অধিনায়ক মাশরাফি, নেতা মাশরাফি

উৎপল শুভ্র

২০ আগস্ট ২০২১

অধিনায়ক মাশরাফি, নেতা মাশরাফি

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সফলতম অধিনায়ক। যাঁর নেতৃত্বগুণ পৌঁছে গেছে প্রায় মিথের পর্যায়ে। সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব সেই অধিনায়কত্ব নিয়েই আলোচনা। মাশরাফির অধিনায়কত্ব-দর্শন, কী কী চ্যালেঞ্জ ছিল, কীভাবে তা জয় করেছেন, এর আগে নিজেকে কীভাবে বদলে ফেলেছেন...সব মিলিয়ে যেন `হাউ টু বি আ ক্যাপ্টেন` শীর্ষক এক কর্মশালা।

বিষয় অধিনায়কত্ব

শুভ্র: নেতৃত্বগুণটা আপনি কোত্থেকে পেয়েছেন বলে মনে হয়? এটা কি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া?

মাশরাফি: বিশ্বাস করেন, এটা নিয়ে আমি কোনো দিন ভাবিইনি। আর আমার মধ্যে এটা আছে কি না, খোঁজার চেষ্টা করিনি, আর জানিও না ওটা আদৌ আছে কি না।

শুভ্র: আমি জানি, আছে। সবাই জানে। 

মাশরাফি: কী বলব, আমি আসলে এসব নিয়ে কখনো ভাবিনি। জীবন নিয়েই আমি খুব ভাবি না। কাল আমার জীবনে কী আছে আমি জানি না, ভাবিও না। আমার ছেলেমেয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা। ভাবিই না। অনেকে বলে না যে, ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবা জ্ঞানীর কাজ, আমি তা ভাবতেই পারি না। টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছি, ৩০ সেকেন্ড সময় লাগেনি আমার ভাবতে। নেব তো নেবই। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। আমার মধ্যে নেতৃত্বের গুণ আছে কি নেই, দুই বছর কেটে যাবে এ নিয়ে ভাবতে গেলে। আসলে আমি কী বা কী রকম, তা নিয়ে ভাবি না। তবে নিজেকে আমি খুব ভালো বুঝি। এটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। নিজেকে খুব ভালো চিনি আমি। যেমন ধরেন, কোনো একটা কাজ যদি আমি করি, কাজটা ঠিক না বেঠিক, তা আমি ভালো বুঝি। আমি মাশরাফি এই কাজটার উপযুক্ত কি না, এটা আমি বুঝে ফেলি।

লাল সবুজ যখন আরও প্রতীকি হয়ে ওঠে

শুভ্র: সুনির্দিষ্টভাবে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে আসি, অধিনায়ক মাশরাফিকে যদি ব্যাখ্যা করতে বলি... 

মাশরাফি: টোটালি গাটস্ ফিলিং। আমার মন যা বলে, সেটাই করি। এর বাইরে কিচ্ছু করি না। মানে তাৎক্ষণিকভাবে আমার মাথায় যা আসে, আমি তা-ই করি। এমন না যে, খুব ভেবেচিন্তে কাজটা করছি। কিছু বুনিয়াদি জিনিস তো অবশ্যই থাকে। ক্রিকেট খেলতে খেলতে আপনি অনেক কিছু শিখবেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সেসব তো মাথায় থাকেই।

শুভ্র: অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল? 

মাশরাফি: ছেলেদের বিশ্বাস করানো যে, আমরা জিততে পারি। এই দলে আমার চেয়ে কেউ বেশি হারেনি। কত বাজেভাবে হারা যায়, সবই দেখেছি আমি। আবার জেতার আনন্দও দেখেছি। তাই আমার মনে হয়েছে, জেতার আনন্দ ওরা যখন বুঝবে, তখন ওদের ভেতরে জয়ের তীব্র ইচ্ছাও আসতে শুরু করবে। ভেবেছি, জেতার আনন্দটা পেতে হবে, সেটা যে দলের বিপক্ষেই হোক। আমরা যেমন জিম্বাবুয়েকে দিয়ে শুরু করছি (ডিসেম্বর ২০১৪)। একবার জেতা শুরু করলে আপনি আরও জিততে চাইবেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটা জিতলাম, দুটো জিতলাম, তিনটে...সিরিজ জেতার পর মনে হলো, পরের দুটোও জিতব, আমরা ৫-০-তেই জিতলাম। ছেলেরা একটা কিছু অনুভব করতে শুরু করল। এরপর যখন বিশ্বকাপ খেলতে যাই, আমি বিশ্বাস করেছি যে, আমরা বিশ্বকাপ জিততে যাচ্ছি। কয়েকজনকে বলেছিও, এই দল বিশ্বকাপ জিততে পারে। এই সামর্থ্য আছে আমাদের। ঠিক সময়ে আমাদের দিনটা ভালো হলে আমরাই বিশ্বকাপ জিততে পারি। ক্রিকেটে এই হয়ে আসছে। না হলে দক্ষিণ আফ্রিকা যে দল নিয়ে প্রত্যেকবার বিশ্বকাপে যায়, তাতে প্রতিবার ওদেরই জেতার কথা। আমার মনে হয়, এ জন্যই আমরা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পেরেছি—ওই বিশ্বাস ছিল বলে। বিশ্বকাপে ছেলেদের বলেছিলাম—অন্য দলের কেউ যদি তোমাদের কিছু বলে, পাল্টা জবাব দেবে। আমি যা চেয়েছি, তা হলো চোখে চোখ রেখে খেলো। ওরা পাঁচটা কথা বললে অন্তত তিনটার জবাব দাও। এটা অন্য বড় দলকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ওরা তো আমাদের কাছ থেকে এমন ব্যবহার পেতে অভ্যস্ত নয়। এটা একটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। আসলে আমরা যেখানে পিছিয়ে ছিলাম, সেটা হলো মানসিকতা। আমাদের মনে বিশ্বাস ছিল না।

অধিনায়ক মাশরাফি

শুভ্র: বছরের পর বছর, ম্যাচের পর ম্যাচ হারার অভিজ্ঞতার পরও আপনার মধ্যে ওই বিশ্বাস কীভাবে এল? 

মাশরাফি: আমি গড়পড়তা অধিনায়কত্ব করতে চাইনি। পেয়েছি, যে কদিন পারি করব—এ রকম করতে চাইনি। প্রথম দুবার অধিনায়ক হওয়ার পর ইনজুরিতে পড়েছি। তৃতীয়বার তাই অধিনায়কত্ব করতেই চাইনি। আমাকে যখন বলা হলো, আমি প্রস্তুত ছিলাম না। একেবারেই না। আব্বাকে বললাম, আব্বা, অধিনায়ক হওয়ার পর আমার তো দুবার ইনজুরি হয়েছে, আবারও ওই রকম একটা ভয় থেকেই যায়। দুবার অধিনায়ক হয়ে দুবারই ম্যাচের মধ্যে মাঠে পড়ে বসে গেছি। আর কত! নিরিবিলি খেলে যাই। কিন্তু আব্বা বললেন, তুমি অধিনায়কত্ব নাও। সেটা এক ম্যাচ হলেও নাও। আব্বা যখন বললেন, তাঁর সিদ্ধান্তে আর ‘না’ করিনি। আর অধিনায়কত্ব নেওয়ার পরে একটা প্রতিজ্ঞা করেছি, গড়পড়তা অধিনায়কত্ব আর করব না। বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেছি, এক বছর করেছি, ছয় মাস করেছি, করে চলে গেছি—ওই রকম কিছু করব না।

শুভ্র: মানে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব যেমন বলেছিলেন, পৃথিবীতে এসেছিস, একটা দাগ রেখে যা...

মাশরাফি: হ্যাঁ। সে জন্য সবার আগে আমি নিজেকে বদলে ফেলতে চেষ্টা করছি।

শুভ্র: সেটা কী রকম? 

মাশরাফি: ধরেন, প্র্যাকটিসে বলেন বা ম্যাচে, নিজে যে জিনিসটা করতে চেয়েছি, সবার সামনে একটা উদাহরণ দাঁড় করানো। সব ব্যাখ্যা করে বলা যাবে না। এটা দেখার বিষয়। ওই জিনিসগুলো হয়তো একটা খেলোয়াড় ঠিকই বুঝেছে। আমি যখন অন্য কাউকে বলব যে, তুই এটা কর, তখন আগে আমার ঠিক হতে হবে। আমার হাজার সমস্যার মধ্যেও আমি চেষ্টা করছি। আমার জন্য কাজটা সহজ ছিল না। পায়ে সময় সময় ব্যথা করে। তারপরও আমি একটা স্ট্যান্ডার্ড ধরে রাখতে চেয়েছি। কারণ, আমি পড়ে গেলে ওরা পড়ে যাবে।

শুভ্র: মানে অন্য খেলোয়াড়েরা যেন দেখে আপনি সব সময় শতভাগ দিচ্ছেন... 

মাশরাফি: হ্যাঁ। তখন আমি একটা কিছু বললে সবাই শুনবে। আমি মাঠে পারফর্ম না করতে পারি, কিন্তু প্র্যাকটিসে যদি চেষ্টা করি, ওরা তো তা দেখবে। ওরাও যদি প্র্যাকটিসটা ওভাবে করে, ওদের চিন্তাভাবনা ওই পর্যায়ে থাকে, তখন হবে। তারপর একে একে আমরা নিজেরা আলাপ করছি, কথা বলছি আমরা আসলে কেমন, আমরা জিততে পারি কি না। একেকজন একেক রকম ভাবে। কেউ বলে, ভালো খেলতে চাই। কিসের ভালো খেলতে চাই? এক রানে হারাও যা, ১০০ রানে হারাও তা। ভালো খেলে লাভ কী? জিততে হবে। জিততে পারব কি না, এটা বলো। ভালো খেলতে চাই বলে কী লাভ? আমি যদি ১ রানে হারি আর ৫০০ রানে হারি, পার্থক্য কী? মানুষ বলবে, লজ্জা পেয়েছ। লজ্জা আবার কী, খেলাধুলায় আবার কিসের লজ্জা! বিশ্ব রেকর্ড হচ্ছে না, আমাদের সঙ্গেই হয়নি! আমার বিপক্ষে হয়েছে না বিশ্ব রেকর্ড? তো, আমি কি লজ্জায় ঘুরে বেড়াচ্ছি নাকি! আমার কথা হচ্ছে, আমি খেলতে নামছি, দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে নামছি—আমার দ্বিতীয় কোনো চিন্তাই থাকবে না, আমরা জিততেই নামব। ভালো খেলে হারলেও আমি আপসেট থাকব, খারাপ খেলে হারলেও আপসেট থাকব। খারাপ খেলে জিতলেও হ্যাপি হব, ভালো খেলে জিতলেও হ্যাপি হব। এটাই হবে নিয়ম। এর বাইরে কোনো নিয়ম নেই।

নিজেকে বদলে ফেলতে হয়েছে আগে

শুভ্র: অধিনায়ক হিসেবে বা নেতা—এমন কেউ কি আছে, যাঁর কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি শিখেছেন... 

মাশরাফি: আমি আসলে প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে কমবেশি মেশার চেষ্টা করি, তা সে যে শ্রেণিরই হোন। তবে আমি উঁচু শ্রেণিকে খানিকটা এড়িয়ে চলি। মানে সমাজে যাঁরা নেতৃত্বে আছেন। ওঁদের প্রতি আমার সম্মান আছে, তবে ওই সমাজে আমি স্বচ্ছন্দ বোধ করি না। এমন না যে, আমি ভাবি ওঁরা আমার যোগ্য নন বা এমন নয় যে ওঁদের আমি ঘৃণা করি। আসলে আমি নিজেই ওঁদের যোগ্য কি না, এ বিষয়ে আমার মনে একটা দ্বিধা থাকে। ভাবি যে, আমিই হয়তো বা এই জায়গার যোগ্য নয়। এ জন্য দেখবেন, অনেক সময় আমি অনেক জায়গায় থাকি না। আমার জগতেই থাকি আমি। আর শেখার কথা যদি বলেন, শেখার শেষ নেই। অনেকের কাছেই অনেক কিছু শিখেছি। তবে আলাদা করে বলতে পারব না কার কাছ থেকে কী শিখেছি।

শুভ্র: একটা সময় ছিল, যখন সবাই ধরেই নিত বাংলাদেশ হারবে। অধিনায়কের ওপর চাপও ছিল কম। এখন সব ম্যাচেই মানুষ জয় আশা করে। তাই চাপও এখন অনেক বেশি, তাই না? 

মাশরাফি: না, আমি কোনো চাপ নিই না। তৃতীয়বারের মতো অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর শুরু থেকেই আমি একে ম্যাচ বাই ম্যাচ নিয়েছি। আমার একটা সুবিধা হলো, খেলাকে কখনো জীবন ভাবিনি। প্রচণ্ড ভালোবাসি, এটা ছাড়া টিকে থাকাও কঠিন। সবই ঠিক আছে। কিন্তু এটাও মেনে নিয়েছি যে, একদিন আমাকে খেলা ছাড়তে হবে। এটাই বাস্তবতা। এটা আমার মাথায় সব সময় আছে। শচীনকে সুযোগ দিলে তো এক শ বছরই খেলত। ওঁর থেকে তো আর আমি বেশি না। তিনি যেভাবে ক্রিকেট খেলেছেন, তাঁর থেকে বেশি আমি খেলতে পারিনি। তবে হ্যাঁ, হয়তো তাঁর চেয়ে বেশি ভালোবাসতেও পারি। কে জানে! আমি শুধু ভাবি, আমি একটা দায়িত্ব পেয়েছি, যত দিন থাকি, কাজটা যেন সততার সঙ্গে করতে পারি।

জিতব...জিতব...

শুভ্র: জিততে পারে বলে বিশ্বাস নেই, এমন একটা দলকে এমন নতুন একটা কথা বললেন, বললেন জয়ী হতে হবে, খেলোয়াড়েরা এটি কীভাবে নিয়েছিল? এভাবে ভাবতে তো অভ্যস্ত ছিল না তারা...  

মাশরাফি: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সিনিয়ররা এটা কীভাবে নিচ্ছে। ওরা খুব ভালোভাবে নিয়েছে। এটা ছিল ভালো ব্যাপার। আমি প্রথমেই তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি এবং তারা আমাকে পূর্ণ সহায়তা করেছে। ‘হ্যাটস অফ টু দেম’। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, এমন তো নয় যে এটা আমি আমার জন্য চাচ্ছি। এটা আমি সাকিবের (সাকিব আল হাসান) জন্য চাচ্ছি, তামিমের (তামিম ইকবাল) জন্য চাচ্ছি। আমাদের দলের লক্ষ্য যেটা, তার দিকে তাকাচ্ছি। তাই এখানে কে কী ভাবল, তা নিয়ে আমার মাথা ঘামানোরই দরকার নেই। তুমি যদি এটা মন থেকে নিতে না চাও, তুমি চলে যেতে পারো। দিন শেষে আমাদের লক্ষ্য হলো, আমরা একটা ম্যাচ জিতে বের হব। এটা কারও ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়। আমার লাভের জন্য কিছু করছি না। যাকে বলছি, এতে তারও তো ভালো। সবার ভালো, দেশের মানুষেরও ভালো। এখানে ব্যক্তিগত বলে কিছু নেই।

 তখন দলে নবীন সৌম্য সরকারের সঙ্গে

শুভ্র: তারপরও এই বিশ্বাস সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া তো সহজ হওয়ার কথা নয়... 

মাশরাফি: ভালো জিনিস হচ্ছে, আমাদের কিছু উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটার আছে। আর আমরা সবাই জানি, ছোটবেলায় আপনি যে শিক্ষা দেবেন, সেটা কেউ সহজে ভোলে না। তো, ওরা জাতীয় দলে এসে যখন ওই কথা শুনবে, ওদের মাথায় শুধু ওই কথাই ঘুরপাক খেতে থাকবে যে, জিতব-জিতব-জিতব...। ওরা যদি দলে এসে শোনে যে, ভালো খেলব-ভালো খেলব...ওটাই মাথায় ঢুকে থাকবে যে, আমরা ভালো খেলব। আমি ৩০ রান করেছি, ভালোই তো খেলেছি। এসবে কী হয়, আমি ভালো করে জানি। সৌম্য (সৌম সরকার) দলে এসেছে, হয়তো বাজে আউট হয়েছে। এটা কোনো শট হলো? এটা বাইরে বলার দরকার নেই। ওর মুখের ওপর বলো। আমার ব্যাটিং নিয়েই আমাকে সবাই ধুয়ে দিয়েছে না! ছেলেপেলেরা এখনো ধুয়ে দেয় না! এমনও বলছে, ভাই, এখানে আপনি এইটুকু রান করতে পারেন না! আমি এটাকে ভালোভাবে নিয়েছি। আমি এটাই চেয়েছি যে, তুইও আমারে বল। আরে, আমি তো ভুল করেছি, আমাকে কেন বলবে না! আমি অধিনায়ক বলে? এটা হতে পারে না। জুনিয়রদের আমি আগে কথা বলতে দিয়েছি। বলেছি, মুখ ব্যাজার করে আছিস কেন, কথা বল। ভুলভাল যাই বলিস, বল। বলতে হবে তোর কথা। এই সংস্কৃতিটা খুব ভালো ফল দিয়েছিল ওই সময়। যে-ই ভুল করছে, তাৎক্ষণিকভাবে না জানলেও ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এক-দুই দিনের মধ্যে ওটা জানতে পারছে। সিনিয়র কেউ হলে হয়তো এভাবে বলছে, ভাই, জুনিয়র হিসেবে বলছি, ওই সময় আপনি এটা করলেই পারতেন।

শুভ্র: তার মানে আপনি চেয়েছেন দলে এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে, যেখানে সবাই যা মনে হয় তা নির্দ্বিধায় বলতে পারে, তাই তো?  

মাশরাফি: হ্যাঁ, সবাই যেন নিজেকে এক্সপ্রেস করতে, মানে তুলে ধরতে পারে। আর দলে এসেই যেন ওই প্যাচপ্যাচানি না শোনে যে, ভালো খেলব, আমার রান আমি করব। সবার যেন মাথায় থাকে—দলই সব। আমি বলতে আমার দল।

চলবে...

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×