্নি এলস। গলফ কোর্স থেকে ফিরে বাকি সময়টা কাটাব আমার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে।

শুভ্র: বাংলাদেশে ওয়াসিম আকরাম, নিল ফেয়ারব্রাদার ও রিচার্ড ইলিংওয়ার্থের মতাে ক্রিকেটাররা খেলেছেন। আপনাকে অফার দেওয়া হলে আপনি কি বিবেচনা করবেন?

লারা: দেখুন, ক্রিকেট আমার জীবিকা। একসময় খেলার আনন্দেই খেলতাম, তবে এখন এটা আমার চাকরির মতাে। বিশ্বের যেকোনাে জায়গায়ই খেলতে পারি আমি। তবে তা নির্ভর করে অনেক কিছুর ওপর। সময়, আইসিসির নিয়ম ইত্যাদি। এ নিয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। আমি শুনেছি, অনেক টপ প্লেয়াররাই বাংলাদেশে খেলতে যায়। তবে আমাকে এখনাে কেউ আমন্ত্রণ জানায়নি।

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×