জিম্বাবুয়ে সফরনামা

কে বলেছে, ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়!

উৎপল শুভ্র

১ জুলাই ২০২১

কে বলেছে, ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়!

২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে প্রথম ট্যুরে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাঈমুর রহমানের সঙ্গে। মাঝে সাংবাদিক সাইদুজ্জামান। জিম্বাবুয়েতে ওই একটা ট্যুরেই নির্বিঘ্নে যেতে পেরেছিলাম। ছবি: শা. হ. টেংকু

আট বছর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল আবার জিম্বাবুয়েতে গেছে। যা জাগিয়ে তুলেছে জিম্বাবুয়েতে আমার চারটি ট্যুরের স্মৃতি। যার শেষ তিনটিতেই যাওয়ার পথে অশেষ ভোগান্তি। মাঝের দুবার তো যা ছিল রীতিমতো দুঃস্বপ্ন।

ন্যাড়া নাকি একবারই বেলতলায় যায়! আমি তো তিন-তিনবার গিয়েছি। আগের দুবারই মাথায় ‘বেল’ পড়ার পরও তৃতীয়বার ‘বেল’ পড়েছে। পার্থক্য বলতে, মাথার বদলে কাঁধে!

হেঁয়ালি মনে হচ্ছে? তাহলে ঘটনাটা খুলেই বলি। বাংলাদেশে জিম্বাবুয়ের কোনো দূতাবাস নেই। ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসাই তাই ভরসা। ২০১১ সালে সর্বশেষবার জিম্বাবুয়ে ট্যুর করার আগেই সেই দেশে তিনবার ঘুরে এসেছি। ২০০১ সালে, প্রথমবারই শুধু কোনো সমস্যা হয়নি। ২০০৪ ও ২০০৭—পরের দুবারই মহা সমস্যা। প্রথমবার আটকা পড়েছি জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে। পরের বার দোহায়। ওই দুই অভিজ্ঞতার পর ২০১১ সালেও প্রায় একই রকম সমস্যায় পড়াটাকে বোকামি বলবেন তো? সিদ্ধান্তটা না হয় পুরোটা শোনার পরই নিন। ২০১১-তে পরে আসি, এর আগে প্রথম দুবার 'বেলতলায়' যাওয়ার কাহিনিটা শুনে নিলে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে।

২০০১ সালের অভিজ্ঞতার ভরসায় ২০০৪ সালে বীরদর্পে একাই রওনা দিয়েছি। জো’বার্গ থেকে হারারের বিমানের বোর্ডিং পাস নিতে গিয়ে আটকে দিল ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ। যতই বলি, তিন বছর আগেই ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা নিয়ে জিম্বাবুয়ে ঘুরে এসেছি, পাথুরে মুখের তরুণীর একটাই কথা—আগের কথা বাদ দাও। তোমাকে যে ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা দেওয়া হবে, জিম্বাবুইয়ান ইমিগ্রেশন থেকে এই চিঠি ছাড়া বিমানে উঠতে পারবে না। আমি রীতিমতো তর্ক জুড়ে দিয়েছি। বাংলাদেশের ক্রিকেট সিরিজ কাভার করতে যাচ্ছি, জিম্বাবুয়ের ভিসা না পাওয়ার কোনোই কারণ নেই। হারারেতে নেমেই তা পেয়ে যাব। কোনো কথাতেই কাজ হলো না। ওই তরুণীর বসের সঙ্গে কথা বলেও না।

দুজনের একটাই কথা। ভিসা ছাড়া হারারের বিমানে উঠতে না দেওয়ার নির্দেশ আছে। পরে জেনেছি, ইংল্যান্ডের সঙ্গে তখন মুগাবে সরকারের বিরাট ঝামেলা চলছে বলে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ বেশি সাবধানী। ওদের বিমানে ভিসা ছাড়া হারারতে নামলে সেই যাত্রীকে ফিরতি ফ্লাইটে তুলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সঙ্গে জরিমানাও দিতে হয়েছে এয়ারলাইন্সকে।

তখন তো আর এত সব জানি না। ভেবেছি, শেষ পর্যন্ত প্লেনে উঠতে না দিয়ে যাবে কই! কিন্তু অনেক তর্কাতর্কি করেও লাভ হলো না। বিমানে উঠতে পারলাম না তো পারলামই না। এখন কী করি? মাথা রীতিমতো চক্কর দিচ্ছে। আজকের ফ্লাইট তো চলেই গেছে, ভিসার ব্যবস্থা না করতে পারলে পরের দিনেরটাও তো আমাকে টা-টা দিয়ে চলে যাবে। এখান থেকে ভিসার ব্যবস্থাই কী হবে? তাহলে কি ঢাকায় ফিরে যাওয়াই ভবিতব্য?

একে-ওকে জিজ্ঞেস করে জো'বার্গে এয়ারপোর্টে টাকা দিয়ে টেলিফোন করার বড় একটা দোকান খুঁজে বের করলাম। সেখান থেকে ঢাকায় ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের ফোন করলাম। ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ে ট্যুরের ম্যানেজার মাহবুব আনাম ব্যাপারটা ভালো বুঝবেন বলে প্রথমে সম্ভবত তাঁকেই। তিনি সমস্যাটা বুঝলেন, কিন্তু তা সমাধানের পথ নির্দেশের পরিবর্তে আমাকে বোঝাতে শুরু করলেন, আগেরবার 'অন অ্যারাইভাল' ভিসা'য় জিম্বাবুয়েতে যেতে পারলেও এবার খোঁজখবর না নিয়ে এভাবে আসাটা আমার ঠিক হয়নি। যেন আমি তা তখনো বুঝতে পারিনি।

বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তখন রিয়াজউদ্দিন আল মামুন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে অবশ্য মনটা একটু শান্ত হলো। তাৎক্ষণিক সমাধান তিনিও দিতে পারেননি। তবে সেই মুহূর্তে প্রথম যা করণীয়, আমাকে তা-ই করতে বলেছেন। 'আপনি মাথা ঠাণ্ডা রাখুন। বেশি টেনশন করবেন না। আমি দেখি, কী করা যায়!' এই কথাটাই তখন অনেক বড় স্বস্তি। 

এটাও ২০০১ সালের জিম্বাবুয়েতে প্রথম ট্যুরের ছবি

নিজেকে দুর্ভাগা ভেবে ভাগ্যকে শাপশাপান্ত করে ওই টেলিফোন বুথ থেকে বেরিয়েছি, হঠাৎই একটু দূরে দীর্ঘদেহী স্যুটেড-বুটেড এক ভদ্রলোককে দেখে মনে হলো, অদ্ভুত তো! লোকটা দেখতে একেবারে মকবুল হোসেন দুদিয়ার মতো। দুজন আরেকটু কাছাকাছি হতেই অবাক হয়ে আবিষ্কার করলাম,  মকবুল হোসেন দুদিয়াই। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী। ওই পরিস্থিতিতে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটা হলো, দুদিয়া জিম্বাবুইয়ান। তিনি নিশ্চয়ই একটা সমাধান করতে পারবেন।

একটু আগে ভাগ্য শাপশাপান্ত করছিলাম, এখন তাকে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছা করল। কেপটাউনে আইসিসির কী একটা মিটিং করে ঢাকায় ফিরছিলেন দুদিয়া, তাঁর সঙ্গে এভাবে দেখা হয়ে যাওয়াটা সৌভাগ্য ছাড়া আর কি! আমাকে সঙ্গে নিয়ে দুদিয়া আবার সেই টেলিফোন বুথে। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট ইউনিয়নের কার সঙ্গে যেন কথা বললেন। জো'বার্গে জিম্বাবুইয়ান দূতাবাসে। কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হওয়ার আগেই ফ্লাইটের 'মিসিং' যাত্রী হিসেবে তাঁর নাম ধরে অ্যানাউন্স করা শুরু হয়ে গেছে। দুদিয়া তাই স্যরি-টরি বলে জো'বার্গের জিম্বাবুইয়ান দূতাবাসের একটা নাম্বার দিয়ে ‘বেস্ট অব লাক’ বলে উঠে গেলেন বিমানে।

আমি উঠতে পারলাম আরও ২৪ ঘণ্টা পর। ওই নম্বরে গোটা দশেক কল, নানা রকম জেরা এবং ট্রানজিট হোটেলে রাত্রিযাপনের পর। পরদিন জিম্বাবুয়ের দূতাবাস থেকে একজন হাতের আঙুলে ভিসার কাগজটা লাগিয়ে বিমানবন্দরে এসে আমার পাসপোর্টে সেঁটে দিলেন। ভদ্রলোক এমনই আন্তরিক যে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এরপরও কোনো ঝামেলা করতে পারে ভেবে আমাকে চেক ইন করিয়ে তারপরই বিদায় নিলেন। মাঝের রাতটা কেমন কেটেছে, সেটির সবিস্তার বর্ণনা আর না-ই দিলাম। শুধু বলি, ঢাকা থেকে দুবাই হয়ে জো'বার্গ পর্যন্ত দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর ওই রকম টেনশনের পর ট্রানজিট হোটেলে আধো ঘুম-আধো জাগরণে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর পর রাতে একটা কিছু খাওয়া দরকার ভেবে বেরিয়ে দেখি, পুরো এয়ারপোর্ট যেন শ্মশানপুরী। আমি তো ভেবেছি, দুবাইয়ের মতো এয়ারপোর্টও দিন নেই, রাত নেই একই রকম গমগম করে। কিসের কি, দোকানপাট সব বন্ধ। শুধু একটা বার খোলা পেলাম। তাতেও শুধু পানীয়ই আছে, খাদ্য নেই। বারটেন্ডার কেনিয়ান তরুণের সঙ্গে কথায় কথায় একটু খাতির হয়ে যাওয়ায় তাঁর রাতের খাবার হিসেবে রেখে দেওয়া একটা স্যান্ডউইচের অর্ধেকটা 'শুভেচ্ছা-উপহার' পাওয়াতে পেটের দাউদাউ আগুনের তীব্রতা সামান্য কমেছিল। 

ন্যাড়া একবারই বেলতলায় যায়, ২০০৪ সালে এই অভিজ্ঞতার পর ২০০৭ সালে পরের ট্যুরে রওনা হওয়ার আগে তাই খুব সাবধান। জিম্বাবুয়ের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসার নিশ্চয়তা-সংবলিত চিঠি ছাড়া রওনা হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু আজ না কাল করতে করতে সেই চিঠি আর এলই না। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে একই ফ্লাইটে যাচ্ছ, একটা কিছু ব্যবস্থা হয়েই যাবে ভরসা করে উঠে গেলাম বিমানে। কিন্তু দোহা থেকে জো’বার্গের বিমানে আর উঠতে পারলাম না। কথা একটাই—ভিসা যে পাবই, সেই কাগজ কই? ব্যস্তসমস্ত হয়ে বিসিবিতে ফোন করি, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডে...এর মধ্যে বিমান ছেড়ে দিল এবং বাংলাদেশ দল দিব্যি চলে গেল। আটকা পড়লাম আমরা বাংলাদেশের দুই সাংবাদিক। আমি আর আমার সাবেক সহকর্মী অঘোর মন্ডল। 

পরের তিনটি ট্যুরই ভুগিয়েছে বলে `শাস্তিস্বরূপ` সেগুলোর ছবি দিচ্ছি না! এটা ২০০১ সালের ট্যুরে বাংলাদেশের সাংবাদিক বহরের। আমরা যখন ভিক্টোরিয়া ফলস দেখতে যাচ্ছিলাম

আগেরবার তাও ট্রানজিট হোটেলে রাত কেটেছিল, এবার বিমানবন্দরেই সারা রাত নির্ঘুম বসে থাকতে হলো। দোহা এয়ারপোর্টে ট্রানজিট হোটেল নেই, অনেক অনুনয়-বিনয় করেও শহরে যাওয়ার অনুমতি পেলাম না। এয়ারপোর্ট লাউন্জে কাটানো সেই রাতের কথা ভাবলে এখনো শরীরে কাঁপুনি ওঠে। হাড় কাঁপানো শীত, কিন্তু গরম কাপড়-চোপড় তো সব লাগেজে দিয়ে দিয়েছি। কাতার এয়ারওয়েজের এক বাঙালি কর্মচারি দয়াপরবশ হয়ে প্লেনে গায়ে দেওয়ার জন্য নামেই কম্বল কিন্তু আসলে একটু মোটা চাদরমতো যা থাকে, তারই একটা দিয়েছিলেন বলে তা-ও একটু রক্ষা। এর মধ্যে ঢাকায়-হারারেতে বেশ কয়েকটা ফোন করতে হলো।

এয়ারলাইন্সের লোকজন একটা ই-মেইল অ্যাড্রেস দিয়ে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, এই মেইলে জিম্বাবুয়ে ইমিগ্রেশন থেকে ভিসার নিশ্চয়তা সম্বলিত চিঠি না আসা পর্যন্ত আমাদেরকে এয়ারপোর্টেই বন্দি থাকতে হবে। উদ্বেগসংকুল সেই বিভীষকাময় রাতটার স্মৃতি কোনোদিনই ভোলার নয়। পরদিন সকালে জিম্বাবুয়ে থেকে দোহায় কাতার এয়ারওয়েজে চিঠি যাওয়ার পরই ওদের সন্দেহভরা দৃষ্টি থেকে ‘মুক্তি’ মিলল। আবারও নির্ধারিত সময়ের ২৪ ঘণ্টা পর হারারেতে পা রাখতে পারলাম।

মজার ব্যাপার (?) হলো, ওই দুবার বাংলাদেশের অন্য সাংবাদিকেরা নির্বিঘ্নেই হারারে পৌঁছে গেছেন। আমার দুর্ভাগ্য নিয়ে হাসাহাসিকে তাই খুব একটা অন্যায় বলতে পারিনি। দুবার ‘বেলতলায়’ এই অভিজ্ঞতার পর ২০০৭ সালে পরের ট্যুরে ওই কাগজ ছাড়া রওনা না হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম। কিন্তু ভাগ্যে থাকলে ঠেকাবে কে! বিসিবির মিডিয়া ম্যানেজারকে ফোনে অবিরত তাগাদা, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডকে ই-মেইলের পর ই-মেইল—তার পরও সেই কাগজ আর হস্তগত হলো না। ‘যা থাকে কপালে’ বলে আবারও রওনা হয়ে গেলাম। এবার দোহায় লম্বা বিরতি। দারুণ একটা হোটেলে খুব ভালো কাটল দিন-রাত। পরদিন সকালে জো’বার্গের প্লেনে উঠতে গিয়ে চার বছর আগের নাটকের পুনরাবৃত্তি।

এবার ঘটনা আরও জটিল। শুধু জিম্বাবুয়ের ভিসাই নয়, কাতার এয়ারওয়েজের নিরাপত্তা বিভাগের লোকজন কম্পিউটার থেকে প্রিন্ট আউট বের করে দেখিয়ে দিলেন, নতুন নিয়ম হয়েছে, জো’বার্গ হয়ে জিম্বাবুয়েতে যেতে হলে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রানজিট ভিসাও লাগবে। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তো ট্রানজিট ভিসা ছাড়াই যাচ্ছে বলে জানি। কাউন্টারের শ্রীলঙ্কান ছেলেটি গম্ভীর মুখে জানাল, ‘কে বলল, যাচ্ছে? ওরাও তো বসে আছে।’ আমার সামনেই ফোন করে আমাদের তিন সাংবাদিকের মতো বাংলাদেশ দলের লাগেজও প্লেন থেকে নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হলো। বিস্ময়ও প্রকাশ করা হলো বারবার—বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম যাচ্ছে, অথচ তাদের আগে কিছুই জানানো হলো না কেন!

ভিক্টোরিয়া ফলসে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে। এটাও ২০০১ ট্যুরের ছবি

প্রশ্নটা তো তখন আমার মনেও জেগেছে। এর চেয়েও বড় প্রশ্ন, দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রানজিট ভিসা লাগবে, বিসিবি এটা জানবে না কেন? আপাতত অবশ্য একটা কথা ভেবে বড় স্বস্তি পেলাম—বাংলাদেশ দলও যখন একই গ্যাঁড়াকলে, আমাদের তিন সাংবাদিকেরও ব্যবস্থা একটা হবেই। অনেক নাটকের পর তা হলোও। দোহায় বাংলাদেশ দূতাবাসে কেউ ফোন ধরে না, দক্ষিণ আফ্রিকান দূতাবাসেও না। ধরবে কীভাবে, এত সকালে অফিসই তো শুরু হয়নি। শেষ পর্যন্ত প্রিটোরিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের চেষ্টায় জো’বার্গ বিমানবন্দরে ট্রানজিট ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বিমানে উঠতে দেওয়া হলো সবাইকে। জো'বার্গ বিমানবন্দরের একটা কোনে অস্থায়ী চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সেই ভিসা লাগিয়ে দেওয়া হলো সবার পাসপোর্টে। জো'বার্গের বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও এসেছেন বাংলাদেশ দলকে উদ্ধার করতে।

হারারেতে নামার পর বাংলাদেশ দল দ্রুতই বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গেল। কিন্তু আমাদের তিন সাংবাদিকের দুর্ভোগ তখনো বাকি ছিল। মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি ছাড়া ইমিগ্রেশন জিম্বাবুয়েতে ঢুকতে দেবে না। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের মহাব্যবস্থাপক লাভমোর বান্ডা কালো মুখ আরও কালো করে একে-ওকে ফোন করতে লাগলেন। এর মধ্যে আমার কিছু ‘ঝাড়ি’ও খেতে হলো বেচারাকে। এত দেশে গেলাম, কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু জিম্বাবুয়ের বেলায়ই বারবার এমন অপদস্থ হওয়া। জিম্বাবুয়েতে আর আসবই না। আমার চিৎকার-চেঁচামেচির চেয়ে জিম্বাবুয়ের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাবের কথা চিন্তা করেই কিনা, শেষ পর্যন্ত এই ‘মহান’ দেশে প্রবেশের অনুমতি মিলল! ততক্ষণে হারারে বিমানবন্দরে আমাদের আরও ঘণ্টা তিনেক কাটানো হয়ে গেছে। হোটেলে ঢোকার পর হিসাব করে দেখলাম, ঢাকার বাসা থেকে বেরিয়েছি প্রায় ৪৫ ঘণ্টা আগে!

বাংলাদেশ দল এরপর আর একবারই জিম্বাবুয়ে সফরে গেছে। ২০১৩ সালের সেই ট্যুরে আমি যাইনি। আট বছর পর আবার বাংলাদেশের আরেকটি জিম্বাবুয়ে ট্যুরের সময় আগের চারটি ট্যুরের স্মৃতি ফিরে ফিরে আসছে মনে। প্রথমটি শুধুই সুখস্মৃতি। পরের তিনটিই অম্ল-মধুর। মাঝের দুটিতে অবশ্য 'মধু'র পরিমাণ খুবই অল্প। জো'বার্গ আর দোহা এয়ারপোর্টে কাটানো ওই দুটি রাতের দুঃস্মৃতি তো অম্ল-ক্ষার-ক্ষারক এই জাতীয় সব শব্দেরই সমার্থক!

শেয়ার করুনঃ
আপনার মন্তব্য
আরও পড়ুন
×