এক টেস্টে ১৯ উইকেট

চির অম্লান জিম লেকারের যে রেকর্ড

উৎপল শুভ্র

৩১ জুলাই ২০২১

চির অম্লান জিম লেকারের যে রেকর্ড

ইনিংসের ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তিতে অনিল কুম্বলে তাঁর পাশে বসেছেন, কিন্তু এটা তো ১৯৫৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে জিম লেকারের কীর্তির অর্ধেক। প্রথম ইনিংসেও ৯ উইকেট। এক টেস্টে ১৯ উইকেটের এই রেকর্ড এখনো অম্লান। হয়তো ব্র্যাডম্যানের ব্যাটিং গড়ের মতো চির অম্লানই।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে জিম লেকারের কীর্তির ৪৩ বছর পর অনিল কুম্বলে তাঁর পাশে বসেছেন ঠিকই, তবে লেকারের রেকর্ড আসলে ভাঙবে না কোনোদিনই । হ্যাঁ, এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটিতে লেকার আর কুম্বলে দুজনেরই সমান অধিকার। কিন্তু ১৯৫৬ সালের জুলাইয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের ১০টি উইকেটেই তো লেকারের কীর্তির শেষ নয়। বরং বলা যেতে পারে কীর্তির অর্ধেক। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসেও যে ১০ উইকেটের মাত্র একটিই পাননি লেকার। এক টেস্টে ১৯ উইকেটের এই রেকর্ডটিকে চিরজীবী বলে মোটামুটি মেনে নিয়েছেন সবাই। 'কোনোদিন ভাঙবে না'...এমন রেকর্ডের তালিকায় ব্র্যাডম্যানের ৯৯.৯৪ ব্যাটিং গড়ের পাশেই বোধ হয় রাখা যায় এটিকে।

১৯৯৯ সালে দিল্লি টেস্টের আগ পর্যন্ত ইনিংসের ১০টি উইকেটই নিয়ে নেওয়ার রেকর্ডটিকেও অবশ্য এমনই মনে করা হতো। পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ১০টি উইকেটই নিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেন অনিল কুম্বলে। এই সম্ভাবনা কিন্তু এরপরও জেগেছে। ২০০২ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যান্ডি টেস্টে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের প্রথম ৯টি উইকেট নিয়ে নিয়েছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। তাঁকে দশম উইকেটটি দিতে পুরো শ্রীলঙ্কা দল আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। ক্যাচ না পড়লে তা হয়েও যেত। শেষ পর্যন্ত হয়নি শেষ ব্যাটসম্যান হেনরি ওলোঙ্গা উইকেট নিতে না চাওয়ার পরও চামিন্ডা ভাসকে উইকেটটি দিয়ে আসায়।

মুরালিধরন এর আগেও একবার ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়েছেন। ১৯৯৮ সালে ওভালে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কার আর কোনো বোলার উইকেটও পাননি। একটিমাত্র উইকেট মুরালির হাত ফসকে যাওয়ার কারণ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট রান আউট হয়ে গিয়েছিলেন।   

টেস্টে দুই বার ইনিংসে ৯ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড মুরালিধরনের। তবে জিম লেকারের ম্যাচে ১৯ উইকেটের রেকর্ডটি হুমকির মুখে পড়েনি কখনো।

লেকারের ওই অতিমানবীয় কীর্তির আগে এক টেস্টে সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ড পেস বোলার সিডনি বার্নসের। ১৯১৩-১৪ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে জোহানেসবার্গ টেস্টে বার্নসের সেই পারফরম্যান্স, ১৫৭ রানে ১৭ উইকেট এখনো টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সেরা। লেকারের রেকর্ডের পর গত ৬৫ বছরে বব ম্যাসি, নরেন্দ্র হিরওয়ানি আর মুত্তিয়া মুরালিধরনই যেতে পেরেছেন তাঁর সবচেয়ে কাছাকাছি। তবে এই তিনজনকেও থামতে হয়েছে ৩ উইকেট পেছনেই।

১৯ উইকেট নিলে ২০তম উইকেটটিরও প্রত্যাশা জাগতেই পারে। তবে জিম লেকারকে ২০তম উইকেটটির প্রতীক্ষায় সময় কাটাতে হয়নি। প্রথম ইনিংসের তৃতীয় উইকেটটি তিনি পাননি, তখন তো আর তা নিয়ে লেকারের আক্ষেপ করার প্রশ্নই আসে না। এরপর যে সব উইকেটই তাঁর, এটি কি আর তখন জানতেন নাকি! 

জিম লেকার

জানতেন না টনি লকও। যে ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্ট অমর করে রেখেছে লেকারকে, সেটিই লকের জন্য পুরো বিপরীত এক স্মৃতি । প্রথম ইনিংসে লেকার বল করেছিলেন ১৬.৪ ওভার, লক ১৪। দ্বিতীয় ইনিংসে বল করেছেন লেকারের চেয়েও বেশি (লেকার ৫১.২ ওভার, লক ৫৫)। অথচ সেই যে প্রথম ইনিংসে জিম বার্ককে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় উইকেটটি ফেলেছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার, এরপর তাঁর শুধুই মাথা কুটে মরা। অথচ ৪৯ টেস্টে ১৭৪ উইকেট নেয়া লকও তো খারাপ বোলার ছিলেন না। ওই টেস্টের বেশ কয়েক বছর পর লক ওই ব্যর্থতার একটা কারণ ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। বলেছিলেন, অন্য প্রান্তে লেকারের একের পর এক উইকেট নেওয়া এবং ক্রমাগত নিজের ব্যর্থতায় ক্রমশই উত্তেজিত আর উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলেন। এটাই তাঁর বোলিংয়ের ছন্দে ছায়া ফেলে এবং উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা আরও কমিয়ে দেয়। জিম লেকারও তাঁর আত্মজীবনীতে স্পিন পার্টনারের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে বলেছেন একই কথা। অবিশ্বাস্যই বলতে হবে, যে ম্যাচে লেকারের বোলিং ফিগার ৬৮-২৭-৯০-১৯, তাতেই লকের নামের পাশে ৬৯-৩৩-১০৭-১! 

জিম লেকারের নামে বেশ কটি বই আছে। এর মধ্যে 'ওভার টু মি' বইটাকেই তাঁর আত্মজীবনী ধরে নেওয়া ভালো। 'ক্রিকেট কনস্ট্রাস্টস্' নামে আরেকটা যে বই লিখেছেন, তার বেশির ভাগ জুড়ে বিভিন্ন যুগের একই ধরনের ক্রিকেটারদের তুলনা। তবে বইয়ের নামটা কিন্তু ওল্ড ট্রাফোর্ডে লেকার আর লকের পারফরম্যান্সের সঙ্গে খুব ভালো যায়। ১৯ উইকেটের ওই ম্যাচের আগে-পরের কথাও আছে এতে। যেখানে লেকার লিখেছেন, এই ম্যাচটা আরও দশ লক্ষবার খেলা হলেও তাঁর আর লকের উইকেটের কলাম এমন হওয়ার কথা নয়।

লন্ডনের 'দ্য টেলিগ্রাফ' পত্রিকা শুরু থেকে এ পর্যন্ত তাদের পত্রিকায় ছাপা হওয়া উল্লেখযোগ্য সব ক্রিকেট রিপোর্ট নিয়ে 'দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, ক্রনিকল অফ ক্রিকেট' নামে যে চমৎকার একটি বই বের করেছে, তাতে এই ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের রিপোর্টে খুব ইন্টারেস্টিং কিছু তথ্য পাওয়া যায়। দ্বিতীয় দিনের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে প্রথম সাফল্য পাওয়ার আগে সারের দুই স্পিনারকে ১৮ ওভার অপেক্ষা করতে হয়। তবে শেষটা হয়েছিল নাটকীয়। ৩ উইকেটে ৬২ থেকে ৮৪ রানে অলআউট অস্ট্রেলিয়া, মাত্র ২২ বলের মধ্যে ৮ রান দিয়ে শেষ ৮টি উইকেট লেকারের।

অথচ এর আগে ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংসে করেছিল ৪৫৯ রান, যদিও অস্ট্রেলিয়া দলেও ছিলেন দুজন স্পিনার— লেগ স্পিনার রিচি বেনো ও অফ স্পিনার ইয়ান জনসন। ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের ১০ বছর পর ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত 'দ্য ক্রিকেটার’ পত্রিকায় জিম লেকার লিখেছিলেন ওই টেস্ট নিয়ে। তাতে বেনো-জনসনের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৪৫৬ রান করার রহস্য সম্পর্কে বলেছিলেন, 'আমাদের এত বেশি রান পাওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু এই উইকেটে কীভাবে বল করতে হয়, অস্ট্রেলীয়রা তা জানত না । ইয়ান জনসন এই দেশে (ইংল্যান্ডে) কখনোই ভালো বল করেনি। তার বোলিংয়ে সেই বৈচিত্র্যই ছিল না। ওর সাফল্যের জন্য শক্ত উইকেট ছিল জরুরি। জনসনের বলে ফ্লাইট ছিল, কিন্তু বাউন্স না পেলে তাঁর পক্ষে সফল হওয়া ছিল কঠিন। কিন্তু ইংল্যান্ডে সাফল্য পেতে হলে সব ধরনের উইকেটেই বোলিং করতে জানতে হবে—পুরো সবুজ, শক্ত, ভেজা, ক্রমশ ভেঙে যাওয়া, স্লো টার্নার, বেশি বাউন্সি এবং কখনো ভালো উইকেটেও !' লেকার যে তা জানতেন, পরিসংখ্যানই তার প্রমাণ।

ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের পরও হয়তো এমন `টোস্ট` করেছেন, তবে জিম লেকারের এই ছবিটা ওই টেস্টের নয়। ছবি: পিএ ফটোস

সেই টেস্টের মাঝখানে বৃষ্টি বেশ উৎপাত করেছিল। লেকারের লেখা থেকেই জানা যাচ্ছে, শেষ দিনে ৮ উইকেট হাতে নিয়ে যখন আবার ব্যাট করতে শুরু করে ফলোঅন করতে নামা অস্ট্রেলিয়া, তখন উইকেট ছিল একেবারেই ব্যাটিং-স্বর্গ। কিন্তু হঠাৎই তা বদলে যায়। লেকারের লেখা থেকেই তুলে দিই, 'লাঞ্চের পর হঠাৎ করেই বেরিয়ে এলো সূর্য এবং বেরিয়ে এসেই তা যেন আগুন ছড়াতে শুরু করল। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই জেগে উঠতে শুরু করল উইকেট, আমরাও ওদের আউট করতে শুরু করলাম।'

লেকার 'আমরা' শব্দটি ব্যবহার করেছেন বিনয়বশত। 'ওদের' আউট তো করেছেন তিনি একাই। লেকারের সেই 'অল-টেন' পারফরম্যান্স দেখে দ্য টেলিগ্রাফে বিখ্যাত ক্রিকেট লেখক ই.ডব্লিউ. সোয়ানটন কী লিখেছিলেন, দেখা যাক: 'তাঁর (লেকারের) প্রথম ইনিংসের পারফরম্যান্সই যথেষ্ট চমকপ্রদ, তবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং উইকেটের অবস্থা নিয়ে কথাবার্তায় এর মহিমায় কিছুটা হলেও ছায়া পড়েছিল। কিন্তু আজ তাঁর বোলিং নিয়ে কোনো কিছুই বলার সুযোগ নেই। নতুন বলের সময়টুকু বাদ দিলে প্রায় একটানা ৩৬ ওভার বল করেছেন, সব সময় স্টাম্প আক্রমণ করে খেলতে বাধ্য করেছেন ব্যাটসম্যানদের। লেংথ বা লক্ষ্য থেকে একটুও বিচ্যুত হননি। তারপরও তাঁর বোলিংকে যান্ত্রিক বলা যাবে না। প্রতিটি বলই ব্যাটসম্যানকে দাঁড় করিয়েছে ভিন্ন সমস্যার সামনে । এক মুহূর্তের জন্যও শ্বাস ফেলার সময় নেননি লেকার, সে সময় পায়নি প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানরাও। এর সঙ্গে আরেকটা ব্যাপার একটুও কম লক্ষণীয় নয় যে, এক প্রান্তে লেকার যখন ক্রমশ খ্যাতির নতুন উচ্চতায় উঠছেন, তখন অন্য প্রান্তে ঈর্ষান্বিত এবং নিষ্ফলভাবে মাথা কুটে মরছেন লক। যে উইকেটে একজন বিখ্যাত ক্রিকেটার ১৯ উইকেট নিয়েছেন, তাঁর মতোই সফল ও মারাত্মক অন্যজন ৬৯ ওভারে ১০৭ রানে পেয়েছেন ১ উইকেট। এক দিক দিয়ে এই দুজনের ফিগারের তুলনাই লেকারের পারফরম্যান্সের গ্রেটনেসের তর্কাতীত প্রমাণ। যদি উইকেট ব্যাটসম্যানের জন্য কবরস্থান হতো, তাহলে এটা সম্ভব নয় যে, লক তার সেরা ফর্মে না থেকেও, এমনকি তাঁর অন্য হাত শরীরের সঙ্গে বাঁধা অবস্থাতেও এক উইকেটের বেশি পেতেন না।'

সোয়ানটনের রিপোর্ট থেকেই পরিষ্কার, লেকারের ওই পারফরম্যান্স 'ফ্লুক' ছিল না। তবে এটাও তো সত্যি, ভাগ্যের অকৃপণ সহায়তা না পেলে ভালো বোলিংই শুধু ১০ উইকেট নেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না (লেকার নিজেই লিখেছেন, 'আমি কখনোই কোনো রেকর্ড বা ১০ উইকেট নিয়ে ভাবিনি৷ অন্য প্রান্তে টনি যেখানে তাঁর সাধ্যমতো চেষ্টা করছে, সেখানে ১০ উইকেটের সব কটি নেয়ার কথা আপনি ভাববেন কীভাবে?”), তবে তখন ৩৪ বছর বয়সী লেকার অমন একটা রেকর্ডের অধিকার পাওয়ার মতোই ফর্মে ছিলেন। ৪৬ টেস্টে ২১.২৪ গড়ে ১৯৩ উইকেট—এই রেকর্ডই অসাধারণ এক অফ স্পিনার হিসেবে চিনিয়ে দেয় তাঁকে। তার ওপর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৬৫৬ সালের ওই সামারে লেকার ছিলেন রীতিমতো বিধ্বংসী। ৫ টেস্টের সিরিজে উইকেট নিয়েছিলেন ৪৬টি। সেটিও মাত্র ৯.৬০ গড়ে। টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো সিরিজ এভাবে শুধুই একজন স্পিনারের কীর্তিধন্য হয়ে নেই।

লেকারের নিজের কাছেই তাঁর ১৯ উইকেট পাওয়ার চেয়েও বড় বিস্ময় স্পিন পার্টনার টনি লকের মাত্র ১ উইকেট পাওয়াওল্ড ট্রাফোর্ডে লেকারের সাফল্যের মতোই বিস্ময় জাগায় লকের ব্যর্থতা। লেকারও তাঁর স্মৃতিচারণমূলক লেখাটি শেষ করেছিলেন এ দিয়েই, 'কী ঘটে গেলো, দু'তিন দিন তা আমাকে তেমন নাড়া দেয়নি। এরপর যখন এ নিয়ে ভেবেছি, ১৯ উইকেট পেয়েছিলাম এটা ভেবে আমি যতটা অবাক হয়েছি, তার চেয়ে বেশি টনি ১ উইকেট পেয়েছিল ভেবে!”

মজার ব্যাপার হলো, ওল্ড ট্রাফোর্ডে লেকারের অল-টেন কৃতিত্ব, তাঁর বোলিংয়ে অস্ট্রেলীয় ব্যাটসম্যানদের নাকের জল চোখের জল এক হওয়া এবং টনি লকের ক্রমশ পাহাড় প্রমাণ হতাশায় ডুবে যাওয়া..এই সব কিছুরই ড্রেস রিহার্সাল হয়েছিল এর মাস দুয়েক আগে। ওভালে সারের বিপক্ষে ট্যুর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১০টি উইকেটই ছিল লেকারের। একটানা ৪৬ ওভার বোলিং করে (যার ১৮টি ছিল মেডেন) ৮৮ রানে লেকারের ওই ১০ উইকেট। সেবারও অন্য প্রান্তে টনি লক হতাশার প্রতিমূর্তি, ৩৩ ওভারে ১০০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য! 

দ্য টেলিগ্রাফ-এর ম্যাচ রিপোর্ট থেকেই জানা যাচ্ছে, চা-বিরতি পর্যন্ত ৪ উইকেট নেওয়া লেকার আর বোলিংই করতে চাইছিলেন না। সারে অধিনায়ক টুয়ার্ট সানরিজকে বলেও ছিলেন, 'আমি ক্লান্ত। আমাকে বিশ্রাম দিন।' কিন্তু সানরিজ অনুরোধ রাখেননি। 'নো, জিম। অস্ট্রেলিয়ার এই ইনিংসে তোমার জন্য আরও উইকেট আছে'—এ কথা বলার জন্য পরে নিশ্চয়ই সানরিজের কাছে লেকারের কৃতজ্ঞতার শেষ ছিল না।

সানরিজ লেকারের পারফরম্যান্সকে বর্ণনা করেছিলেন এই বলে, 'আমার দেখা সবচেয়ে অসাধারণ অফ স্পিন বোলিং।' সেই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য ৪৯ রানে ৭ উইকেট নিয়ে লকই সারের সফলতম বোলার। ৪২ রানে ২ উইকেট লেকারের, এই স্পিন টুইনের পারফরম্যান্সে ৪৪ বছরের মধ্যে প্রথম কাউন্টি দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল সারে। 'অল-টেন' বা ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব কিন্তু লকেরও আছে। ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের মাত্র দিন পনেরো আগেই কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে কেন্টের দ্বিতীয় ইনিংসের সব কটি উইকেট নিয়েছিলেন লক। সে ম্যাচে অবশ্য লেকার খেলেননি।

জিম লেকারের এক টেস্টে ১৯ উইকেটের রেকর্ড এখনো অম্লান। হয়তো চির অম্লানই থাকবে। ইনিংসের ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও শুধুই তাঁর, চিরদিনের জন্য দুই চোখ বোজার সময় এটাই জেনে গেছেন জিম লেকার। তাঁর মৃত্যুর ১৩ বছর পর না অনিল কুম্বলের ওই কোটলা-বীরত্ব! 

সম্পর্কিত বিষয়:

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×