`নিজের কাছে পরিষ্কার থাকাটাই আসল কথা`

উৎপল শুভ্র

২১ আগস্ট ২০২১

`নিজের কাছে পরিষ্কার থাকাটাই আসল কথা`

সাত-সাতবার হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করার পরও ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়াকে যদি বিস্ময়কর না বলেন, তাহলে বুঝতে হবে, আপনি বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতাই সম্ভবত হারিয়ে ফেলেছেন। কিভাবে পারলেন মাশরাফি? এই প্রশ্ন দিয়ে শুরু সাক্ষাৎকারের তৃতীয় পর্বে মাশরাফির জীবনের অদ্ভুত কিছু ঘটনা, বিতর্ক, ২০১১ বিশ্বকাপে বাদ পড়াটাকে কেন পরে শাপে বর বলে মনে হয়েছে এমন আরও সব প্রসঙ্গ।

প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০১৭। প্রথম আলো ঈদ সংখ্যা।

শুভ্র: দুই হাঁটুতে সাতবার অস্ত্রোপচারের পরও আপনার ক্রিকেট খেলে যাওয়াটাকে শারীরবিজ্ঞানের এক বিস্ময় বলে মনে হয় আমার কাছে। এই যে বারবার এত কষ্ট করে ফিরে এসেছেন, কখনো কি মনে হয়নি, ধুর, সব ছেড়েছুড়ে দিই... 

মাশরাফি: না। এমন যে কখনোই মনে হয়নি, তা নয়। তবে যখন চিন্তা করি, এটা তো আমার পেশা নয়, এটা আমার প্যাশন, তখন নতুনভাবে উজ্জীবিত হই; আর প্যাশন ছেড়ে থাকা খুব কঠিন। পেশা ছেড়ে থাকা যায়, প্যাশন ছেড়ে থাকা যায় না। আপনি টাকা না হলে চলতে পারবেন, কিন্তু মন ছাড়া চলতে পারবেন না। আমার কাছে জিনিসটা ওই রকম। না হলে আমি যদি এখন খেলা ছাড়ি, জানি, আরও বেশি আয় করব আমি। কিন্তু ওটা তো আমার পেশা হয়ে গেল, প্যাশন নয়। আমার কাছে টাকা অত গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনটা আমার ভালো লাগে।

মাঠে চোট পেয়ে প্রথম বেরিয়ে যাওয়া। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে। ছবি: আবদুল হান্নান

শুভ্র: প্রায় সবার জীবনেই তো এমন কিছু ঘটে, যা জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। আপনার জীবনের এমন কোনো ঘটনার কথা কি বলতে পারেন? 

মাশরাফি: দুই-তিনটে আছে। এর মধ্যে প্রথমটা ঘটেছে, যখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি, তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছিলাম। মনে আছে, আমার মাথার নিচে একটা বড় পাথর ছিল। মানে মাথাটা আরেকটু গেলেই ঘিলু-টিলু বের হয়ে যেত আমার। এই ঘটনা জীবনে আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। মনে হয়েছে, আমি তো মরেই যেতাম!

শুভ্র: তখন আপনার বয়স কত? 

মাশরাফি: ১০ বছর।

শুভ্র: ওই ঘটনা কি আপনাকে অনেক দিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে? 

মাশরাফি: এখনো চিন্তা করি। চিন্তা করি যে, আমি কীভাবে বেঁচে আছি। দ্বিতীয় যে ঘটনার কথা বলব, তা হলো ২০১১ বিশ্বকাপ আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ওই সময় আমি খেলা ছেড়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছিলাম। মনে হয়েছিল, আর কিসের জন্য খেলব! একটা স্বপ্ন ছিল, দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলব। সেটাই যখন হলো না, তাহলে আর কী জন্য খেলা? ওই বিশ্বকাপের সময়ই আমার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী আইসিইউতে (হাসপাতালের নিবিড পরিচর্যা কেন্দ্র) যায়, ১১ দিন ছিল সেখানে। ২৪ ব্যাগ মতো রক্ত লেগেছিল। একজন মানুষকে আমি ভুলতে পারিনি, তাঁকে খুঁজি এখনো। আমি মোহম্মদপুরে অবস্থিত রেড ক্রিসেন্টে গেলাম, প্লাজমা দরকার ছিল। আমার স্ত্রীর অপারেশন হবে ১২টার সময়। তখন বাজে ১০টা। প্লাজমা প্রস্তুত করতে সময় লাগে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। তো, মোহাম্মদপুরে রেড ক্রিসেন্টের যে ব্লাডব্যাংক, ওখানে যাওয়ার পরে একটা লোক, ওনারও বাসার কেউ অসুস্থ। প্লাজমা ছিল একটাই। আমাকে দেখে চেনার তিনি পরে বললেন, ‘আপনার কি ইমিডিয়েটলি লাগবে?’ আমি বললাম, ‘দুই ঘণ্টা পরে আমার স্ত্রীর অপারেশন।’ তিনি বললেন, ‘আমার তো ১০-১২ ঘণ্টা পরে লাগবে। আপনি এটা নিয়ে যান। আমি আরেকটা রেডি করতে বলি।’ এত ব্যস্ততার মধ্যে আমি তাঁর নম্বর নিতে পারিনি। ওই সময়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। কিন্তু আমি তাঁকে জানাতে পারিনি যে, তাঁর ওই কাজটা কতটা মন ছুঁয়ে গেছে আমার। মানুষটার চেহারাটাও মনে নেই। তখন আমার এমন অবস্থা, কোন পথ দিয়ে আমি ওখানে গেছি, তাই-ই তো খেয়াল নেই। ওই সময়ে আমার মনে হয়েছে, আমরা যে বলি ভালো মানুষের সংখ্যা কম, এটা ভুল কথা। মানুষ ভালো কাজ করছে না, এটাও ভুল কথা। তা না হলে এই বিশ্ব বা একটা দেশ এভাবে চলতে পারত না। অনেক মানুষ ভালো ভালো কাজ করছে। আমরা আসলে মানুষের সঙ্গে সেভাবে মিশি না বলে বুঝি না। ওই মানুষটারও তো কেউ অসুস্থ ছিল। আমাকে প্লাজমা দেওয়ার ঝুঁকি তিনি না-ও নিতে পারতেন। কোনো কিছু না ভেবেই তিনি দিয়ে দিয়েছেন। তারপর অপারেশন হলো। অপারেশন পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি ছিল না। এরপর তো চিকিৎসকেরা বলেই দিলেন, আমার স্ত্রীর বাঁচার চান্স নেই বললেই চলে। এরপর বউ আমাকে বলছে, আমার কোনো ভুলভাল হয়ে থাকলে মাফ করে দিয়ো। ওই সময়টা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়। তার আগ পর্যন্ত স্ত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অত গভীরভাবে ভাবতে পারিনি আমি। তখন মনে হলো, এই মানুষটা মরে যাবে, চলে যাবে! ওপরওয়ালা ঠিকই বাঁচিয়ে দিয়েছে। ওটা আমার জীবনে আরেকটা বড় টার্নিং পয়েন্ট।

হাসপাতাল থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় আসার পরে প্রথমে ভাবছিলাম, অপারেশন আর করাব কি করাব না। অপারেশন করালাম, তবে এ সময় মাসখানেক আমি কোনো রিহ্যাব-টিহ্যাবে (পুনর্বাসন প্রক্রিয়া) যাইনি। বাসায় বসে থাকতাম। ভাবতাম, আর খেলে কী হবে! তারপর একপর্যায়ে মনে হলো, জীবনে তো সবই দেখে ফেলেছি। হয়তো বিশ্বকাপ খেলতে পারিনি। কিন্তু বিশ্বকাপে যদি খেলতাম, তাহলে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলতাম। কারণ, যেদিন আমার বউয়ের জীবন নিয়ে টানাটানি, সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ম্যাচ ছিল। তার আগের দিন সারা রাত হাসপাতালে থেকে স্যালাইন দিয়েও ওর জন্ডিসটা ৭ থেকে ১২-তে চলে গেছে। ওটা যদি আরও বেড়ে যেত, তাহলে অপারেশন করারই সুযোগ থাকত না। আর ওর জন্ডিস ধরা পড়ার ঘটনাটাও মনে রাখার মতো। সন্তানসম্ভবা অবস্থায় আমার স্ত্রীর খুব বমি আসত। সূর্যের আলো সহ্য করতে পারত না। দিনের বেলায়ও সমস্ত ঘর অন্ধকার করে রাখত, থাকত অন্ধকার ঘরে। আম্মা তখন আমার ঢাকার বাসায় ছিলেন। একদিন তিনি জোর করে ঘরের পর্দা সরিয়ে দেখেন, পুরো হলুদ হয়ে গেছে আমার বউ। অন্ধকারের মধ্যে তো কেউ বুঝত না। ওদিকে বিশ্বকাপ দলে না থাকায় আমার মনমেজাজ তখন ভীষণ খারাপ। ফলে আমাকে কেউ কিছু বলত না—না স্ত্রী, না আম্মা। ওরা ওদের মতো থাকত। একসময় আম্মা যখন দেখলেন এই অবস্থা, আমাকে বললেন, তুই তাড়াতাড়ি ওকে হাসপাতালে নিয়ে যা।

তো, ওই সময় বিশ্বকাপ খেললে আমি দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ম্যাচ নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম। এদিকে ১০-১৫ দিন ধরে আমার স্ত্রীর যে শরীর খারাপ, সেটা সে কাউকে বলেনি। হয়তো অনুভবও করতে পারেনি সেভাবে। তাই এই দিনও  হয়তো ভাবত আর দশটা দিনের মতো। অথচ আর একটু দেরি হলেই ওকে হারিয়ে ফেলতাম আমি। ফলে ভাবলাম, আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। যা হয়েছে, ভালোর জন্যই হয়েছে। পরের দিন থেকেই আমি পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করে দিই। ভাবি যে, আমি খেলব এবং খেলার মতোই খেলব।

অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট ম্যাচে আবারও হাঁটুর বিদ্রোহ। সেন্ট ভিনসেন্ট, ২০০৯

শুভ্র: খেলার প্রতি আপনার প্রচণ্ড ভালোবাসা অনুমান করতে পারি। না হলে এত কষ্ট করে এতবার ফিরে আসতে পারতেন না আপনি। কখনো কি এটা ভেবে ভয় লাগে যে, খেলা ছাড়ার পর কী করব? 

মাশরাফি: না, একদমই ভয় লাগে না। একদমই না। একটা জিনিস শুধু চাই, যত দিন খেলি, যেন মনের আনন্দে খেলতে পারি। যেটা এখনো খেলছি, মনের আনন্দ না থাকলে এটা যেন আমি জোর করে না খেলি। এ রকম যেন না হয়, আমি আল্লাহর কাছে এটাই চাই।

শুভ্র: আপনার কাছে কি ক্রিকেট খেলাই সবচেয়ে আনন্দের? 

মাশরাফি: বলতে পারেন। আমার বাচ্চাকাচ্চার সঙ্গে সময় কাটানোটা আলাদা ব্যাপার। ওর সঙ্গে আমি ক্রিকেটের তুলনা করব না। ওটা পুরো ভিন্ন ব্যাপার। এমনি যদি বলেন, আমার সবচেয়ে আনন্দ কী? আমি সব সময় মাঠে আনন্দ পাই। এই যে ধরেন ঢাকা লিগ, আমি খেলে এত মজা পাই! কী জন্য? কারণ, সবার সঙ্গে দেখা হয়। সবার সঙ্গে মিলেমিশে গল্প, কথা। এটা তো আমি খেলা ছাড়লে পাব না। অনেকে আছে, খেলা ছেড়ে দিয়ে ক্রিকেট বোর্ডে বা অন্য কোথায় যেতে চায়। আমি চাই না। আমি আরও খেলতে চাই। ঢাকা লিগ খেলব। সবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হবে। শুধু এই কারণে। না টাকা, না কোনো কিছু। এসব কিছু না।

শুভ্র: মানুষ তো আর টাকা হবে বা নাম হবে—এসব ভেবে খেলা শুরু করে না। কিন্তু একটা সময় চাপটাপ সব মিলিয়ে যে কারণে খেলতে শুরু করেছিল, সেটাই ভুলে যায়। আপনি খেলার প্রতি এই ভালোবাসাটা সারা জীবন ধরে রাখলেন কীভাবে? 

মাশরাফি:  এটা আমার সব সময়ই ছিল। আমার জীবনে অনেক কঠিন সময় গেছে। যেমন ধরেন, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্ট ম্যাচে কোনো উইকেট পাইনি। ওই যে শাহাদাত (শাহাদাত হোসেন) যেটাতে খুব ভালো বোলিং করছিল (২০০৮)। তারপর আমাকে প্রথম ওয়ানডেতে বাদ দেওয়া হলো। আমি ওটা মেনে নিয়েছি। কিন্তু অন্যভাবে যদি আপনি ভাবেন, আমার রেকর্ড অনুযায়ী ওয়ানডে দল থেকে আমি বাদ পড়ি না। তারপরও যে আমাকে বাদ দিয়েছে, মেনে নিয়েছি। কিন্তু আমার কষ্ট লেগেছে। ওটা তো লাগবেই। স্বাভাবিক। যে–কারোরই বাদ পড়লে খারাপ লাগে। আবার বাস্তবতা মেনে নেওয়াটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা মানুষকে অনেক সাহায্য করে। যখন আপনি বাস্তবতা মেনে নেবেন, তখন যুদ্ধ করতে পারবেন। আর যদি মেনে নিতে না পারেন, আপনি ওই আঘাতেই হারিয়ে যাবেন। আমি মেনে নিয়েছি সবকিছুই। বলতে পারেন ওটাও আমার জীবনে একটা টার্নিং পয়েন্ট। নিজেকে বলেছি—ঠিক আছে, এটাও জীবন।

শুভ্র: ওয়ানডে থেকে বাদ পড়ার পর আপনার হোটেল ছেড়ে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক হয়েছিল। সবার ধারণা ছিল, আপনি রাগ করে চলে গেছেন। কারণ, ওই সময়ে টিমের মধ্যে পরিবেশটা আপনার জন্য খুব একটা প্রীতিকর ছিল না।  

মাশরাফি: না, এটা হয়তো–বা ছিল না।

শুভ্র: পরে যখন অধিনায়ক হলেন, তখন তো মনে হতেই পারত, এবার আমার সুযোগ এসেছে। আমার সঙ্গে যারা খারাপ কিছু করেছে, তাদের সেটা ফিরিয়ে দেব। কিন্তু আমি জানি, আপনি তেমন কিছু করেননি। নিজেকে কীভাবে সামলালেন? 

মাশরাফি: ও রকম কিছু আমার মাথায়ই আসেনি। এটা আমি প্রায়ই বলি, কারও খারাপ কাজের জবাবে আমিও খারাপ কিছু করলে তার আর আমার ভেতরে তো কোনো পার্থক্য থাকল না। কখনো কোনো কিছুতে প্রতিক্রিয়া দেখাই না আমি। আমার সঙ্গে যে কিছু হয়নি, তা নয়। আমি বলতে পারি, কী কী হয়েছে। কিন্তু আমি বলতে চাই না। কারণ, এটা নিয়ে লেখালেখি হোক, সেটা চাই না। অনেক কিছুই হয়েছে। তবে কখনোই প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। এই যে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলাম, অনেক কিছু তো আমিও বলতে পারি। সবাই সবার মতো বলছে। অথচ আমি একটা কথাও বলছি না। আমি ভাই আমার মনের খুশিতেই গেছি। আমার প্রতিক্রিয়া আলাদা। আমার সঙ্গে কেউ কিছু অন্যায় করলে ওটা যে আমার মনে থেকে যায়, তা-ও না।

শুভ্র: এটা কীভাবে পারেন?   

মাশরাফি: আমি বিশ্বাস করি, আপনার ভালো কাজের প্রতিদান আপনি পাবেনই। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, আপনি যদি ঠিক কাজ করে যান, নিজের অন্তরকে বুঝ দেওয়া যায় যে, আমি অন্যায় কিছু করিনি। আপনি যখন জানবেন, অন্যায় কিছু করেননি, তখন আরেকজন যদি আপনাকে হাজারো অপবাদ দিয়ে যায়, তাতে কিছুই আসে–যায় না। আমার কাছেও ওটা কোনো বিষয় নয়। আপনি হয়তো আমাকে জিজ্ঞেস করবেন, হাজারো মানুষ হয়তো বলবে, মাশরাফি ওটা করেছে। কিন্তু ওপরওয়ালা তো দেখছেন। আমিও নিজের কাছে পরিষ্কার। আমি যদি নিজের কাছে অপরিষ্কার হই আর হাজার মানুষের কাছে পরিষ্কার হই, লাভ কী? কোনো লাভ নেই। আমার ব্যক্তিগত এমনও বন্ধু আছে, এখন বন্ধুই বলব, তারা হয়তো এখন আমার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু; আমার সঙ্গে অনেক অন্যায় করেছে। তো, আমি তাদের সব সময় বেশি কাছে রাখতাম। তুই কত করবি? কর, কোনো সমস্যা নেই। আমি যাতে শান্তি পাই, তা–ই করি। আমি ওদের উপকার করে শান্তি পাই। ওদের ক্ষতি না করে শান্তি পাই বা ওদের বিপদে কাছে থেকে শান্তি পাই। একজন কিছু করেছে আর আমাকে তার জবাব দিতে হবে, এই জিনিসটা আমার একদমই নেই।

চলবে...

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×